নিজস্ব প্রতিনিধি, খোয়াই, ২৯ মার্চ৷৷ খোয়াই জেলা হাসপাতালের দুই পুরুষ সেবকের সচেতনতায় প্রাণ বাঁচল আড়াই মাসের এক শিশু কন্যার৷ হাসপাতালের সেবকের সামান্যতম অন্যমনস্ক হলেই ঘটে যেত দুর্ঘটনা৷ মুমূর্ষ এক আড়াই মাসের শিশু কন্যার জন্য ইনজেকশান কিনে আনতে গেলে ওষুধ এর দোকান মালিক শিশুর মায়ের হাতে ধরিয়ে দেয় মেয়াদ উত্তীর্ণ ইনজেকশান৷ যা ঐ শিশুর শরীরে প্রবেশ করলে তার জীবনদীপও চিরতরে নিভে যেত৷ খোয়াই শহরের কিছু কিছু ওষুধ ব্যবসায়ী মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ হাসপাতালের জরুরি পরিষেবা নিতে আনা রোগীর আত্মীয় পরিজনদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে৷ ব্যবসায়ীরা নিজেরাই খবর রাখেন না কোন ওষুধ কবে মেয়াদ পেরিয়ে যাচ্ছে৷ বাজার থেকে কিনে আনা ওষুধ হাসপাতালের যুবকরা ভুলবশত যাচাই না করে রোগীর শরীরে পুশ করে দিলেই বিপদ হয়ে যেত৷ খোয়াইয়ের ওষুধ এর দোকানগুলিতে কি পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ মজুত রয়েছে তার কোন তদারকি হয় না৷ ঐ সমস্ত ওষুধ সেবন করে বা পুশ করে কোন দুর্ঘটনা ঘটে গেলে পর মুহূর্তে ওষুধ বিক্রেতা সরাসরি অস্বীকার করেন৷ তিনি তা বিক্রি করেননি বলে৷ যেহেতু খোয়াইতে মেমো কেটে ওষুধ বিক্রির প্রথা চালু নেই সেহেতু মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া জীবনদায়ী ওষুধ বিক্রি এখনো খোয়াইতে জারি আছে৷ মঙ্গলবার বিকেল সন্তান মৌ গোয়ালকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন মুমূর্ষ অবস্থায় সিশুটি নিমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে আসে৷ শিশুটিকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে চিকিৎসক কিছু ওষুধ লিখে দেন দ্রুত কিনে নিয়ে আনার জন্য৷ চিকিৎসকের লিখা ওষুধগুলির মধ্যে সিএলওভিএএম-১৫০ একটি ইনজেকশানও রয়েছে৷ শিশুটির মা হাসপাতাল সংলগ্ণ একটি ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কিনে নিয়ে আনার পর হাসপাতালের দুই পুরুষ সেবক জরুরি ভিত্তিতে সিএলএভিএএম এর পাউডারটি ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তেই মেয়াদ পেরিয়ে গেছে৷ সঙ্গে সঙ্গেই তারা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং পরে মুমূর্ষ শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জিবি হাসপাতালে রেফার করেন৷ এই ঘটনায় জনসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়ায় ঐ ওষুধ ব্যবসায়ীদের উপর৷
2016-03-30