ছাত্র আন্দোলনে অগ্ণিগর্ভ ঢাকা, অস্ত্রের আস্ফালন রক্তাক্ত বহু, দেশব্যাপী বন্ধ মোবাইল ও ইন্টারনেট

মণির হোসেন৷৷ ঢাকা, ৫ আগস্ট৷৷ পথ নিরাপত্তার দাবিতে গত এক সপ্তাহ ধরে ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল ঢাকা শহর৷ ঢাকা ছাড়িয়ে আন্দোলন এখন

ছাত্রদের বিক্ষোভ আন্দোলনে অগ্ণিগর্ভ অবস্থার রূপ নেয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা৷ ছবি নিজস্ব৷

ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের অন্যত্রও৷ বিক্ষোভ দমনের চেষ্টায় রবিবার দেশজুড়ে মোবাইল এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশে সরকার৷ তবে টিভি এবং সংবাদপত্রে আন্দোন কারীদের সমর্থন করেছে জনতা৷ শনিবার ঢাকার জিগাতলায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভে জখম হয় শতাধিক আন্দোলনকারী৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, পুলিশ বিক্ষোভ কারীদের উপর রাবার বুলেট এবং টিয়ার গ্যাস ছোড়ে এবং লার্টিচার্জ করে৷ যদিও পুলিশ এবং শাসক দলআওয়ামি লিগ ছাত্রছাত্রীদের মারধর রবার বলেট ব্যবহারের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে৷ এদিকে শনিবার মধ্যরাতে ঢাকার মহম্মদপুরে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে ভাঙচুর হয়৷ একটি মানবাধিকার সংগঠনের সহ সভাপতি বালিউদল আলম মজুমদারে বিদায় উপলেক্ষ্য দেওয়া নৈশভোজে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মারিয়া বার্নিক্যাট৷ ফেরার পথে তার উপর হামলা হয়৷ গাড়ি লক্ষ্য করে পাথক ছোঁড়ে বিক্ষোভ কারীরা৷ মারিয়ার কোনও ক্ষতি না হলেও তার চালকের চোট লাগে৷ তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে ছাত্ররাই হামলা চালিয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়৷

বাংলাদেশে নিরাপদ  সড়ক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচারের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট পালন কালে আন্দোলন কারী শিক্ষার্থীদের সাথে ছাত্রলিগ ও পুলিশের ত্রিমূখি সংঘর্ষ হয়েছে৷ রবিবার সকাল থেকে বিকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, সিটি কলেজ, মিরপুর, রামপুর ও জিগাতলা এলাকায় দফায় দফায় এ হামলা চলে৷ তবে দুপুরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অষ্টম দিনের আন্দোলনে ক্যাম্পাসে আন্দোলন করলে একদল সন্ত্রাসির হামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত চার শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে৷ এছাড়াও সন্ত্রাসিদের লাঠিসোটার আঘাতে আরও শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে৷ ওই এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে এবং এ সময় ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়৷ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ হামলাকারীরা ছাত্রলিগ যুবলিগের নেতা কর্মী৷ এছাড়াও হামলায় কয়েকজন সাংবদিক আহত হয়েছে৷

জানা গেছে, সকাল ১১টার দিকে সুকল কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, বারমেডেরে শত শত শিক্ষার্থী যোগ দিলে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন হঠাৎই তীব্রগতি পায়৷ শিক্ষার্থীরা শাহবাগ এলাকা থেকে বিক্ষোভ করতে করতে সায়েন্স ল্যাবরেটরি হয়ে জিগাতলা এলাকার দিকে রওনা দেয়৷ শনিবার জিগাতলা ও ধানমন্ডি এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ যুবলীগের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায় ওই এলাকায় আগে থেকেই সতর্ক অবস্থান নেয় পুলিশ৷ এর মধ্যে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় গেলে জিগাতলার দিক থেকে একদল সন্ত্রাসী লাঠি সোটা, রামদা, কিরিচ ইত্যাদি নিয়ে এসে তাদের ওপর চড়াও হয়৷ এ সময় ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়৷ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ হামলাকারীরা ছাত্রলিগ ও যুবলিগের নেতা কর্মী৷ এসময় পুলিশ কাঁদানো গ্যাস নিক্ষেপ করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা গুরুতর আহত হন৷ আহত শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে৷ মারধরের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্ত বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির উদ্দেশে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় এলে সেখানে হঠাৎ করেই ছাত্রলিগ যুবলিগের নেতা কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়৷ হামলায় অনেক শিক্ষার্থীর সেখানে  মাথা ফেটে গেছে৷ অনেকেল গাল মুখ কেটে গেছে৷ অন্তত শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে৷ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রলিগের হামলার বিষয়ে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, কারা হামলা চালিয়েছে তা আমর জানি না৷ আমাদের কাছে কোনও অভিযোগ আসেনি৷ রাজধানীর সাইন্সল্যাব মোড়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেশি অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের এমন দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তাদের পরিচয় আমরা জানি না৷ আমরা আন্দোলনকারী ছাত্রদের পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর তারা বিভিন্ন দিকে সরে গেছে৷ এখন ফুটওবার ব্রিজের নিচে কারা তা আমরা জানি না৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *