BRAKING NEWS

রোজভ্যালির গয়নার বিপণিতে তল্লাশি অভিযান ইডির

কলকাতা, ২৪ জুলাই (হি.স.): রোজভ্যালির গয়নার বিপণিতে মঙ্গলবার আবার তল্লাশি অভিযান চালাল ইডি । মঙ্গলবার সকাল থেকে ভিআইপি, সন্তোষপুর, লেক মার্কেট, ঠাকুরপুকুর, হাওড়াসহ ওই গয়না প্রস্তুতকারী সংস্থার ৬টি বিপণিতে ৪৫ জন অফিসার তল্লাশি চালান । গতবছরের ডিসেম্বরেও রোজ ভ্যালির গয়নার বিপণিতে তল্লাশি চালায় ইডি । বাজেয়াপ্ত করা হয় কয়েক কোটি টাকার গয়না । সিল করে দেওয়া হয় বিপণি । বন্ধ বিপণিতে কোনও গয়না বা গুরুত্বপূর্ণ নথি লুকিয়ে রাখা হয়েছে কিনা, তার সন্ধান পেতেই ইডির আজকের তল্লাশি অভিযান ।
গত ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর রোজভ্যালির স্বর্ণবিপণি, ‘অদ্রিজা’-তে তল্লাশি চালায় ইডি । এই সংস্থার মাধ্যমে রোজভ্যালির বিশাল অঙ্কের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ । হাওড়ার বাঁধাঘাটে ৫৬ নম্বর জি টি রোডে রোজভ্যালির একটি সোনার দোকানে হানা দেন ই ডি-র অফিসাররা । উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না সহ বিভিন্ন সামগ্রী । একটি দেওয়াল ভেঙ্গে গোপন সিন্দুক পাওয়া যায় । সেই সিন্দুক থেকে সোনার গহনা মিলেছে বলে খবর ।
রোজভ্যালি কাণ্ডে তদন্তে নেমে ই ডি-র অফিসারদের প্রথমেই লক্ষ্য ছিল তাদের স্বর্ণবিপণি । সিবিআইও বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর চালাচ্ছিল । ই ডি জানতে পারে, রোজভ্যালিকর্তা এই সংস্থা খোলেন আমানতকারীদের টাকাতেই । ভুয়ো লেনদেন দেখিয়ে ঘুরপথে কোম্পানি থেকে টাকা বের করে নিয়ে এসে তা দিয়ে কেনা হয় সোনা এবং তৈরি করা হয় অলঙ্কার । যা দিয়েই সাজানো হয়েছিল বিভিন্ন স্বর্ণবিপণি । শুধু তাই নয়, রোজভ্যালির টাকা হাওলার মাধ্যমে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পর সেই টাকায় কেনা হয় সোনা । যা পরে কলকাতায় নিয়ে এসে বিভিন্ন দোকানে রাখা ছিল বলে অভিযোগ । সেই কারণেই স্বর্ণবিপণির বিরুদ্ধে তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল । চিটফান্ড সংস্থার কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর রাতারাতি তার ডিরেক্টরও বদল করা হয় বলে জেনেছে ইডি । রোজভ্যালি কর্তা গৌতম কুন্ডুর মা এই ব্যবসা দেখভাল করতে শুরু করেন । বাজেয়াপ্ত করা নথিপত্র খতিয়ে দেখে ইডি জানতে পেরেছে, এই সংস্থার মাধ্যমে কয়েকশো কোটি টাকা পাচার হয়ে গিয়েছে । রোজভ্যালিতে আমানতকারীদের জমা রাখা নগদ অর্থ বাইরে নিয়ে আসার পর তা জমা করা হয়েছে স্বর্ণবিপণির নামে খোলা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে । ওই টাকা পরে বিদেশের বিভিন্ন কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে । সোনার বাঁট সহ বিভিন্ন অলঙ্কার কেনার জন্য এই অর্থ পাঠানো হয়েছে বিদেশের বিভিন্ন সংস্থার কাছে । তবে বেশিরভাগ টাকা রাখা হয় নগদে । এই টাকা হাওলার মাধ্যমে বিদেশে নিয়ে আসা হয় । তা দিয়েই সোনা কেনা হয় । সোনার বাঁট কলকাতায় নিয়ে আসার পর তা গলিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন অলঙ্কার । যা চলে গিয়েছে রোজভ্যালিকর্তা সহ তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে । অল্প পরিমাণ গয়নাই গিয়েছে তাদের সোনার দোকানে । এভাবেই টাকাকে সোনায় রূপান্তরিত করে রোজভ্যালিকর্তা তার সম্পত্তি বাড়িয়েছেন বলে ইডির দাবি ।
ব্যাপারটা যাতে তদন্তে ধরা না পড়ে, সেজন্য স্বর্ণবিপণিগুলির মালিকানা রাতারাতি বদলে ফেলা হয় । প্রমাণ করার চেষ্টা হয়, এগুলির সঙ্গে রোজভ্যালির কোনও সম্পর্কই নেই । আসলে নিজের মা-এর বকলমে সমস্ত কিছুই চালাচ্ছিলেন রোজভ্যালিকর্তা গৌতম কুণ্ডু । তল্লাশি চালাতে গিয়ে ইডির অফিসাররা দেখেন খাতায় কলমে স্বর্ণবিপণিতে যে পরিমাণ সোনা আছে বলে দেখানো হয়েছে, তার চাইতে অনেক বেশি পরিমাণ অলঙ্কার রয়েছে । সেগুলিই এখন হিসেব করে দেখছেন ইডির অফিসাররা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *