বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে ঃ মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৬ জুলাই৷৷ বর্তমান রাজ্য সরকার ত্রিপুরাকে একটি মডেল রাজ্য বানানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে৷ এর জন্য প্রথমেই প্রয়োজন ত্রিপুরাকে অপরাধ মুক্ত রাজ্য হিসাবে গড়ে তোলা৷ তাই রাজ্যবাসীকে স্বচ্ছ বিচার ব্যবস্থা প্রদান করার জন্য বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে৷ আজ সোনামুড়ায় সিপাহীজলা জেলার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ তিনি বলেন, সরকার ও বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা একই দিশাতে কাজ করলেই মডেল রাজ্য গঠন করা সম্ভব৷ তাই কম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া সম্পাদন করার জন্য রাজ্যের প্রতিটি জেলায় জেলা ও দায়রা আদালত স্থাপন করা খুবই প্রয়োজন৷ এতে ত্রিপুরার জনগণের খুব উপকার হবে৷ বর্তমানে রাজ্যের পাঁচটি জেলাতে জেলা ও দায়রা আদালত রয়েছে৷ বাকি জেলাগুলিতেও জেলা ও দায়রা আদালত স্থাপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি অজয় রাস্তোগীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান মুখ্যমন্ত্রী৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনগণ ৫ বছরের জন্য সরকার নির্বাচিত করে৷ সেই সরকার জনগণের জন্য কাজ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকে৷ জনগণের জন্য কোন কাজটি গুরুত্ব পাবে সেটাকে প্রয়োরিটি দিয়েই কাজ করতে হয় সরকারকে৷ সেই দিশাতেই কাজ করছে বর্তমান রাজ্য সরকার৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার ত্রিপুরাকে নেশামুক্ত ও অপরাধমুক্ত রাজ্য হিসাবে গড়ে তুলতে কাজ করছে৷ এজন্য বিচার ব্যবস্থাকে জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে৷ বিগত সরকারের আমলে এই সিপাহীজলা জেলার বড় একটা অংশের গাঁজা চাষ করা হচ্ছিল৷ বর্তমান রাজ্য সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই শপথ নিয়েছিল রাজ্যকে নেশামুক্ত করার৷ কারণ কোন দেশ বা রাজ্য অবৈধ নেশা কারবারের মাধ্যমে কখনোে উন্নতি লাভ করতে পারেনা৷ বিগত সরকারের আমলে যদি এই জেলায় ক্যুইন আনারস চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করা হত তাহলে সরকারের রাজস্বও বাড়তো এবং কৃষকদেরও আয়ের ব্যবস্থা হতো, এটি না হওয়ায় দেখা গেছে বিগত সরকারের প্রতিটি বাজেটই ছিল সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় সরকারের উপর নির্ভরশীল৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার মহারাজ বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য ছিলেন আধুনিক ত্রিপুরার রূপকার৷ তাঁর আমলে ত্রিপুরায় অনেক সুকল, কলেজ স্থাপিত হয়েছিল৷ ত্রিপুরা রাজা মহারাজাদের আমলে স্বনির্ভর ছিল৷ সেই সময় ত্রিপুরা নেশামুক্ত, নারী নির্যাতনমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ ছিল৷ কিন্তু ৩৫-৪০ বছরে ত্রিপুরা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্র সরকারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে৷ বর্তমান রাজ্য সরকার ত্রিপুরাকে স্বনির্ভর রাজ্য হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে৷ এর জন্য প্রথমেই ত্রিপুরাকে শান্তিপূর্ণ, অপরাধমুক্ত ও নারী নির্যাতনমুক্ত রাজ্য হিসাবে গড়ে তুলতে হবে৷
মুখ্যমন্ত্রী শ্রীদেব বলেন, রাজ্যের উন্নয়ন করতে হলে সরকারের সঠিক দিশা থাকা দরকার৷ আগামী ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সাব্রুমে ফেনী নদীর উপর সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে ত্রিপুরা উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির জন্য বিজনেস হাব হবে৷ ফলে ত্রিপুরাও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে উন্নতি লাভ করতে পারবে৷ রাজ্য সরকার সেই দিশাতেই পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভিশন ডকুমেন্টে যা যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা সরকার আগামী ৫ বছরের মধ্যেই পূরণ করবে৷ ত্রিপুরাকে শক্তিশালী, নেশামুক্ত ও অপরাধমুক্ত রাজ্য গঠনের কাজে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ভাষণে ত্রিপুরা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি অজয় রাস্তোগী বলেন, গত ১ মার্চ, ২০১৮ তারিখ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সভাতেই বলেছিলেন রাজ্যের প্রতিটি জেলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্থাপন করতে হবে৷ আগে রাজ্যের ৫টি জেলাতে জেলা ও দায়রা আদালত ছিল৷ আজ সিপাহীজলা জেলাতে জেলা ও দায়রা আদালত চালু করা হয়েছে৷ বাকী জেলাগুলিতেও অতিশীঘ্র জেলা ও দায়রা আদালত স্থাপন করা হবে৷ কারণ বিচার ব্যবস্থাকে জনগণের দরজায় পৌঁছাতে প্রতিটি জেলাতেই জেলা ও দায়রা আদালত স্থাপন করা প্রয়োজন৷ এতে জনগণ দ্রুত ন্যায় পাবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন৷ আজ এখানে জেলা ও দায়রা আদালত উদ্বোধনের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থা জনগণের হাতে পৌঁছে গেছে৷ এখান থেকে জনগণ যাতে সুষ্ঠু ও দ্রুত ন্যায় পরিষেবা পায় তার জন্য আদলতের জজ সহ আধিকারিকদের প্রতি আহ্বান রাখেন প্রধান বিচারপতি৷ অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারপতি এস দত্ত পুরকায়স্থ এবং সোনামুড়া বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মানিক সাহা৷
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতিদ্বয় সুভাশিষ তলাপাত্র ও অরিন্দম লোধ, বিধায়ক সুভাষ চন্দ্র দাস, বিধায়ক শ্যামল চক্রবর্তী, বিধায়ক অরুণ চন্দ্র ভৌমিক, ত্রিপুরা পুলিশের ডি জি এ কে শুক্লা, এডভোকেট জেনারেল অরুণ কান্তি ভৌমিক, আইন সচিব দাতা মোহন জমাতিয়া প্রমুখ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *