নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ জানুয়ারী৷৷ অবশেষে রোজভ্যালির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত শুরু করল রাজ্য প্রশাসন৷ শনিবার

রোজভ্যালি পার্ক, মালাবতী চা বাগান, বড়দোয়ালিস্থিত আবাসনের ৯টি ফ্ল্যাট এবং রবীন্দ্রভবন সংলগ্ণ বহুতল ভবনটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয় মহকুমা প্রশাসন৷ বৃহস্পতিবার রোজভ্যালির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত নেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়৷ এরই পরিপ্রেক্ষিতে সারা রাজ্যে পর্যায়ক্রমে রোজভ্যালির সমস্ত স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে বলে জানা গেছে৷
মূলত, চিটফান্ডের মামলা তদন্তে ঘটিত সিট এবং জেলাশাসকরা ১৪টি চিটফান্ডের সম্পত্তিগুলি নির্দিষ্ট করে সেগুলি হেপাজতে নেওয়ার সুপারিশ পাঠিয়েছিল রাজ্য সরকারের কাছে৷ এরই ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই চিটফান্ড সংস্থাগুলির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল৷ কিন্তু রোজভ্যালির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কোন উদ্যোগ এতদিন নেওয়া হচ্ছিল না৷ তাতে, বিরোধীরা ক্রমগত রাজ্য সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে৷ অবশেষে রোজভ্যালিরও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিজ্ঞপ্তি জারি করে দেয় রাজ্য সরকার৷ ধারণা করা হচ্ছে, চিটফান্ড ইস্যুতে বিরোধীরা সিবিআই দাবি ছাড়া অন্য কোন দাবিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াবেনা৷
রাজ্যের ৭টি জেলায় রোজভ্যালির ২০টি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে৷ এদিন, রোজভ্যালি পার্কে ডুকলি ব্লকের ডিসিএম তালা ঝুলিয়ে দেন৷ ঐ সময় পার্কের সমস্ত কর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং সরকারি কাজে বাধা দেন৷ ডিসিএম তাদের জানান, সরকারে নির্দেশ অনুসারে রোজভ্যালি পার্কে তালা ঝুলানো হচ্ছে৷ তাতে, যে আপত্তি উঠেছে সমস্ত কিছু তিনি রাজ্য সরকারের গোচরে নেবেন৷ কিন্তু ডিসিএমের বক্তব্যে আশ্বস্ত হতে পারেননি রোজভ্যালি পার্কের কর্মীরা৷ তাদের বক্তব্য, পার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন রোজগারে আঘাত এসেছে৷ এই পার্কে চাকুরি করে সংসার প্রতিপালন করা হয়৷ ফলে এখন সংসার চালানোয় দায় হয়ে দাঁড়াবে৷ ডিসিএম’র কাছ থেকে পার্ক পুনরায় কবে নাগাদ খুলবে বা তাদের কর্মসংস্থান কিভাবে হবে সে বিষয়ে কোন সদুত্তর না পেয়ে সমস্ত কর্মীরা এদিন সদর মহকুমা অফিস ঘেরাও করেন৷ এবিষয়ে সদর মহকুমা শাসক জানিয়েছেন, পার্কের কর্মীদের বলা হয়েছে যতদিন পর্যন্ত এবিষয়ে আদালত কোন রায় দিচ্ছে না ততদিন তারা যেন ধৈর্য্য ধরেন৷ সদর জেলার জেলাশাসক ডা. মিলিন্দ রামটেকে বলেন, পার্ক হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে কর্মরত সমস্ত কর্মীরাই সমস্যায় পড়েছেন ঠিকই৷ তবে, রাজ্য সরকার তাদের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করবে৷
এদিকে, মালাবতী চা বাগান, বড়দোয়ালিস্থিত রোজভ্যালির আবাসনের ৯টি ফ্ল্যাট এবং রবীন্দ্রভবন সংলগ্ণ বহুতল ভবনটি রাজ্য সরকার হেপাজতে নিয়েছে বলে সদর মহকুমা শাসক সমিত রায় চৌধুরী জানিয়েছেন৷ তিনি আরো জানান, পর্যায়ক্রমে এই প্রক্রিয়া চলবে৷ জানা গেছে, সাত জেলার সদর ছাড়া উদয়পুর, বিশালগড়, খোয়াই, কুমারঘাট, ধর্মনগর এবং গন্ডাছড়ায় রোজভ্যালির সম্পত্তি রয়েছে৷