নয়াদিল্লি, ২০ জুলাই (হি.স.) : আমি দেশের চৌকিদার, বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এখন দেশের চৌকিদার কোথায়? শুক্রবার লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এভাবেই কটাক্ষ করলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।
অনাস্থা প্রস্তাবের বক্তব্যে এদিন প্রধানমন্ত্রীকে জুমলা বলেও কটাক্ষ করে রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কথার দাম থাকা উচিত। প্রত্যেক মানুষের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা কোথায়? বিজেপির আমলে বেকারত্ব বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ২ কোটি কর্মসংস্থান দেব ।মাত্র ৪ লক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে। কখনও বলছেন পকোরা বানাও। কখনও বলছেন দোকান খুলুন । চিন যেখানে ২৪ ঘন্টায়
৫০,০০০ যুককে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে, সেখানে আপনাদের সরকার ২৪ ঘন্টায় ৪০০ যুবকের কর্মসংস্থার ব্যবস্থা করছে। বেকারত্বের হার আজ ভারতে সর্বোচ্চ। টিডিপি একা নয়, অনেকেই আজ ‘জুমলার শিকার’।

এদিন প্রতিরক্ষায় বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আনলেন রাহুল গান্ধী। ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে রাফায়েল যুদ্ধবিমানের কোনও চুক্তি হয়নি বলে লোকসভায় দাবি করলেন রাহুল। তিনি বলেন ফরাসি সরকারের সঙ্গে কোনও চুক্তি হয়নি ভারত সরকারের। আমি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করে ওই চুক্তির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছি। উনি বলেছেন, এরকম কোনও চুক্তি হয়নি। রাফাল যুদ্ধ বিমান চুক্তিতে দুর্নীতি হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের বিরুদ্ধেও সরব হন রাহুল গান্ধী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইউপিএ সরকার ৫২০ কোটি টাকায় এয়ারক্রাফট কিনত, কিন্তু নরেন্দ্র মোদী সেই চুক্তি ১৬০০০ কোটি টাকায় কেন করলেন। তিনি অভিযোগ করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী দেশকে মিথ্যে বলেছেন। এরপরেই রাফায়েল কেনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর তোলা অভিযোগের জবাব দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রাহুল গান্ধীর প্রশ্ন ‘ ভারতবর্ষের ইতিহাসে এই প্রথম মহিলারা সুরক্ষিত নন। যখন দলীত, আদিবাসী, সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত ও খুন হচ্ছে। তখন প্রধানমন্ত্রী কোনও কথায় বলেন না। আমি প্রশ্ন করতে চায় সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও মহিলারা কি ভারতীয় নয়।
এদিন নোট বাতিল , কলোটাকা, এবং জিএসটি ইস্যুতেও সংসদে সরব হন রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের থেকে দেশের বৃহৎ শিল্পপতিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্ক বিশেষ করে ভালো, তাই জিও-র বিজ্ঞাপনে থাকে প্রধানমন্ত্রীর ছবি। ছোট মাঝারি ব্যবসায়ীদের পকেটের টাকা লুঠ করেছে। এই সত্য কোনওভাবেই বদলানো যাবে না। এদিন রাহুল গান্ধী আরও অভিযোগ করেন, অমিত শাহর ছেলের আয় ১৬ হাজার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপরই সংসদে হৈহট্টোগোল শুরু করেন বিজেপি সাংসদেরা। লোকসভায় তুমুল হৈহট্টগোলের কারণে দুপুর ১.৪৫ মিনিট নাগাদ লোকসভার অধিবেশন সাময়িকের জন্য মুলতবি করা হয়। এরপর পুনরায় অধিবেশন শুরু হলে নিজের বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরলেন রাহুল গান্ধী।