৭০ বছরের বৃদ্ধাকে বাড়িতে ঢুকে হত্যা, পূর্ব শিবনগরে চাঞ্চল্য

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ জানুয়ারী৷৷ ফের রাজধানী আগরতলায় এক বৃদ্ধা খুন হয়েছেন৷ একাকী ঐ মহিলাকে খুন

পূর্ব শিবনগরে বাড়িতে ঢুকে এক বৃদ্ধাকে খুন করা হয়েছে৷ (ইনসেটে বৃদ্ধার মৃতদেহ)৷ শনিবার তোলা ছবি নিজস্ব৷
পূর্ব শিবনগরে বাড়িতে ঢুকে এক বৃদ্ধাকে খুন করা হয়েছে৷ (ইনসেটে বৃদ্ধার মৃতদেহ)৷ শনিবার তোলা ছবি নিজস্ব৷

করে তাঁর কিছু স্বর্ণালঙ্কারও লুট করে নিয়ে গিয়েছে খুনীরা৷ ঘটনাটি ঘটেছে শহরের পূর্ব শিবনগর এলাকায়৷ এই হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায়া রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে৷

৭০ বছরের এক বৃদ্ধাকে তার নিজের বাড়িতে নিমর্মভাবে হত্যার ঘটনায় আবারও রাজ্যর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ণচিহ্ণ তৈরি করল৷ পূর্ব থানার অধীন শিবনগরে এই ঘটনা ঘটে৷ যা স্থানীয় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে৷ মৃতকে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রয়াত পঙ্কজ ভৌমিকের বিধবা স্ত্রি জ্যোৎস্না ভৌমিক (৭০) হিসেবে চিহ্ণত করা হয়েছে৷ তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন৷
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনা সম্পর্কে জানাজানি হয় সকালবেলা৷ যখন বৃদ্ধার নাতি অন্যান্য দিনের মত সকালবেলা ফোন করেন৷ কিন্তু বারংবার রিং হওয়া সত্ত্বেও কেউ ফোন না ধরায় সে দ্রুত ছুটে আসে৷ সে এসে দেখে বাড়ির সামনের গেইটে তালা ঝুলানো৷ দীর্ঘ ডাকাডাকিতেও ভেতরথেকে কোন উত্তর না আসয় সন্দেহের সৃষ্টি হয়৷ স্থানীয় লোকজন ও ক্লাবের ছেলেরাও এসে হাজির হয়৷ বৃদ্ধা অসুস্থ হতে পারেন ভেবে স্থানীয়রা তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে৷ কিন্তু ভেতরে ডুকে বৃদ্ধার রক্তাক্ত দেহ তারা দ্রুত পুলিশকে খবর দেয়৷ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত ছুটে আসে এবং বাড়িটি ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করে৷ যদিও ঘটনার পিছনে রহস্য সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তা এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন৷ পূর্ব- থানার পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘরে ডাকাত ঢুকে থাকতে পারে৷ কারণ মহিলার গায়ে প্রচুর স্বর্ণালঙ্কার ছিল৷ যার এখন কোন হদিশ নেই৷ মৃতদেহ একটি অলঙ্কারও নেই৷ তবে ডাকত দলের বিষয়ে নিশ্চিত করে এখনি কিছু বলা যায় না৷ মৃতদেহ অলঙ্কার না থাকলেও অবাক করার বিষয় যে বাড়ির ভিতরে ডাকাতির কোন লক্ষণ নেই৷ ঘরের ভেতরে প্রতিটি আসবাবপত্র যথাস্থানে আছে এবং আলমারি খোলা হয়নি বা অন্যান্য লুকানো সামগ্রী, অলঙ্কার বের করারা কোন চেষ্টার প্রমাণও নেই৷

পরিবারের সদস্যদের কেউ এই খুনের সঙ্গে জড়িত কিনা তাও খকিয়ে দেখছে পুলিশ৷ পুলিশ জানিয়েছে, তারা এলাকার লোকদের সঙ্গে কথা বলেছেন৷ ভদ্রমহিলা বাড়ীতে এখানে একা থাকতেন৷ তার ছেলে পুষ্পেন্দু ভৌমিক কর্মসূত্রে কলাকাতায় বসবাস করেন৷ এক মাসের জন্য তিনি ছুটি নিয়ে এসে ছিলেন৷ মায়ের সঙ্গে থাতে গত মঙ্গলবার তিনি কলকাতায় ফিরে যান৷ জ্যোৎস্না ভৌমিকের ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে কিন্তু তাদের সবই বিবাহিত৷ পুলিশের মতে, দুর্বৃত্তরা বাইরে থেকে বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে হত্যা করেছে৷ আততায়ীরা অবশ্যই পরিচিত ব্যক্তি, আত্মীয় বা প্রতিবেশী অথবা তাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন৷ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে৷ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং আঙুলের ছাপের নমুনা পাওয়া গেলে হত্যা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা যেতে পারে বলে পূর্ব-থানার পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *