জেটলির বাজেটে দুর্দিনের ঘনঘটা

Budgetনয়াদিল্লি, ২৯ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): আচ্ছে দিনের ফেরিওয়ালারা সাধারণ বাজেটে হতাশ করলেন দেশবাসীকে৷ কৃষক স্বার্থে ঢালাও অর্থ বরাদ্দ করলেও পরিষেবা কর, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি সহ সরকারী কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে হাত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবারের বাজেটে৷ তাতে বৃহৎ অংশের দেশবাসীর সামনে দুর্দিনের ঘনঘটা৷ সাধারণ বাজেট পেশ করার সাথে সাথেই তা দেশের বাজারে মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলেছে৷ সেনসেক্স সর্বকালের রেকর্ড ভেঙ্গে নিম্নমুখী হয়েছে৷ তাতে আর্থিক সংস্কারের যে লক্ষ্য মোদি সরকার নিয়েছে তা অনেকটাই ফাঁনুসে পরিণত হচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা৷ বাজেট বিশ্লেষণে উঠে এসেছে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে আগামী দিনে নাভিশ্বাস উঠতে পারে৷ হোটেল, রেস্তোরা, মোবাইল বিল, কয়লা, হিরে ও স্বর্ণ, পরিষেবা কর ও পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় বোঝা চাপবে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে৷ কয়লায় দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির সুযোগ বিদ্যুৎ উৎপাদক সংস্থাগুলির সামনে এসে যাচ্ছে৷ বিশেষ করে সরকারী কর্মচারীকূল এই বাজেটে চটে লাল হবেন বলেই মত অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ মহলের৷ সারা জীবনের পঁুজি প্রভিডেন্ট ফান্ডে করের বোঝা চাপিয়ে সরকারী কর্মচারীদের অসন্তুষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই বাজেট৷ ফলে আবারও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি দেশবাসীর কাছে চমক দিতে ব্যর্থ হয়েছেন৷

নরেন্দ্র মোদী সরকারের দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বাজেটে জোর দেওয়া হল কৃষিতে| পাশাপাশি একশো দিনের কাজে বরাদ্দ করা হল ৩৮,৫০০ কোটি টাকা| সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষের সাধারণ বাজেট পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি| এদিন বাজেট বক্তৃতার শুরুতেই অর্থমন্ত্রী বলেন, `বিশ্ববাজারে অর্থনৈতিক সংকট চলছে| ভারতীয় অর্থনীতির ভিত মজবুত| আর্থিক বৃদ্ধির ঊর্ধ্বমুখী হার ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে|’ জেটলির কথায়, ২০১৫-২০১৬ আর্থিক বছরে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে ৬.৩ থেকে ৭.৬ শতাংশ হারে| মুদ্রাস্ফীতি অনেকটাই কমেছে| মুদ্রাস্ফীতির হার ৫.৪%| বিশ্ব বাজারের অবস্থা আরও খারাপ হবে এই আশঙ্কা প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের দেশের বাজারকে শক্তিশালী করতে হবে| কর ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে আমাদের লড়াইয়ে নামতে হবে|

এরপরই কৃষিতে জোর দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন জেটলি| বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়নে জোর দেওযা হবে| মাত্র ৪৬ শতাংশ জমি সেচযুক্ত, এটা বাড়ানো হবে| ৮০.৬ লক্ষ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে| ২০২২-এর মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্য| অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ৫ বছরে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হবে| কৃষিখাতে বরাদ্দ করা হচ্ছে ৩৫,৯৮৪ কোটি টাকা| ডাল প্রস্তুত বাড়াতে বরাদ্দ করা হচ্ছে ৫০০ কোটি টাকা| সেচ উন্নয়নে ২০ কোটি টাকার ফান্ড| কৃষকদের জন্য সয়েল হেলথ কার্ড| খুব কম খরচে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা আনা হচ্ছে| আনা হচ্ছে কৃষকদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা ফান্ড| ফসল নষ্ট হলে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে| কৃষকদের জন্য ই-মার্কেটিং ব্যবস্থা চালু হবে| ১৪ এপ্রিল থেকে ই-মার্কেটিং-য়ে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে|
মোদী সরকারের দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বাজেটে ১০০ দিনের কাজে বরাদ্দ করা হয়েছে ৩৮,৫০০ কোটি টাকা| ১৯০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায়| ২০১৬-র মধ্যে ৫৫৪২ গ্রামে বিদু্যত্ সংযোগ দেওয়া হয়েছে, জেটলি আশ্বস্ত করেছেন, ২০১৮-এর মধ্যে সব গ্রামে বিদু্যত্ সংযোগ দেওয়া হবে| বিপিএল তালিকাভুক্ত প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এক লক্ষ টাকার বিশেষ স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের ঘোষণা বাজেটে| সব জেলা হাসপাতালে পিপিপি মডেলে সস্তায় ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা করা হবে| ডায়ালিসিস যন্ত্রে বিশেষ কর ছাড় দেওয়া হবে| গ্রামীণ মহিলাদের জন্য বিশেষ এলপিসি প্রকল্প চালু করা হবে| তফসিলি জাতি ও উপজাতিদেরর মধ্যে ব্যবসায় উত্সাহ বাড়াতে বিশেষ প্রকল্প| এসসি, এসটি ও মহিলা উদ্যোগপতিদের জন্য স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া স্কিমে ৫০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ| স্বচ্ছ্ব ভারত অভিযানে শৌচাগার গড়তে ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাজেটে| স্বচ্ছ ভারত অভিয়ানে ৯০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ| দেশজুড়ে ২ বছরে ৬২টি নবোদয় বিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে| এই প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার কোটি টাকা| গ্রামীণ এলাকায় ডিজিটাল সাক্ষরতায় জোর, প্রধানমন্ত্রী ঔষধি যোজনায় ৩০০০ ড্রাগ স্টোর গড়ে তোলা হবে| সড়ক প্রকল্পে ৫৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে| সড়ক পরিবহণ পারমিট ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রচেষ্টা করা হবে| পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ২ লক্ষ ২১ হাজার কোটি বরাদ্দ করা হবে| নতুন গ্যাস এবং পেট্রোক্ষেত্রের অনুসন্ধানে বিশেষ উত্সাহ প্রকল্পের কথা ঘোষণা| খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে ১০০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ করার চেষ্টা| পরমাণু বিদু্যত্ প্রকল্পে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে| শেয়ার বাজারে সূচক অনিশ্চয়তায় দুলছে| সরকারি ব্যাঙ্কে ২৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, দরকারে আরও টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি| সামাজিক সুরক্ষাতেও ব্যবহার করা হবে আধার কার্ড|
বাজেটে নতুন সরকারি কর্মীচারিদের জন্য সুবিধে| প্রথম তিন বছর ইপিএফ দেবে শুধু সরকার| প্রথম তিন বছর ৮.৩৩% হারে সুদ পাবে| বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে সমঝোতা বাড়াতে এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে বাজেটে| এ বারের সার্বিক বাজেট বরাদ্দ ১৯ লক্ষ ৭৮ হাজার কোটি টাকা| ৫ লক্ষ টাকার নিচে যাঁদের আয়, তাঁদের ২ থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত করছাড় দেওয়া হবে| যাঁদের নিজস্ব বাড়ি নেই এবং ঘরভাড়া পান না, তাঁদের করছাড় ২৪ হাজার থেকে বেড়ে ৬০ হাজার টাকা হল| বাজেটে সুবিধে পাবেন ছোট করদাতারা| আয়কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা অপরিবর্তিত থাকল| ৬০-এর পরে পেনশন তহবিল থেকে তোলা টাকার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কর মুক্ত| অ্যানুইটির উপর সার্ভিস ট্যাক্স উঠে গেল| যাঁরা নতুন উত্পাদন শিল্প গঠন করবেন, তাঁদের প্রথম তিন বছর কোনও কর দিতে হবে না| প্রথম বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ছাড়| গৃহঋণে বাড়তি ছাড় ৫০ হাজার টাকা| ৩৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত যাঁরা হোমলোন নেবেন, তাঁরা এই সুবিধে পাবেন| যে সব গাড়ির দাম ১০ লক্ষ টাকার বেশি, তাতে ১% সেস বসানোর প্রস্তাব| দাম বাড়ছে ব্র্যান্ডেড জামাকাপড়ের| বিড়ি বাদে তামাকজাত দ্রব্যের দাম বাড়ছে, দাম কমছে ফ্রিজের| সব গাড়ির দাম বাড়ছে| ডিজেল গাড়িতে বসছে ২.৫% সেস ও পেট্রোল গাড়িতে ১% সেস বসছে| এসইউভি-তে সেস বসছে ৪%| দাম বাড়ছে কয়লার| দাম বাড়ছে সোনা ও হীরের গয়নার| বছরে এক কোটি টাকা বেশি যাঁদের আয়, তাঁদের আয়করের উপর বাড়তি ১৫% সারচার্জ| ১৬০টি এয়ারপোর্ট ও বিমানঘাঁটির পুনর্নির্মাণ করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী| বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, মুদ্রা যোজনায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে| বেলা ১২.৪৮ মিনিট নাগাদ বাজেট ভাষণ শেষ করেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি|

