নিজস্ব প্রতিনিধি আগরতলা, খোয়াই/তেলিয়ামুড়া, ২৭ ডিসেম্বর৷৷ ত্রিপুরায় পালিত হল ৭২তম জনশিক্ষা দিবস পালিত হয়েছে৷ মঙ্গলবার বিকেলে জনশিক্ষা দিবস উপলক্ষে মিছিল ও সভার আয়োজন করে জনশিক্ষা দিবস উদযাপন কমিটি৷ প্যারাডাইস চৌমুহনী এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে এসে শেষ হয়৷ পরে রবীন্দ্র ভবনে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ ত্রিপুরা রাজ্যের জনশিক্ষা আন্দোলনের অন্যতম তিন ব্যক্তি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী দশরথ দেব, হেমন্ত দেববর্মা ও সুধন্য দেববর্মার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে সভার সূচনা করেন ত্রিপুরা সরকারের কৃষি ও আদিম জাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী অঘোর দেববর্মা৷ সভায় উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র ড প্রফুল্লজিৎ সিনহা, সাংসদ জীতেন্দ্র চৌধুরী সাবেক সাংসদ খগেন্দ্র দাস, বিধায়ক রতন দাস প্রমুখ৷
মঙ্গলবার ছিল ৭২ তম জনশিক্ষা দিবস৷ এউপলক্ষ্যে সিপিআইএম’র পক্ষে জনশিক্ষা আন্দোলনের পুরোধা নেতৃত্বদের প্রতিচ্ছবিতে মাল্যদান করা হয়৷ এরাজ্যে বিশেষ করে উপজাতিদের মধ্যে শিক্ষা পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে জনশিক্ষা সমিতি গঠিত হয়েছিল৷ আমাদের রাজ্য ছিল সামন্তশাসিত রাজ্য৷ ১৮৪ জন রাজা সাড়ে চারশ বছর রাজত্ব করে গেছেন৷ হাতে গোনা মাত্র ৯টি হাইসুকল ছিল সারা রাজ্যে৷ এর মধ্যে বালিকাদের জন্য একটি সুকল ছিল৷ সেটি হল মহারাণী তুলসীবতী বালিকা বিদ্যালয়৷ ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত ছিল ২৫টি৷ প্রাইমারি সুকল ছিল ২৫০টি৷ পাহাড় ও সমতলে সুকল ছিব খুবই সীমিত৷ বিশেষ করে উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলে রাস্তাঘাট ছিল না, শিক্ষার কোন ব্যবস্থা ছিল না৷ সে কারণে দশরথ দেববর্মা, সুধন্য দেববর্মা, হেমন্ত দেববর্মা, অঘোর দেববর্মা প্রমুখরা এই সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন৷ উপজাতি এলাকাতে শিক্ষার গণজাগরণ পৃথিবীর অন্য কোন দেশে সংগঠিত হয়নি৷ এই আন্দোলন এখনো থেমে থাকেনি৷ এর প্রাসঙ্গিকতা এখনো রয়েছে৷ এই আন্দোলনের ফলে সারা রাজ্যে পাহাড় ও সমতলে প্রাইমারি থেকে হায়ার সেকেন্ডারি সুকল ও ডিগ্রি কলেজ স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে৷ জনশিক্ষা আন্দোলনেরই সুফল ভোগ করছে রাজ্যবাসী৷ এই আন্দোলনকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবার আহ্বান জানিয়ে সারা রাজ্যের পাশাপাশি খোয়াই জেলার সর্বত্রই জনশিক্ষা দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয় মঙ্গলবার৷ এই দিবসটি উপলক্ষ্যে সিপিআই(এম) সুভাষপার্ক অঞ্চল কমিটির উদ্যোগে দশরথ দেব মেমোরিয়াল কলেজে জনশিক্ষা আন্দোলনের প্রাণপুরুষ দশরথ দেব এর আবক্ষ মূর্তিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে সংহতি দৌড় এর আয়োজন করা হয়েছে৷
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির অন্যতম সদস্যদ্বয় বিশ্বজিৎ দত্ত, পদ্মকুমার দেববর্মা সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা উপস্থিত ছিলেন৷ সংহতি দৌড় এর সূচনা করেন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দত্ত৷
রাজ্যের অন্যান্য স্থানের মতো সিপিএম তেলিয়ামুড়া বিভাগীয় কমিটির অন্তর্গত বিভিন্ন অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয় ৭২ তম জনশিক্ষা দিবস৷ উত্তরগকুলনগর ব্রহ্মছড়া অঞ্চল কমিটির উদ্যোগে মানিক বাজারে অনুষ্ঠিতক হয় জন শিক্ষা দিবস৷ প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তেলিয়ামুড়া বিভাগীয় কমিটির সম্পাদক সুধীর সরকার, উত্তর গকুলনগর ব্রহ্মছড়া অঞ্চল কমিটির সম্পাদক ষষ্টী দেববর্মা ছাড়া অন্যান্য নেতৃত্বরা৷
এদিন অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন বিভাগীয় সম্পাদক সুধীর সরকার৷ ১৯৪৫ সালে আজকের দিনে প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী দশরথ দেব সহ এগার জনের একটি কমিটি গঠন করে জনশিক্ষার সংগ্রাম চালিয়ে যান৷ নিজেদের উদ্যোগে ৪৫০ টি সুকল স্থাপন করে জনশিক্ষা অভিযান চালিয়ে ছিলেন৷ এদিনের অনুষ্ঠানের তাৎপর্য তুলে ধরেন সম্পাদক সুধীর সরকার ও অঞ্চল সম্পাদক ষষ্ঠী দেববর্মা৷ পরে ৭২ টি মোমবাতি জ্বালিয়ে দিবসটি স্মরণ করা হয়৷ এছাড়া কচিকাঁচা ছেলেমেয়েদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ করা হয়৷
2016-12-28