নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৬ মে৷৷ রাজ্য পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত ডিএসপি দেবজ্যোতি গৌতমকে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩৪২ এবং ৩২৫ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে দুবছরের কারাদন্ড দিল সদরের ফাস্ট ক্লাস জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট৷ পরবর্তী সময়ে জামিনে ছাড়াও পেয়ে যান ডিএসপি গৌতম ৷ ১৬ বছর মামলাটি চলছিল৷ দেবজ্যোতি গৌতমের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন মোহনপুরের প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক রাধামোহন দেবনাথের পুত্র পরিমল দেবনাথ৷
রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিএসপি তৎকালীন সময়ের সার্কেল ইন্সপেক্টর দেবজ্যোতি গৌতমকে নিরাপরাধ ব্যক্তিকে নির্যাতনের অপরাধে দুই বছরের কারাদন্ড দিলেন সদরের ফাস্টক্লাস জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট৷ দেবজ্যোতি গৌতম ২০০০ সালের জুন মাসের সদর নর্থ-এর সার্কেল ইন্সপেক্টর পদে নিযুক্ত ছিলেন৷ ২০০০ সালের ২০ জুন সন্ধ্যায় মোহনপুর এলাকার প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক রাধামোহন দেবনাথের ছেলে পরিমল দেবনাথকে মোহনপুর থানার ওসি মিহির রায় থানায় ডেকে এনে রাতভর অহেতুক লকআপে আটকে রাখেন৷ পরদিন অর্থাৎ ২১ জুন থানায় সদর নর্থ-এর সার্কেল ইন্সপেক্টর দেবজ্যোতি গৌতমের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানে দেবজ্যোতি গৌতম অহেতুক পরিমল দেবনাথকে প্রচন্ডভাবে মারধর করেন৷ তার মারের চোটে বাঁ পা ও ডান হাত ভেঙ্গে যায় মোহনপুরের প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক রাধামোহন দেবনাথের পুত্র পরিমল দেবনাথের৷ পরিমলকে চিকিৎসার জন্য মোহনপুর হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়৷ সেখান থেকে তাকে জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল৷ ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ২২ জুন মোহনপুর প্রাক্তন বিধায়ক এফআইআর করতে মোহনপুর থানায় যান৷ কিন্তু কোন এক রহস্যজনক কারণে প্রাক্তন বিধায়কের এফআইআর গ্রহণ করেনি মোহনপুর থানা কর্তৃপক্ষ৷ থানায় এফআইআর না রাখায় ২৯ জুন তখনকার এসপি ওয়েস্ট অরিন্দম নাথের কাছে প্রাক্তন বিধায়ক লিখিতভাবে অভিযোগ জানান৷ কিন্তু পশ্চিম জেলার তৎকালীন এসপি অরিন্দম নাথ ১০ জুলাই মোহনপুরের প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় রাধামোহন দেবনাথের পরিবারকে ধমক দিয়ে আসেন৷ এই ঘটনায় আরো ক্ষেপে যান প্রাক্তন বিধায়ক পুত্র পরিমল দেবনাথ৷ তিনি আহত শরীর নিয়েই ১১ জুলাই অর্থাৎ অরিন্দম নাথের সফরের পরের দিন পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করেন৷ ২০০৯ সালের ১৪ নভেম্বর এই মামলায় দেবজ্যোতি গৌতমের চার্জ গঠন করা হয়৷ গৌতমের বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩৪২ এবং ৩২৫ ধারায় মামলা গ্রহণ করা হয়৷ এই মামলায় পরিমলের পক্ষে সাক্ষী দেন পরিমল স্বয়ং, প্রাক্তন বিধায়ক তথা পরিমলের বাবা রাধামোহন দেবনাথ, পরিমলের মা, স্ত্রী এবং চিকিৎসক৷ অপরদিকে এই মামলার সাফাই সাক্ষী দেন দেবজ্যোতি গৌতম নিজে এবং মোহনপুর থানার তৎকালীন ওসি মিহির রায়৷ দীর্ঘ ১৬ বছর পর বৃহস্পতিবার সদরের ফাস্টক্লাস জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাম সিভিল জজ ঈশিকা খাঁ দেবজ্যোতি গৌতমকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩৪২ ধারায় ১ বছর কারাদন্ড, এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ২০ দিনের কারাবাস এবং ৩২৫ ধারায় ২ বছরের কারাদন্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমান অনাদায়ে আরো ৬০ দিনের কারাবাসের রায় দেন৷ পরিমল দেবনাথের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মণ এবং আইনজীবী বিজন সাহা৷ বৃহস্পতিবার আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মণ এই সংবাদ জানান৷
রাজ্যের বর্ষীয়ান আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মণ জানান, এটি শুধুমাত্র ব্যক্তি পরিমল দেবনাথের জন্যই রায় নয়৷ যারাই হাজত হিংসার শিকার হয়েছেন এই রায়ে তারা উজ্জ্বীবিত হবেন৷ পরিমলের বিরুদ্ধে পুলিশ যেটা করেছে সেটা অপরাধ৷ এই রায়কে স্বাগত জানান রায় বর্মণ এবং পরিমল দেবনাথের লড়াকু মানসিকতারও ধন্যবাদ জানান তিনি৷
2016-05-27