স্বল্প করদাতাদের জন্য সুখবর, বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকার নিচে আয়ে কর ছাড়

নয়াদিল্লি, ২৯ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): স্বল্প করদাতাদের জন্য সুখবর| বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকার নিচে যাঁদের আয়, তাঁদের ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করছাড় দেওয়া হবে| এর ফলে প্রায় ২ কোটি আয়করদাতা উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি| সোমবার ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেছেন, যাঁদের নিজস্ব বাড়ি নেই এবং যাঁরা বাড়ি ভাড়া ভাতা পান না তাঁদের ক্ষেত্রে করছাড়ের পরিমান ২৪ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৬০ হাজার টাকা করা হচ্ছে|

উনুনে রান্নার দিন শেষ, ২ বছরে ৫ কোটি বিপিএল পরিবার পাবে এলপিজি কানেকশন

নয়াদিল্লি, ২৯ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): বিপিএল তালিকাভুক্ত পরিবারের মহিলাদের জন্য নতুন সরকারি উদ্যোগের কথা ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি| সোমবার ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করার সময় জেটলি বলেছেন, বিপিএল তালিকাভুক্ত পরিবারের মহিলাদের জন্য এলপিজি গ্যাস সংযোগের বিশেষ উদ্যোগ নিতে চলেছে সরকার| তঁার কথায়, `এই প্রকল্পে এলপিজি সংযোগ খাতে বাজেটে ১০০০ কোটি টাকা পৃথক ভাবে ধার্য করা হয়েছে|’
তঁার প্রস্তাব, ২ বছর মেয়াদের এই প্রকল্পে মোট ৫ কোটি বিপিএল তালিকাভুক্ত পরিবারকে এলপিজি কানেকশন দেওযা হবে| অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, `এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের ধেঁায়াহীন রান্নার সুবিধা দেওয়া| পাশাপাশি রান্না করার সময়ও এতে কমবে|’ অর্থমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, প্রকল্পের দ্বারা গ্রামীণ অঞ্চলের যুবাদের জন্য কর্মসংস্থানও হবে| গ্যাস সংযোগের দায়িত্ব স্থানীয় নবীনদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে বাজেটে|
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৭৫ লক্ষ পরিবার স্বেচ্ছায় রান্নার গ্যাসের ভর্তুকি বর্জন করেছেন| এদিন বাজেট বক্তৃতায় এই সমস্ত পরিবারকে ধন্যবাদ জানালেন অর্থমন্ত্রী|

