বৃষ্টিতে বন্যায় তিন হাজার কানি ফসল নষ্ট শুধু কাকড়াবনেই, ক্ষতিগ্রস্ত সহস্রাধিক চাষী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৬ এপ্রিল৷৷ গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে রাজ্যে ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে৷ বিশেষ করে গোমতি জেলায় বন্যায় প্রচুর ধানের ফসল নষ্ট হয়েছে৷ তাতে ক্ষতিগ্রস্থ ১ হাজারের উপর কৃষক৷ এবিষয়ে বুধবার মহাকরণে পানীয় জল ও স্বাস্থ্যবিধান দপ্তরের মন্ত্রী রতন ভৌমিক জানিয়েছেন, কাকড়াবন বিধানসভার অধীন হুরিজলা বাঁধ ভেঙ্গে প্রায় তিন হাজার কানি ধানের ফসল নষ্ট হয়েছে৷ তাছাড়া, কোসামারা, দুধপুস্কনি, রাণী, আমতলি, মির্জা প্রভৃতি এলাকাতেও প্রচুর ধানের ফসল নষ্ট হয়েছে৷
তিনি জানান, গতকাল এবং আজ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন৷ শিলঘাটি, ইছাছড়া, শুকসাগরজলা বাঁধ ভেঙ্গে পাশ্ববর্তী এলাকাতেও ধানের ফসলের ক্ষতি হয়েছে৷ তিনি জানান, কৃষকদের সাথে ফসলের ক্ষতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷ এমন অনেক কৃষক রয়েছেন যাদের সারা বছরের আয় বন্যার জলে শেষ হয়ে গেছে৷ মন্ত্রী জানান, এবছর ধানের ফসল খুবই ভাল হয়েছিল৷ আর্থিক দিক দিয়ে লাভবান হতেন কৃষকরা৷ কিন্তু, বন্যায় তাঁদের অনেককেই পথে বসিয়ে দিয়েছে৷
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সরকারী সহায়তা কিভাবে করা প্রশ্ণের উত্তরে মন্ত্রী জানান, আগামী বছর ফসলের জন্য তাঁদের সার, বীজ ইত্যাদি দিয়ে সাহায্য করা হবে৷ এককালীন অর্থ দিয়ে সাহায্য করা হবে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, এমন সুযোগ আপাতত নেই৷ কৃষি দপ্তর এবিষয়ে পর্যালোচনা করে দেখবে তাদের সহায়তা করার বিষয়টি৷
এদিকে, মহাকরণে আজ কৃষি মন্ত্রী অঘোর দেববর্মা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থের সার্বিক বিষয় নিয়ে বৈঠক করেছেন৷ ঐ বৈঠকে পূর্ত মন্ত্রী বাদল চৌধুরী এবং শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তপন চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন৷ কৃষি দপ্তরের প্রধান সচিব জি এস জি আয়েঙ্গারও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন৷ সূত্র অনুসারে জানা গেছে, বিডিও এবং মহকুমা শাসকের রিপোর্টের ভিত্তিতে বন্যা ক্ষতিগ্রস্থের বিষয়ে পর্যালোচনা হয়েছে৷ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের কিভাবে সহায়তা করা যাবে সেবিষয়েও আলোচনা হয়েছে৷
এদিন পানীয় জল ও স্বাস্থ্যবিধান দপ্তরের মন্ত্রী রতন ভৌমিক জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা বাঁধ আরো শক্তিশালি করার জন্য এবং স্যুইস গেইট নির্মানের দাবি জানিয়েছেন৷
এদিকে, কালবৈশাখীর প্রবল ঝড়ের তান্ডবে অমরপুর মহকুমার বামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চন্দ্র মোহন পাড়ায় ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে৷ কোথাও ঘরের ছাউনি উড়িয়ে নিয়েছে আবার কোথাও ঘরের বেষ্টনী নেই, ঘরের ভিতরে থাকা আসবারপত্র নষ্ট হয়ে গেছে৷ টিভি, পড়াশুনা করার বই খাতা নষ্ট হয়ে গেছে৷ ঝড়ের তান্ডবে আহত হয়েছে ৫ জনের বেশি৷ আহতদেরকে অমরপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এলাকা পরিদর্শন করেছেন মহকুমা শাসক, বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির চেয়্যারম্যান, জেলা পরিষদের সদস্য সহ আরো অনেকে৷ বর্তমানে ৫টি পরিবারকে শরণার্থী হিসাবে ঐ এলাকার বাজারে তৈরী করা কিছু সরকারি শেড ঘরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে৷ এছাড়া বাকি যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদেরকেও আশ্রয় দেবার চিন্তা ধারা চলছে৷ বর্তমানে তাদের খাওয়ার জন্য কিছু খাদ্য সামগ্রী সহ কিছু কাপর দেওয়া হয়েছে মহকুমা শাসকের পক্ষ থেকে৷ পাশাপাশি এই ঝড়ের তান্ডবে লালগিরি এডিসি ভিলেজেও বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে৷