নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা/চড়িলাম/ তেলিয়ামুড়া/ বিশালগড়, ১৬ এপ্রিল৷৷ রেল লাইনে ল্যাভেল ক্রসিং ছিল না, এমনকি

রোড ওভার ব্রিজ বা রোড আন্ডার ব্রিজও নেই৷ ফলে, রেল লাইন পাড় হতে গিয়ে লাইনের উপরে অটো বিকল হয়ে যাওয়ায় মা’কে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের৷ তাঁদের মায়ের অবস্থাও আশঙ্কাজনক৷ বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনেই হৃদয় বিদারক এই ঘটনায় রাণীরবাজার লেম্বুছড়া এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷
জানা গেছে, শনিবার রাণীরবাজার লেম্বুছড়ার বাসিন্দা গীতারাণী সরকারকে নিয়ে তাঁর দুই ছেলে সুদীপ সরকার(৩০) ও সমীর সরকার(২৬) ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন৷ সন্ধ্যায় অটোতে করে মা’কে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাণীরবাজার চাবাগান সংলগ্ণ লেভেন ক্রসিংহীন রেল লাইন পার হওয়ার সময় রেল লাইনের উপর অটোটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়৷ তাতে অটোটি রেল লাইনের উপরই বন্ধ হয়ে যায়৷ অটোতে তখন চালক সহ মোট ছয়জন ছিলেন তখনই ঐ রেল লাইন রেল আসছিল৷ রেলের ইঞ্জিনের শব্দ পেয়ে চালক সহ তিনজন অটো থেকে নেমে যান৷ অসুস্থ গীতারাণী সরকারকে তার দুই ছেলে মিলে নামানোর চেষ্টা করেন৷ কিন্তু ততক্ষণে রেল এসে অটোটিকে ধাক্কা মারে৷ তাতে অটো সহ তিনজনই ছিটকে পড়েন৷ এই ঘটনায় তাঁরা গুরুতর আহত হন৷ খবর পেয়ে রাণীরবাজার ফায়ার স্টেশনের দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাদের জি বি হাসপাতালে নিয়ে যান৷ হাসপাতালের চিকিৎসকরা গীতারাণীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আইএলএস হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন৷ তার দুই ছেলে সুদীপ ও সমীরের চিকিৎসা জিবি হাসপাতালে চলছিল৷ কিন্তু, চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে রবিবার ভোরে ২০ মিনিটের ব্যবধানে দুই ভায়ের মৃত্যু হয়েছে৷ সমীর সরকার এদিন ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে এবং সুদীপ সরকার ভোর ৫টা ১০ মিনিটে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন৷ এদিকে, তাদের মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে৷ এই ঘটনায় রাণীরবাজার এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷
বাইকে করে বন্ধুর সাথে বাজারে যাওয়ার পথে দূর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে৷ জানা গেছে, শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টা নাগাদ সাব্রুমের বটতলা এলাকার বাসিন্দা দুই বন্ধু বিপ্লব দেবনাথ ও অসীম দাস বাইকে করে বাড়ি থেকে বাজারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন৷ বিজয়নগর এলাকায় একটি গাড়িকে ওভারট্যাক করতে গিয়ে সামনে থেকে আরেকটি গাড়ি এসে যাওয়ায় বাইক চালক অসীম দাস জোরে ব্রেক কষেন৷ তাতে পেছনের সিটে বসা বিপ্লব দেবনাথ ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান৷ তখনই তাকে চার চাকার একটি গাড়ি পিষে দেয়৷ গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সাব্রুম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে রাত ১২টা নাগাদ জি বি হাসপাতালে স্থানান্তর করেন৷ জি বি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়েছে৷ মৃতদেহ ময়নাতনন্তের পর তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে৷ এদিকে, অসীম দাস সাব্রুম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে৷
