স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

court hammerনিজস্ব প্রতিনিধি, সোনামুড়া, ২৩ এপ্রিল৷৷ পরকিয়া প্রেমের জের৷ পর পুরুষের যোগ সাজশে নিজের স্বামীকে হত্যা করেও রেহাই পেলনা এক গৃহবধূ৷ যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড হল ঐ গৃহবধূ ও তার প্রেমিকের৷ শনিবার মঞ্জু দেবনাথ ও তার পরকিয়া প্রেমিক সঞ্জয় দত্তের বিরুদ্ধে এই সাজা ঘোষণা করে সোনামুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত৷ প্রায় ৫ বছর আগে ঘটনাটি ঘটেছিল মেলাঘর থানাধীন উত্তর জুমেরঢেপা এলাকায়৷
স্বামী বিকলাঙ্গ৷ এই কারনে দুই ছেলে মেয়ে ও স্বামীর সংসারের অভাব ঘোচাতে বিশ্রামগঞ্জের সঞ্জয় দত্তের হোটেলে কাজ করতো উত্তর জুমের ঢেপার গৃহবধূ মঞ্জু দেবনাথ৷ সেই থেকেই হোটেল মালিক সঞ্জয় দত্তের সাথে অবৈধ ও পরকিয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরে মঞ্জু৷ প্যারালাইসিসে বিকলাঙ্গ হয়ে পরা স্বামী ও দুই ছোট ছোট ছেলে মেয়েকে ঘরে ফেলে তার আগেও দুইবার বিবাহিত সঞ্জয়ের হাত ধরে ঘর থেকে পালিয়েছিল মঞ্জু৷ ১১/০৭/২০১০ তারিখে পরকিয়া প্রেমিক ও মঞ্জু মিলে, মঞ্জুর স্বামী শ্রীদাম দেবনাথকে খুন করে৷ দেহের পাশে পরে থাকা বিষের শিশি ও পারিপার্শিক অবস্থায় যে সময় ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই মনে হয়েছিল৷ পুলিশ ও অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছিল৷ কিন্তু শ্রীদামের স্ত্রী মঞ্জু ও তার পরকিয়া প্রেমিক পালিয়ে যাওয়ার সন্দেই ঘনিভুত হয়৷
স্বামীকে খুন করে পরপুরুষের হাত ধরে কমিরগঞ্জের সন্ধ্যা দত্তের বাড়িতে স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ভাড়া থাকতে শুরু করে দুজন৷ কিন্তু সাত দিনের মধ্যেই ভোল বদল করে ফেলেছিল সঞ্জয় দত্ত৷ অপর এক পুরুষের সঙ্গে বিছানা ভাগ করতে মঞ্জুকে সঞ্জয় চাপ দিলে বাড়ির মালিককে আসল ঘটনা খুলে বলে মঞ্জু৷ বাড়ির মালিকের মাধ্যমে সেখানকার থানা মারফত মেলাঘর থানায় খবর আসলে পুলিশ করিমগঞ্জ থেকে দুজনকেই গ্রেপ্তার করে৷ শনিবার এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলারই সাজা ঘোষিত হয়েছে বলে জানান মামলাটির সরকার পক্ষের আইন জীবি এপিপি সঞ্জীৎ চক্রবর্তী৷ সোনামুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক সুভাশিষ শর্মা রায় দোষীদের বিরুদ্ধে ঘোষণা করেন এই সাজ৷ মামলাটির তদন্তকারি অফিসার ছিলেন এস আই বলরাম সেন৷ মোট ২২ জনের সাক্ষ্য বাক্য গ্রহন করা হয়৷