বিশ্ববন্ধুর সাথে বিপ্লবের বৈঠক ঘিরে জল্পনা

bjp-tmcনিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩০ জানুয়ারি ৷৷ বিরোধী দলের অস্তিত্ব আদৌ রাজ্যে থাকবে কিনা সে প্রশ্ণ আবারও উঠেছে৷ ভাঙন যেখানে বিরোধী শিবিরে প্রতিনিয়ত চলছে এর ফায়দা স্বাভাবিকভাবেই শাসক দল তুলবে তা মানছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল৷ কারণ, তৃণমূলে এবার ভাঙন ধরতে চলেছে৷ সোমবার তৃণমূল বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেনের সাথে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বিপ্লব কুমার দেবের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে৷ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুনভাবে পাল্টাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে৷
দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল৷ সমালোচকদের মতে, বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেনের পাশাপাশি তৃণমূলের আরো দুয়েকজন বিধায়ক বিদ্রোহ ঘোষণা করতে পারেন৷ এদিনের বৈঠক সেই জল্পনাকেই আবারও উস্কে দিয়েছে৷ সূত্রের খবর, বিশ্ববন্ধু সেন অন্তত একজনকে তৃণমূল ছাড়তে ম্যানেজ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন৷ কারণ, দলত্যাগ বিরোধী আইনের হাত থেকে বাঁচতে গেলে অন্তত দুইজন বিধায়ক নিয়ে দল ছাড়তে হবে বিশ্ববন্ধু সেনদের৷ তৃণমূলে চাপা বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে আঁচ করতে পেরেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি পৌঁছে গিয়েছেন ধর্মনগরের বিধায়কের বাড়িতে, এমনটাই ধারণা রাজনৈতিক মহলের৷ সূত্রের খবর, তৃণমূল ছাড়তে লোভনীয় টোপ দেওয়া হয়েছে বিশ্ববন্ধু সেনকে৷ অবশ্য, নির্বাচনের আর মাত্র বছরখানেক বাকি, এরই মাঝে দল ছাড়ার ঝঁুকি আদৌ বিশ্ববন্ধুবাবু নেবেন কিনা তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে৷ দল না ছাড়লেও, ধারণা করা হচ্ছে, ঠিক ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্মুহূর্তে বিজেপির ব্যানারে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিতে পারেন ধর্মনগরের এই বিধায়ক৷ এমনটা ঘটলে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস আরো বেকায়দায় পড়ে যাবে৷ কারণ, অন্তিম মুহূর্তে যোগ্য প্রার্থী খোঁজে বের করা ভগ্ণপ্রায় এই দলের পক্ষে কোন মতেই সম্ভব হবে না বলেও নিশ্চিত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল৷ ফলে, আগামীদিনে বিরোধী রাজনীতি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ণ উঠা স্বাভাবিক বলেই মনে হচ্ছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *