কর্মসংসৃকতি লাটে তুলে আন্দোলনে বিএসএনএলের কর্মী ও অফিসাররা

bsnlনিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ ডিসেম্বর৷৷ বিএসএনএলে’র অভ্যন্তরে মতভেদ তুঙ্গে উঠেছে৷ বিএসএনএল ম্যানেজমেন্ট ৬৫ হাজার পৃথক টাওয়ার নিয়ে কোম্পানি তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে৷ অপরদিকে বিএসএনএলে কর্মরত অফিসার ও সর্বস্তরের কর্মীরা ম্যানেজমেন্টের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন৷ বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলিকে অধিক সুযোগসুবিধা পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ধরনের চেষ্টা বলে অফিসার ও কর্মচারীরা অভিমত ব্যক্ত করেছে৷ এই ইস্যুতে তারা তীব্র আন্দোলনে সামিল হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে৷ অথচ লক্ষণীয় বিষয় হল বিএসএনএল’র যেসব কর্মচারী ও অফিসার ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আন্দোলনে সামিল হওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে তারা বিএসএনএল’র  পরিষেবাকে তলানিতে এনে ঠেঁকিয়েছে৷ তাদের বদান্যতাতেই বিএসএনএল’র ভোক্তারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে৷ বিএসএনএল’র পরিষেবার অপর নাম ভোগান্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে৷  তারা নিজেদের দায়দায়িত্ব পালন করার বদলে ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনমুখী হয়ে উঠেছে৷ প্রকৃতপক্ষে বিএসএনএল’র এসব কর্মচারীদের কল্যাণেই বিএসএনএল’র পরিষেবা নিম্নমুখী  হয়ে উঠেছে৷ তারাই বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলিকে মদত দিয়ে আসছে৷ তাদের মদতেই বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলির ভোক্তা সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে৷ বিএসএনএল’র কর্মচারীরা যদি সঠিক পরিষেবা প্রদানে এগিয়ে আসত তাহলে বিএসএনএল’র ভোক্তাদের এতটা দুর্ভোগ পোহাতে হত না৷ ভোক্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা খুবই তিক্ত৷ এরই মধ্যে বিএসএনএল’র অফিসার ও কর্মচারীরা আগামী ১৫ ডিসেম্বর দেশব্যাপী একদিনের প্রতীকি ধর্মঘটের যে ডাক দিয়েছে তা নিয়ে বিএসএনএল’র ভোক্তাদের মধ্যেও বিপরীত প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে৷ নিজেদের কর্মসংসৃকতিকে ফিরিয়ে আনার বদলে অন্তর্জলী যাত্রার দিকে ঠেলে দেওয়ার  নায়করা যে কৌশল নিয়েছে তা যে নিজেদের জন্যই চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ এদিকে বিএসএনএল’র অফিসার ও কর্মীরা মঙ্গলবার কামানচৌমুহনী এবং উত্তরগেইটে  বিক্ষোভ প্রদর্শন করে৷ এমনকি বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে কর্মচারী  ঐক্যমঞ্চ নাম দিয়ে ১৫ ডিসেম্বর দেশব্যাপী একদিনের ধর্মঘটের সিদ্ধান্তের কথা জানায় তারা৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *