৷৷ অভিজিৎ রায়চৌধুরী ৷৷
নয়াদিল্লী, ১৬ মে৷৷ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি ঝঁুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে৷ ভবিষ্যতের নিরাপত্তার হুমকি

সম্পর্কে ধর্মীয় মৌলবাদ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে৷ এটাকে থামানো না হলে সন্ত্রাসবাদের রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং৷ মঙ্গলবার নয়াদিল্লীতে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির পুলিশ প্রধান তথা ডিজিপিদের নিয়ে এক বৈঠক করেন তিনি৷ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডোনার মন্ত্রী ডঃ জীতেন্দ্র সিং, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী কিরেন রিজিজু, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোবেল সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলে নিযুক্ত কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের উচ্চ পদস্থ আধিকারীকরা৷
বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করতে হবে৷ ধর্মীয় মৌলবাদ এই অঞ্চলে ক্রমাগত বিস্তার পাচ্ছে৷ যা ভবিষ্যতের জন্য সন্ত্রাসবাদের হুমকি হয়ে উঠতে পারে৷ কিছু ধর্মের পোশাক এবং কিছু এনজিও, সামাজিক- সাংসৃকতিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করছে৷ তাদের কাজকর্মের উপর তীক্ষ্ন নজরদারী রাখতে হবে৷ প্রয়োজনে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে৷ ঐ সব ধর্মীয় সংস্থাগুলিকে বিদেশ থেকে অর্থ সাহায্য দেওয়া হচ্ছে৷ তাই বিদেশী তহবিলের প্রবাহ কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরী বলে পরামর্শ দিয়েছেন শ্রীসিং৷
এদিনের বৈঠকে রাজনাথ সিং আরও জানান, ত্রিপুরা থেকে মিজোরামের রিয়াং শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের যে দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে তা শীঘ্রই সমাধান করা হবে৷ তাছাড়া গত পঞ্চাশ বছর যাবৎ অরুণাচল প্রদেশে বসবাসকারী চাকমা ও হাজংদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে যে অচলাবস্থা রয়েছে, তাও নিষ্পত্তি করা হবে৷ উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক যে এই অঞ্চলের কিছু রাজ্যে ফৌজদারি মামলায় প্রসিকিউশন এবং দোষী সাব্যস্ত এর হার অতন্ত্য নগন্য৷ এক রাজ্যে সাজার হার তো ভারতের শতকরা ৮৬ ভাগের তুলনায় মাত্র পাঁচ শতাংশ৷ কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপহরণ, চাঁদাবাদির প্রবল প্রবৃদ্ধি হয়েছে৷ কিন্তু, এইরকম সব মামলায় বিচার এবং দোষী সাব্যস্তের অনুপাত এক শতাংশেরও কম নয়, যা অবিচলতি বলে মন্তব্য করেন শ্রীসিং৷ যখন একজন বিনা পয়সায় বিচারের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন তখন তাকে সুবিচার দেওয়া প্রয়োজন৷ তাতে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়বে৷ যখন নির্দোষের অনুপাত ছিঁড়ে যায় তখন রাষ্ট্রের নৈতিক বৈধতা হ্রাস পায় এবং একই সাথে এটি অপরাধকে উৎসাহ দেয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ তিনি আরও বলেন, দেখা গিয়েছে বিভিন্ন মামলায় তদন্তের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামগুলি পর্যাপ্তভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না, তাতে তদন্ত প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে৷ তিনি বলেন, উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিগুলির অবস্থা সন্তোষজনক নয়৷ এই বিষয়ে পুলিশ প্রধানদের গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্বেগের সাথে বলেন, অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে৷ যদিও উত্তর পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ অঞ্চল জঙ্গীবাদ থেকে মুক্ত হয়ে গিয়েছে৷ কিন্তু, বিপুল সংখ্যক অবৈধ অস্ত্রের কারণে অপরাধের হার এখনো উজ্জ্বল৷ তিনি সব রাজ্যের পুলিশ প্রধান তথা ডিজিপিদের পরামর্শ দিয়েছেন অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী ও চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর৷ সমস্ত উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে৷ এই সীমানার মধ্যে অবৈধ অস্ত্র, মাদক দ্রব্য, জাল ভারতীয় মুদ্রা দেশে চোরাচালান করা হচ্ছে৷ ঐ সব এলাকায় পুলিশী ব্যবস্থা ও পুলিশ স্টেশন খোলার জন্য অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