নববর্ষের প্রথম দিনেই চড়িলামের ছেচরীমাই এলাকায় যান দূর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন দুইজন৷ সংবাদ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টা নাগাদ টিআর-০৭-১৫৩৫ নম্বরের একটি বুলেরো গাড়ি বিশালগড় থেকে বিশ্রামগঞ্জের দিতে যাচ্ছিল৷ যাওয়ার পথে গাড়িটি ছেচরীমাই এলাকায় টিআর-০১এল-৪৯৫৭ নম্বরের একটি পাল্সার বাইকে পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়৷ তাতে বাইক চালক ও আরোহী দুইজনই রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে যায়৷ রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে দুই যুবক৷ সঙ্গে সঙ্গেই এলাকার লোকজন খবর দেয় বিশ্রামগঞ্জ ফায়ার স্টেশনে৷ দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় মন্টু দাস এবং রাজু দেবনাথকে বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ সেখান থেকে চিকিৎসকরা দুইজনকেই আগরতলায় জি বি হাসপাতালে রেফার করে দেয় তাদের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায়৷ এদিকে, যদিও দূর্ঘটনার পরপরই বুলেরো গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় চালক৷ পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ তদন্ত করে চড়িলাম এলাকা থেকে গাড়িটি আটক করে থানায় নিয়ে যায়৷ পুলিশ দূর্ঘটনার একটি মামলা রুজু করেছে৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এই সড়কে মাত্রাতিরিক্ত গতিবেগে যানবাহন চলাচল করে৷ পুলিশ এইসব দেখেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না৷ এনিয়ে জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে৷
এদিকে, ম্যাক্স ও ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে আহত ১১জন৷ দূর্ঘটনাটি ঘটেছে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনের রাত প্রায় ৮টা নাগাদ বড়মুড়া ইকোপার্কের কাছে৷ টিআর০১ ডি- ১৫১১ নম্বরের ম্যাক্স গাড়িটি তেলিয়ামুড়া থেকে আগরতলা যাচ্ছিল৷ অন্যদিকে টিআর০১বি- ২৮২১নম্বরের ট্রাকটি আগরতলা থেকে তলিয়ামুড়া যাচ্ছিল৷ দুর্ঘটনায় আহতদের তেলিয়ামুলা হাসপাতালে নিয়ে আসে তেলিয়ামুড়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা৷ এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় জিবি হাসপাতালে পাঠানো হয়৷ বাকীদের তেলিয়ামুড়া হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে৷ তিন জন হল – বাবুলাল সরকার (৪৮), অনিমা বিশ্বাস (৫০), মিটন গোপ (২৮)৷
অন্যদিকে, ফের রক্তে লাল হল বিশালগড়-কামথানা রোড৷ দূর্ঘটনাটি ঘটেছে বিশালগড় থানার অধীন কড়ইমুরা নজরুল চৌমুহনিতে৷ দুর্গানগর থেকে বিশালগড়ের দিকে আসছিল টিআর০৭-৮৭৮৩ বাইকটি৷ অপরদিকে মুড়াবাড়ি থেকে কড়ইমুরা যাচ্ছিল বুলেরো পিকআপ ভ্যান৷ বাইক ও বুলেরো পিকআপ ভ্যামের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটে৷ ঘটনাস্থলে বাইক আরোহী নিত্যানন্দ ভৌমিক (২৭) ও তার ভাই সুশান্ত ভৌমিক (২৫) গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে৷ বাইক চালক নিত্যানন্দ ভৌমিকের মাথা ফেটে যায়৷ সাথে সাথে দমকল বাহিনী এসে তাদের উদ্ধার করে বিশালগড় হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ নিত্যানন্দের অবস্থা বেগতিক দেখে জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়৷ ভ্যান চালক ময়নাল হোসেন (৩৫) দুর্ঘটনার পরই গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যায়৷ নিত্যানন্দকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বহিঃরাজ্যে নেওয়া হবে পরিবার সূত্রে খবর৷ অন্যদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ এই সড়কটিতে ঘন ঘন দুর্ঘটনা ঘটলেও পুলিশ যথাযথ কোন ভূমিকা গ্রহণ না করায় বারবার ছোটবড় দুর্ঘটনা ঘটছে৷

