রাজ্যে বিজেপির উত্থানে সিপিএম’র সাংগঠনিক দূর্বলতা অন্যতম কারণ ঃ বিজন

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩০ ডিসেম্বর৷৷ ভিষণ চিন্তায় পড়েছে সিপিএম৷ সেটা দলের রাজ্য সম্পাদকের বক্তব্যে

সাংবাদিক সম্মেলনে বিজন ধর৷ ছবি নিজস্ব৷
সাংবাদিক সম্মেলনে বিজন ধর৷ ছবি নিজস্ব৷

ভালোভাবেই ফুঁটে উঠল৷ শুক্রবার রাজ্য কমিটির দুই দিনের বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বিজন ধর মেনে নিলেন রাজ্যে বিজেপি’র উত্থানের পেছনে সাংগঠনিক দূর্বলতা অন্যতম কারণ৷ তাছাড়া কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকায় অর্থশক্তি দিয়ে এবং আরএসএস বাইরে থেকে এসে সকলকে প্রলুব্ধ করছে৷ এমনকি সিপিএম ভোটারদেরও তাঁরা প্রলুব্ধ করতে সক্ষম হচ্ছেন৷ যার কারণে, উপনির্বাচনগুলিতে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে দখল করতে পেরেছে৷ এই সমস্ত বিষয়ে দলের রাজ্য কমিটির বৈঠকে পর্যালোচনা হয়েছে বলে বিজনবাবু এদিন জানিয়েছেন৷ পাশাপাশি এও বলেন, এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম জারি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ তবে, চিন্তা প্রকাশ করার সাথে সিপিএম রাজ্য সম্পাদককে এদিন দলের এই অবস্থায় অনেকটা হতাশও দেখা গিয়েছে৷
এদিন বিজনবাবু দাবি করেন, গত উপ নির্বাচনগুলিতে সামগ্রিক ভাবে ফলাফল বামফ্রন্টের অনুকূলে গিয়েছে৷ কিন্তু, বিক্ষিপ্ত ভাবে বিজেপিও জয়ে সক্ষম হয়েছে৷ বড়জলা এবং ঊনকোটিতে জেলা পরিষদের উপ নির্বাচনে সিপিএমের ভোট কমেছে৷ দলের রাজ্য কমিটির বৈঠকে পর্যালোচনায় প্রাথমিক কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এর পেছনে সাংগঠনিক দূর্বলতা৷ এদিন বিজনবাবু এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে অর্থশক্তি দিয়ে এবং আরএসএস বাইরে থেকে এসে সকলকে প্রলুব্ধ করছে৷ এমনকি সিপিএম ভোটারদেরও তারা প্রলুব্ধ করতে পারছেন৷ তিনি জানান, বিজেপির জন্য আরএসএস সহ তাদের অঙ্গ সংগঠনগুলি রাজ্যে কাজকর্ম বাড়িয়েছে৷ বিজেপির রাজনৈতিক ভিত তৈরীর কাজে তারা নেমেছে৷ যেকোন ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা, রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ ইত্যাদির মাধ্যমে জনভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে৷ এছাড়াও উপজাতি আঞ্চলিক গোষ্ঠী আইপিএফটি ভেঙ্গে একটা অংশ ইতিমধ্যে বিজেপিতে মিশেছে৷ তিনি বলেন, বিজেপি চাইছে আইপিএফটি এবং আইএনপিটিকে নিয়ে বামফ্রন্টকে হঠাতে৷ বিজনবাবু বিজেপির এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গী বলে কটাক্ষ করেছেন৷ তাতে তিনি চিন্তা ব্যক্ত করে বলেন, বিজেপির এই অবস্থান রাজ্যে অরাজকতার সৃষ্টি করবে৷ তাতে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটবে৷ এর জন্য রাজ্য কমিটির বৈঠকে সকলকেই সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি৷ তবে, আগামীদিনে রাজ্যে বিজেপির গতিবিধি আরও বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল সেই বিষয়ে সিপিএমও নিশ্চিত বলে বিজনবাবু জানিয়েছেন৷ এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম জারি রাখার সিদ্ধান্ত রাজ্য কমিটির বৈঠকে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি৷ কিন্তু, বর্তমান সময়ে রাজ্যে দলের অবস্থা চরম হতাশাজনক সেই বিষয়টি ফুটে উঠেছে বিজনবাবুর বক্তব্যে৷ বিজেপিকে আটকাতে সংগ্রাম জারি রাখা হলেও আদৌ তা কতটা সম্ভব সেই বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানাননি সিপিএম রাজ্য সম্পাদক৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *