নিজস্ব প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া, ১৯ ডিসেম্বর৷৷ তেলিয়ামুড়া মহকুমার ১৮ মুড়া পাহাড়ের ৪৩ মাইল এলাকার আসাম-

আগরতলা জাতীয় সড়কের গাড়িতে গুলি চালানো কান্ড দিন দিন নয়া মোড় নিচ্ছে৷ এই কান্ডে এখন পর্যন্ত মুঙ্গিয়াকামী থানার পুলিশ বাবুরা কার্যত অশ্বডিম্ব প্রসব করেছে৷ বরং তদন্তের নামে এলাকার নিরীহ যুবকদের ধরে এনে থানার লক আপে বেধড়ক পেটাচ্ছে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার লক্ষ্যে৷ ঐদিনের ঘটনায় থানাবাবুরা একটি মামলা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে ধীর গতিতে৷ মামলার নম্বর ১৬/১৬৷ ইউএস/৩৪১/৩২৬/৩৪/ আইপিসি মূলে মামলাটি হয়৷ জানা যায়, এখন পর্যন্ত ঐ এলাকার চারজন যুবককে দফায় দফায় থানায় তুলে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েও কোন ফল পায়নি৷ তবে আজ পুলিশের এই কান্ডে আতঙ্কে ঘর ছাড়া এলাকার অনেক যুবক বলে এলাকা সূত্রে খবর৷ এর মধ্যে এক যুবক গত শনিবার থেকে নিখোঁজ হয়ে আজো ঘরে ফিরেনি৷ তার ঘরে ফিরার আসায় ছোট ছেলে প্রহর দেববর্মা কন্যা সঙ্গিতা দেববর্মা ও স্ত্রী সুনিতা দেববর্মা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে৷ অপরদিকে ছেলেকে খঁুজে পাওয়ার আশায় পিতা ও আত্মীয়স্বজনরা লংতরাই দেবীর পূজা করতেও খামতি রাখেননি৷ আরো জানা যায় গত ২রা ডিসেম্বর এই নিখোঁজ চিত্ত দেববর্মাকে গভীর রাতে মুঙ্গিয়াকামী থানায় ডেকে এনে তদন্তের নামে লকআপে বেধড়ক মারধর করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়৷ কান্ডজ্ঞানহীন পুলিশবাবুরা একবারের জন্যও মারধরের পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মানবিকতাও দেখায়নি৷ একদিন বাড়িতে থেকে ৪ তারিখ সে আরো অসুস্থতা বোধ করলে পরিবারের লোক সহ খোয়াই জেলার বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিকাশ দেববর্মা তাকে তেলিয়ামুড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসে৷ সেখানেই চলে তার চিকিৎসা৷ এমনকি তাকে দেখতে খবর পেয়ে বিজেপি রাজ্য সহ সভাপতি সুবল ভৌমিকও তেলিয়ামুড়ায় ছুটে আসেন৷ হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েও রেহাই নেই চিত্ত দেববর্মার৷ দুদিন পরে পরেই থানার পুলিশবাবুরা চিত্ত দেববর্মার বাড়িতে হানা দেয়৷ একদিকে শারীরিক অসুস্থতা ও অন্যদিকে পুলিশি মারের ভয়ে বর্তমানে সে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে বাড়ি থেকে নিখোঁজ বলে অভিযোগ করে তার পরিবার৷ গত শনিবার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে আজও ঘরে ফিরেনি চিত্ত৷ তার খঁুজে হন্যে হয়ে বেড়াচ্ছে গোটা পরিবার সহ আত্মীয়স্বজনরা৷
পরিবারের লোক তাও জানায় চিত্ত যদি দোষী হত তাহলে তাকে না মেরে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা কেন নেওয়া হল না৷ এদিকে চিত্ত দেববর্মার পুত্র জানায় কোন কারণে যদি বাবার কিছু হয়ে যায় তার সম্পূর্ণ দায় পুলিশের উপর বর্তাবে৷ এদিকে আজ সকাল থেকে স্ত্রী সুনিতা দেবীও স্বামীর খঁুজে কোথায় বেরিয়ে গেছে কেউ বলতে পারছে না৷ এনিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুলিশের ভূমিকায়৷ তার খঁুজে এলাকাবাসী জঙ্গল থেকে গভীর জঙ্গল পর্যন্ত খঁুজে বেড়াচ্ছে৷
অপরদিকে খবর পেয়ে চিত্ত দেববর্মার বাড়িতে ছুটে যান আইপিএফটি তেলিয়ামুড়া মহকুমা কমিটির নেতৃত্ব সুনীল দেববর্মা, উদারকান্ত মলসম সহ অনেকে৷ তারাও মুঙ্গিয়াকামী থানার প্রতি ক্ষুব্ধ৷ পুলিশের এহেন কার্যকলাপের জন্য আগামী ৩০ ডিসেম্বর গণডেপুটেশানে মিলিত হবে আইপিএফটি ৷