প্রতিবন্ধীরা বোঁঝা নয়, তাঁরা সমাজেরই অঙ্গ, বললেন সমাজ কল্যাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩ ডিসেম্বর৷৷ প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়৷ তারাও সমাজেরই অঙ্গ৷ বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস

শনিবার আগরতলায় প্রতিবন্ধি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধিরা৷ নিজস্ব ছবি৷
শনিবার আগরতলায় প্রতিবন্ধি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধিরা৷ নিজস্ব ছবি৷

-২০১৬ উদযাপন উপলক্ষে আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের ১ নং হলে সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে এক সাংসৃকতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনাচক্র উদ্বোধন করে একথা বলেন দপ্তরের মন্ত্রী বিজিতা নাথ৷ উদ্বোধকের ভাষণে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীরা অনুকম্পার পাত্র নয়, তারা সহমর্মিতাও চায় না৷ সরকার থেকে আমরা শুধু তাদের একটু উৎসাহ দিয়ে সাহস যোগাতে চাই যে, সরকার তাদের পাশে রয়েছে৷ তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের বাদ দিয়ে সমাজ তথা রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়৷ রাজ্য সরকার প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে অনেকগুলি ভাতা চালু রয়েছে৷ তাদের কর্মসংস্থানের পাশাপাসি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কিছু কার্যক্রমে চালু করতে চাইছে যাতে সরকারী কাজের বাইরেও তারা উপার্জনশীল হতে পারেন৷ এ কাজে তিনি বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি সহ প্রতিবন্ধীদের নিয়ে যে সমস্ত সংগঠন কাজ করছে তাদের আরও সক্রিয় ভাবে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান৷
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির ভাষণে পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি দিলীপ দাস বলেন, প্রতিবন্ধীরা যাতে সমাজে কোন ভাবেই অবজ্ঞার পাত্র না হন সে দিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে৷ তিনি বলেন, এই দিবসটি উদযাপনের মূল উদ্দেশ্য হল আমরা প্রতিবন্ধীদের সাথে আছি, তা জানান দেওয়া৷ শ্রী দাস বলেন, দেশে ও রাজ্যে এমন অনেক প্রতিবন্ধী আছেন যারা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন৷ প্রতিবন্ধীদের নিয়ে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচীর উল্লেখ করে তিনি বেসরকারী ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সুবিধা করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন৷ বিশেষ অতিথির ভাষণে ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন মণিকা দত্ত রায় বলেন, প্রতিবন্ধীরাও যাতে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেন তা দেখার দায়িত্ব সবার, কিন্তু সারা দেশেই তাদের শিক্ষা, সংসৃকতি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে পরিকাঠামো থাকার কথা তা অনুপস্থিত৷ অথচ বিশ্বে এমন অনেক প্রতিবন্ধী আছেন যারা সাহিত্য, সংসৃকতিতে, কৃষ্টিতে উজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছেন৷ প্রসঙ্গ ক্রমে তিনি হেলেন কিলারের নাম উল্লেখ করেন৷ অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি সনমোহনী দেবনাথ, ত্রিপুরা দক্ষতা উন্নয়ন মিশনের চেয়ারপার্সন ড এস কে পান্ডা, সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব চৈতণ্য মূর্তি৷ স্বাগত ভাষণ দেন দপ্তরের দায়িত্ব প্রাপ্ত অধিকর্তা প্রমোদ দেববর্মা৷ শুরুতে নরসিংগড়স্থিত দৃষ্টিহীন বালক বিদ্যালয়ের শিশুরা উদ্ভোদনী সংগীত পরিবেশন করেন৷ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রতিবন্ধীদের দ্বারা আয়োজিত হয় একক সঙ্গীত, সমবেত সঙ্গীত, সমবেত নৃত্য, সমবেত লোকনৃত্যের মনোজ্ঞ সাংসৃকতিক অনুষ্ঠান৷ সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা মন্ত্রী বিজিতা নাথ এদিন বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে ত্রিপুরা দক্ষতা উন্নয়ন মিশন আয়োজিত প্রদর্শনী স্টলের ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *