নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ নভেম্বর৷৷ সোমবার বামেদের ডাকে ত্রিপুরা বন্ধ৷ নোট বাতিলের প্রেক্ষিতে ভোগান্তির প্রতিবাদে এই বন্ধ আহ্বান করা হয়েছে৷ বামেদের এই বন্ধ ঘিরে রাজ্যে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে৷ এদিকে, নোট ভোগান্তির প্রতিবাদে আগামী ২৮ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গেও বন্ধ আহ্বান করেছে বামেরা৷ এই বন্ধ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে৷ নোট বাতিল ইস্যুকে হাতিয়ার করে বিরোধী দলগুলি একমঞ্চে এসে দিল্লীতে সংসদ ভবনের সামনে ধর্ণা দিয়েছিল৷ বিরোধীদের একমঞ্চে নিয়ে আসার কাজটা শুরু করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী৷ সংসদ চত্বরে হাতে হাত ধরে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয় বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল৷ বিরোধী ঐক্যের রেড লেটার ডে-তে মঞ্চ থেকেই পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করেছিলেন মমতা ব্যানার্জী৷ কিন্তু, সেই পরিকল্পনার সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছেনা বাস্তবের৷ বামেরা বন্ধের ডাক দিল কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায়৷ অথচ, বন্ধের বিরোধীতায় সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী৷ শুধু তাই নয় চিরশত্রু বামেদের বন্ধ মোকাবিলার কথাও ঘোষণা করলেন তিনি৷ কংগ্রেসও বামেদের বন্ধের বিরোধীতা করেছে৷
জোট কাহিনীতে অন্যতম চমক হচ্ছে জেডিইউআই নোট ইস্যুতে শুরু থেকেই মোদিকে নীতিগত ভাবে সমর্থন করে আসছিল৷ অথচ, সংসদে বিরোধী ঐক্যেও আগাগোড়া হাজির থাকতে দেখা যায় জেডিইউআইয়ের শরদ যাদবকে৷ মমতার ধর্ণা মঞ্চে দাঁড়িয়ে নোট বিরোধী আন্দোলনকে দেশের প্রতি কোনায় পৌঁছে দেওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি৷ সোমবারের আক্রোশ দিবসে সামিল হচ্ছে না জেডিইউআই৷ বিরোধী ঐক্যের এই অচলাবস্থা দেখে শাসক মোদি শিবিরে কিছুটা স্বস্তি এসেছে৷ বামেদের এই বন্ধ থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে বিরোধী ঐক্যের যে পরিকল্পনা নিয়ে মমতা ব্যানার্জী দিল্লীতে তৎপরতা চালিয়েছিলেন তা অনেকটাই ফিকে হয়ে গিয়েছে৷
এদিকে, নোট বদলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২৮ নভেম্বর সোমবার বামশাসিত রাজ্য ত্রিপুরায় ১২ ঘন্টার বনধের ডাক দিয়েছে বামফ্রন্ট৷ বনধের সমর্থনে রাজধানী আগরতলা সহ রাজ্যের সর্বত্রই ব্যাপক প্রচারও সংগঠিত হয়৷ বনধের বিরোধীতা করেও প্রচারে সামিল হয়েছে বিজেপি৷ প্রচার ও পাল্টা প্রচারে সাধারণ মানুষ রীতিমত বিভ্রান্ত হয়েছেন৷ নোট বদল নিয়ে সাম্প্রতিককালে যে সমালোচনার ঝড় বইছে তা সাধারণ মানুষের কাছে কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ বিষয়টিকে পঁুজি করেই বামফ্রন্ট রাজ্যে সোমবার সকাল সন্ধ্যা ১২ ঘন্টার বনধের ডাক দিয়েছে৷ বামফ্রন্ট আয়োজিত এই বনধ সর্বাত্মক সফল করার জন্য বিভিন্ন শাখা সংগঠনের তরফ থেকেও আবেদন জানানো হয়েছে৷ বনধকে কেন্দ্র করে যাতে কোন ধরনের অঘটন ঘটতে না পারে সে জন্য প্রশাসনের তরফ থেকেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে৷ শাসক বামফ্রন্ট বনধের সমর্থনে গত কয়েকদিন ধরেই ব্যাপক প্রচার চালিয়ে আসছে৷ বনধের প্রাক্মুহূর্তে রবিবার রাজধানী আগরতলা শহরে ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে মাইক যুগে বহুল প্রচার চালিয়েছে৷ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও মহকুমা থেকেও বনধের সমর্থনে প্রচার চালানোর খবর মিলেছে৷ মূলত ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বদলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই বামপন্থীরা ২৮ নভেম্বর বনধ আহ্বান করেছে৷ বামফ্রন্ট বনধ আহ্বান করলেও এর তীব্র বিরোধিতা করেছে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিজেপির নেতৃবৃন্দ৷ পক্ষান্তরে বাম প্রধান শরিক সিপিএম অভিযোগ করেছে মোদি সরকার কেন্দ্রের শাসন ক্ষমতা হাতে পেয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছে৷ হঠাৎ ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বদলের যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তা অনৈতিক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে৷ এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিপর্যস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ কৃষক,শ্রমিক মেহনতি অংশের মানুষ জটিল সমস্যার সম্মুখীন৷ এই সমস্যা কখনই নিরসন হবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ণ দেখা দিয়েছে৷