নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৯ মার্চ৷৷ অবশেষে আগরতলা থেকে সরাসরি কলকাতা বা দিল্লী ছুটবে রেল৷ সেই দিন আর বাকী নেই৷ সম্ভবত, বাংলা নববর্ষের দিন বা এর আগেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণের মধ্য দিয়েই ত্রিপুরার রেল ইতিহাসে নবযুগের সূচনা হতে চলেছে৷ সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছেন রেলের সেফটি কমিশনার এস কে পাঠক৷ ব্রডগেজ যাত্রী রেলের এই সূচনার, এই ঐতিহাসিক লগ্ণের, সেই স্বর্ণালী দিনের শুভ মুহুর্তের গভীর প্রতিক্ষায় ত্রিপুরার মানুষ৷ মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে সেফটি কমিশনার জানিয়েছেন, আগরতলা-কুমারঘাট ১০৭ কিমি ব্রডগেজ লাইনে সুরক্ষা পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে৷ তাতে ব্রডগেজ রূপান্তরের কাজ যথেষ্ট সন্তোষজনক বলে তিনি মন্তব্য করেছেন৷ পাশাপাশি খুব শীঘ্রই আগরতলা থেকে ব্রডগেজে যাত্রী রেল পরিষেবা শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন৷
এদিন তিনি সঠিক তারিখ সম্পর্কে কোনকিছু জানাতে না চাইলেও, সম্ভবত বাংলা নববর্ষের আগেই চালু হয়ে যেতে পারে যাত্রী রেল পরিষেবা, এমনটাই ইঙ্গিত মিলেছে৷ তাঁর মতে, রেলের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ আধিকারীকদের সাথে আলোচনায় একটা বিষয় স্পষ্ট আর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্য থেকে ব্রডগেজে যাত্রী রেল পরিষেবার সূচনা হতে চলেছে৷ তখন আগরতলা থেকে রেলে বসে সরাসরি দিল্লী যাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সেফটি কমিশনার৷
এদিকে, একই সাথে হয়ত উদয়পুর থেকেও যাত্রী রেল পরিষেবা চালু হতে পারে৷ এদিন, সেফটি কমিশনার জানিয়েছেন, উদয়পুর পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইন সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে৷ ইতিমধ্যে পণ্যবাহী রেল উদয়পুর পর্যন্ত গেছে৷ ফলে যাত্রী পরিষেবার লক্ষ্যে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহেই উদয়পুর পর্যন্ত রেল লাইনের সুরক্ষা পর্যবেক্ষণ করা হবে৷ যেহেতু উদয়পুর স্টেশনের সিগন্যালিংয়ের কাজ এখনো শেষ হয়নি৷ সেজন্যই দিন ১৫ দেরি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন৷ এদিন তিনি ঘোষণা অনুযায়ী সময়ের মধ্যে ব্রডগেজ সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন হওয়ার জন্য পূর্বোত্তর রেল কর্তৃপক্ষদের পিঠ চাপরিয়েছেন৷ একই সাথে এই কাজে সবরকমভাবে সহযোগিতা করার জন্য তিনি রাজ্য সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং রেল মন্ত্রকেরও অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন৷
এদিকে, বুধবার থেকে তিনি কুমারঘাট-বদরপুর লাইনের সুরক্ষা পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানিয়েছেন৷ পূর্বোত্তর সীমান্ত রেলওয়ে আধিকারীকদের মতে, ঐ লাইনেও যথেষ্ট ভাল কাজ হয়েছে৷ ফলে, সেফটি কমিশনার কুমারঘাট-বদরপুর লাইনেও সুরক্ষা পর্যবেক্ষন করে সন্তোষ প্রকাশ করবেন বলে আশাবাদী রেলওয়ে আধিকারীকরা৷
এদিন সেফটি কমিশনার জানিয়েছেন, আগরতলা- কুমারঘাট রুটে যে ট্র্যাক নির্মাণ হয়েছে তাতে ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা গতিবেগে রেল চালানো যাবে৷ তবে, ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা গতিবেগে এই রুটে রেল চালানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন৷ সুরক্ষা পর্যবেক্ষণে সর্বাধিক ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা গতিবেগে ট্রলি চালিয়ে দেখা হয়েছে৷ এদিন তিনি বলেন, আগরতলা থেকে কুমারঘাট পর্যন্ত মোট ১০টি স্টেশন থাকবে৷ তাতে ৬টি ক্রসিং স্টেশন ৪টি হলটিং স্টেশন৷ এই রুটে ১৩টি আরওবি(রোড ওভার ব্রিজ) এবং ৭টি আরইউবি(রোড আন্ডার ব্রিজ) রয়েছে৷ ৬টি লেভেল ক্রসিং, ১৫টি বড় ব্রিজ এবং ১৮১টি ছোটখাট ব্রিজ এই রুটে রয়েছে৷ আগরতলা থেকে কুমারঘাট পর্যন্ত কিছু জায়গায় পাহাড়ে বাঁক থাকায় সে সব জায়গায় প্রতি ঘন্টায় ১৯ কিলোমিটারের বেশি গতিবেগে রেল চালানো সম্ভব হবে না৷ তবে, বর্ষা মরশুমে ধবসের বিপত্তি মোকাবেলায় পূর্বোত্তর সীমান্ত রেলওয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেললাইন নির্মাণ করেছে৷ মনু থেকে আমবাসা পর্যন্ত ট্যানেল নাম্বার তিন সহ কয়েকটি জায়গায় ধবস পড়ে৷ ফলে, সে সব জায়গায় ধবসের বিপত্তি মোকাবিলায় পূর্বোত্তর সীমান্ত রেলওয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে কাজ করেছে তা যথেষ্ট সন্তোষজনক বলে তিনি মন্তব্য করেছেন৷
এদিন তিনি রেলওয়ে সিগন্যালিংয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন৷ সারা দেশের সাথে পাল্লা দিয়ে পূর্বোত্তর সীমান্ত রেলওয়ে আগরতলা থেকে কুমারঘাট পর্যন্ত রেল লাইনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সিগন্যালিং এর ব্যবস্থা রেখেছে৷ এছাড়াও স্টেশনগুলির কাজও যথেষ্ট সন্তোষজনক বলে তিনি জানিয়েছেন৷ এদিন তিনি বলেন, আগরতলা রেল স্টেশনে যে বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে তা সমগ্র পূর্বোত্তরের মধ্যে আদর্শ৷
সেফটি কমিশনার এদিন আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কের বেহাল দশার ফলে প্রায়ই রাজ্য বাসী সমস্যার মুখে পড়েন৷ সে কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্রডগেজে রেল চালু হলেই রাজ্যবাসী নানাভাবে উপকৃত হবেন৷ একদিকে যেমন, সারা দেশের সাথে আরো সহজে যোগাযোগ সম্ভব হবে৷ তার সাথে কম সময়ে কম খরচে পণ্য সামগ্রী নিয়ে আসা সম্ভব হবে৷ তবে, ব্রডগেজে যাত্রী রেল পরিষেবা শুরু হলে কোন কোন এক্সপ্রেস ট্রেন দেওয়া হবে সে বিষয়ে কোন মন্তব্য তাঁর এক্তিয়ারে নেই বলে জানিয়েছেন৷ রেলমন্ত্রক এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে৷ এদিকে, বুধবার থেকে কুমারঘাট-বদরপুর রুটে সুরক্ষা পর্যবেক্ষণ৷ তা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়ে যাবে আগরতলা থেকে ব্রডগেজে যাত্রী রেল পরিষেবা৷
2016-03-30