BRAKING NEWS

স্বাস্থ্য দপ্তরের চরম উদাসীনতায় রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে মিলছে না পর্যাপ্ত ভেকসিন, সর্প দংশনে আরও এক মহিলার মৃত্যু, চৌদ্দজনের জীবনদীপ নিভল ছয় মাসে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ আগষ্ট৷৷ সর্প দংশনে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে চলেছে৷ কোন হেলদোল নেই রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের৷ হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত AGMCপরিমাণে সর্প দংশনের রোগীদের ভেকসিন এন্টি ভেনাম সিরাম৷ আর এজন্য অকালে প্রাণ যাচ্ছে বহু মানুষের৷ গত ছয় মাসে চৌদ্দ জনের মৃত্যু হয়েছে সর্প দংশনে৷ প্রতিটি ক্ষেত্রেই হাসপাতালে ভেকসিন না থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে৷ মঙ্গলবারও এক উপজাতি মহিলার মৃত্যু হয়েছে৷ তিনদিন আগে আরও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে ভেকসিন না থাকায়৷
বিষধর সাপের দংশনে মৃত্যু হল এক উপজাতি মহিলার৷ মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটে সাব্রুম মহকুমার চালিতাছড়া ঠাকুরছড়া এলাকায়৷ মৃতার নাম পঞ্চলক্ষ্মী ত্রিপুরা৷ ঘটনার পর মনু ও উদয়পুর হাসপাতালে নিয়ে গেলেও সর্প দংশনের ওষুধ না থাকায় জি বি হাসপাতালে আনার পথে মৃত্যু হয় তাঁর৷
সংবাদ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক আড়াইটা নাগাদ সাব্রুমের চালিতাছড়া ঠাকুরছড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে৷ ঘুমন্ত অবস্থায় একটি বিষধর সাপ দংশন করে পঞ্চলক্ষ্মী ত্রিপুরার হাচে৷ সঙ্গে সঙ্গে তিনি অসুস্থ হয় পড়েন৷ চিৎকার শুরু করলে পাশের ঘর থেকে তার ছেলে ছুটে এসে সাপটিকে মেরে ফেলেন৷ সঙ্গে সঙ্গেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মনু হাসপাতালে৷ সেখানে সর্প দংশরে ওষুধ না থাকা সত্বেও তাকে রেখে দেন চিকিৎসকরা৷ এদিকে পঞ্চলক্ষ্মীর অবস্থা সংকটজনক হতে থাকেল বুধবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গোমতী জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়৷ কিন্তু সেখানেও সর্প দংশনের ওষুধ না থাকায় আগরতলা জি বি হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়৷ জি বি হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ চিকিৎসকরা জানান হাসপাতালে পৌঁছার আগেই রাস্তায় পঞ্চলক্ষ্মী ত্রিপুরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন৷
আশ্চর্য্যজনক বিষয় হচ্ছে, যেখানে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর প্রতিটি হাসপাতালকে আধুনিক করে সাজাচ্ছে সেখানে সর্প দংশনের ওষুধই নেই গোমতী জেলা হাসপাতালে৷ পরপর দুটি হাসপাতালে ওষুধ না থাকায় অকালে প্রাণ গেল ঐ রমণীর৷ এনিয়ে নানা প্রশ্ণ উঠতে শুরু করেছে৷ সম্প্রতি কমলপুরেও ওষুধের অভাবে প্রাণ গিয়েছে এক ব্যক্তির৷ বিজ্ঞানের যুগে মানুষ যখন কুসংস্কার মুক্ত হয়ে বেড়িয়ে আসছেন তখন বড় বড় ইমারত গড়ে হাসপাতাল খোলা হলেও সেখানে অভাব রয়েছে ওষুধের৷ তা আবারও প্রমাণিত৷ তবে, দুটি হাসপাতালে ওষুধের যোগান থাকলে পঞ্চলক্ষ্মীকে বাঁচানো সম্ভব হত বলে মনে করছেন তথ্যাভিজ্ঞ মহল৷
এদিকে, গত চৌদ্দ আগষ্ট একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছিল কমলপুর মহকুমার মায়াছড়ি পঞ্চায়েতে৷ গ্রামের যুবক শ্রীধর কন্দ (১৮) বিষধর সাপের দংশনে মারা াযয়৷ সর্প দংশনের সাথে সাথেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বিমল সিংহ মেমোরিয়াল হাসপাতালে৷ তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক ছিলেন প্রণব দেববর্মা৷ হাসপাতালে এন্ডি ভেনাম সিরাম না থাকায় জি বি হাসপাতালে রেফার করেন৷ পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতার জন্য তাকে জি বি হাসপাতালে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি৷ বাড়িতেই বিষধর সাপের দংশনে মারা যায় সে৷ এখানেও তার মৃত্যু হয় ভেকসিনের অভাবে৷
একের পর এক সর্প দংশনের রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় একাংশ স্বাস্থ্যকর্মীও উদ্বিগ্ণ৷ প্রতিটি হাসপাতালে নিয়ম অনুযায়ী এন্টি ভেনাম সিরাম থাকার কথা৷ কিন্তু প্রতিটি হাসপাতালেই এই প্রতিশেধকের অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ আর সঠিক সময়ে প্রতিশেধক না দেওয়ার দরুন অকালে প্রাণ যাচ্ছে বহু মানুষের৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *