নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৪ জুন৷৷ আজকের প্রজন্ম আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে৷ তারা দায়বদ্ধতা সম্পর্কে উদাসীন৷ আর

এটা স্বার্থপরতার লক্ষণ৷ কারণ, তাদের মধ্যে ক্রমাগত লোভ বাড়ছে৷ ফলে, রক্তদানের মত সামাজিক কর্মযজ্ঞে আজকের প্রজন্মকে আত্মবিনিয়োগ করার জন্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও গুরুত্ব সহকারে দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ তাঁর দাবি, তবেই ছেলেমেয়েরা ভালো মানুষ হয়ে উঠতে পারবে৷
মঙ্গলবার বিশ্বরক্তদাতা দিবস পালিত হয়৷ রক্তের গ্রুপের আবিষ্কারক ডাঃ কার্ল ল্যান্ডস্টেইনারের জন্মদিনটিতে এই দিবস পালন করা হয়৷ এদিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার স্পষ্টভাবে বলেন, আজকের প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে৷ তারা সমাজ সম্পর্কে কোন খোঁজখবর রাখে না৷ সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা সম্পর্কেও তারা সম্পূর্ণভাবে উদাসীন৷ এটা স্বার্থপরতার লক্ষণ৷ কারণ, তাদের মধ্যে লোভ ক্রমশ বাড়ছে৷ নবীন প্রজন্মকে এই পথ থেকে সরিয়ে এনে রক্তদানের মত সামাজিক কর্মকান্ডে আত্মবিনিয়োগ যাতে করা যায় তার জন্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও গুরুত্ব নেওয়ার দায়িত্ব তিনি দিয়েছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেকোন বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে৷ তবে ছাত্রছাত্রীদের মনোযোগী করে তোলার জন্য শিক্ষকদেরও যথেষ্ট দায়িত্ব রয়েছে৷ একদিকে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনায় ভালো হতে হবে তেমনি সামাজিক দিক দিয়েও তাদের ছাপ রাখতে হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এক সময় রাজ্যে কলকাতা থেকে ট্রাকে করে রক্ত আসত৷ দেখা যেত, সে রক্ত রোগীর কাছ থেকে পৌঁছতে সেই রোগী পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে৷ কিন্তু আজ রাজ্যে অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে৷ একশ শতাংশ রক্ত সংগ্রহ করা সক্ষম না হলেও প্রায় ৯৪ থেকে ৯৮ শতাংশ রক্ত স্বেচ্ছায় সংগৃহীত হচ্ছে৷ তবে, একশ শতাংশ রক্ত নিয়েই বসে থাকলে চলবে না বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ তাঁর মতে, রক্ত সংগ্রহে একশ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে হবে৷ কারণ, প্রয়োজন বোধে উদ্ধৃত্ত রক্ত বর্হিরাজ্যে যেখানে রক্তের চাহিদা বা প্রয়োজন রয়েছে সেখানে পাঠানো যেতে পারে বিপন্ন মানুষের জন্য৷ দেশে এখনো এমন বহু রাজ্য রয়েছে যেখানে রক্তের প্রয়োজন আছে৷ সেক্ষেত্রে উদ্ধৃত্ত রক্ত সেসব স্থানে পাঠানো যেতে পারে বলেন তিনি৷ তবে, পুরনো রক্তদাতাদের পাশাপাশি নতুন নতুন রক্তদাতাদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে আরো বেশি উৎসাহিত করে তুলতে হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন৷ বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী যুব সমাজ এখন থেকেই মানব কল্যাণে স্বেচ্ছায় রক্তদানের মত মহৎ কর্মসূচীর সাথে যুক্ত হবার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে৷
এদিকে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরী রাজ্যে রক্ত সংগ্রহের হার যথেষ্ট প্রশংসনীয়৷ ১৫-১৬ অর্থবছরে ২৮৭০৮ ইউনিট রক্ত সারা রাজ্যে সংগ্রহ হয়েছে৷ তাতে, আগামী অর্থবছরে ৩৫ হাজার ইউনিট রক্ত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ এদিন তিনি জানান, সকলেই উপলব্ধি করতে পারছেন রক্তদান মহৎ কাজ৷ ফলে, একাধিকবার রক্তদান করেছেন প্রায় ৫৯ শতাংশ মানুষ৷ বর্তমান সময়ে মহিলারাও রক্তদানে এগিয়ে আসছেন৷ ১৫-১৬ অর্থবছরে মোট রক্তদাতাদের মধ্যে পুরুষ ৮৯ শতাংশ এবং মহিলা ১১ শতাংশ রক্ত দান করেছেন৷ তবে রক্তদানের ক্ষেত্রে এখনো উৎসাহে ঘাটতি রয়েছে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, ভ্রান্ত ধ্যানধারণা বদলে প্রত্যেকে যেন রক্তদানে এগিয়ে আসেন সে দিকে সকলকে উৎসাহ দিতে হবে৷
এদিন এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুর নিগমের মেয়র ড প্রফুল্লজিৎ সিনহা, স্বাস্থ্য সচিব এল এইচ ডার্লং, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সচিব স্বামী হিতকামানন্দ মহারাজ এবং প্রজাপিতা ব্রহ্মকুমারী ঈশ্বরীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত সঞ্চালিকা কবিতা বেহেনজি৷ এদিন এই অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় রক্তদানে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়৷ এছাড়াও আরো সাতটি সংগঠনকে বিশেষভাবে সম্মাননা দেওয়া হয়৷