জেটলির বাজেটে বাড়ল গাড়ির দাম, কমছে প্রথমবার বাড়ি কেনার খরচ

নয়াদিল্লি, ২৯ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): মধ্যবিত্তের গাড়ি কেনার স্বপ্নে আঘাত হানল বাজেট| দাম বাড়ছে পেট্রল-ডিজেল সব ধরনের গাড়ির| শুধু গাড়িই নয়, দাম বাড়ছে ব্র্যান্ডেড পোশাক, রেস্তোরঁায় খাওয়া-দাওয়া, তামাকজাত দ্রব্য সহ বেশ কয়েকটি জিনিসের| সোমবার ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করার সময় জেটলি প্রস্তাব করেছেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণের কথা মাথায় রেখে, ছোট গাড়ি হোক বা বিলাসবহুল, সবক্ষেত্রেই দাম বাড়ানো হচ্ছে| ছোট পেট্রলের গাড়ির উপর ১ শতাংশ ও ছোট ডিজেলের গাড়ির উপর ২.৫ শতাংশ সেস বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে| ৪ শতাংশ সেস বসছে এসইউভি গাড়ির উপরও| এছাড়াও ১০ লক্ষ টাকার বেশি দামি গাড়ির উপর বাড়তি ১ শতাংশ সেস প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী|
গাড়ি ছাড়াও বাড়ছে ধূমপানের খরচ| তামাকজাত দ্রব্যের উপর অন্তঃশুল্ক ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী| এর ফলে বিড়ি ছাড়া সমস্ত তামাকজাত দ্রব্য দামি হতে চলেছে| দাম বাড়ছে, কয়লা, ব্র্যান্ডেড পোশাক, রেডিমেড জামাকাপড়, সোনা ও হিরের গয়না, পরিষেবা কর, বিমান ও ট্রেনের টিকিট, রেস্তোরাঁর খরচ, মোবাইল বিল, পার্লারের খরচ, সিনেমার টিকিট, থিমপার্ক ও বিনোদন পার্কে বেড়ানোর খরচ, ঠাণ্ডা পানীয়, লটারি, প্লাস্টিক ব্যাগ, কেবল, বিমা পলিসি ও সিমেন্ট|
অন্যদিকে, কমছে প্রথমবার বাড়ি কেনার খরচ| প্রথমবার ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দামের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ৩৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত গৃহৃণ পাওয়া যাবে| এই ঋণের উপর বাড়তি ৫০,০০০ টাকা করছাড়ের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী| এছাড়াও দাম কমছে ব্রেইল পেপার, ডায়ালিসিস মেশিন, এক হাজার টাকার বেশি দামের জুতো, সোলার হিটার, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ, জাহাজের যন্ত্রাংশ, ফ্রিজ, এলইডি বাল্ব, দেশি মোবাইল, এলসিডি ও এলইডি টিভি, সোলার ওয়াটার হিটার, ধূপকাঠি, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার খরচ, জাতীয় উদ্যান, মিউজিয়াম ও চিড়িয়াখানায় বেড়ানোর খরচ|

চিটফান্ড রুখতে কেন্দ্রীয় আইন আসছে, ঘোষণা জেটলির

নয়াদিল্লি, ২৯ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): চিটফান্ড বা ওই জাতীয় বিভিন্ন আর্থিক সংস্থার দুর্নীতি রুখতে এবার কেন্দ্রীয় আইন আসছে| সোমবার ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করার সময় এ কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি| তিনি বলেছেন, চিটফান্ডের রমরমা রুখতে সেবি-র আইন সংশোধন করে নয়া বিল আনা হবে| অর্থমন্ত্রীর কথায়, গ্রামীণস্তরে ব্যাঙ্কিং সুবিধা পর্যাপ্ত না থাকায়, এই ধরনের সংস্থাগুলির হাতে প্রতারিত হচ্ছেন গরিব মানুষ| আরও চিন্তার বিষয়, এই ধরনের আর্থিক প্রতারণা একটি, দুটি রাজ্যে সীমাবদ্ধ নয়| ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন রাজ্যে| তাই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে কেন্দ্রীয় আইনের|
প্রসঙ্গত, একই ইসু্যতে গত বছর পশ্চিমবঙ্গ সরকার আইন এনেছিল বিধানসভায়| বিধানসভায় পাস করিয়ে তা কেন্দ্রীয় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়| কিন্তু রাষ্ট্রপতির হাত ঘুরে তা ফেরত চলে আসে পুনর্বিবেচনার জন্য| (যেহেতু এই আর্থিক বিলের পরিধি অনেক বড়, তাই প্রয়োজন কেন্দ্রীয় অনুমোদনের) কিন্তু তা দ্বিতীয়বার পাঠানোর পরও, অনুমোদন পায়নি|
সারদা ও রোজভ্যালির মতো সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার অভিযোগের পর থেকেই নড়চড়ে বসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)| ধীরে ধীরে এটা স্পষ্ট হয়ে যায়, সেবি ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গ্রামাঞ্চলে, দূর-দূরান্তে বেশ রমরমা ব্যবসা পেতে বসেছে ছোট, বড়, মাঝারি বিভিন্ন আর্থিক সংস্থা| রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ব্যস্ত দেশের অর্থনীতি সামলাতে আর সেবি ব্যস্ত স্টক এক্সচেঞ্জগুলি নিয়ে| এহেন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় আইনের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে|

পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মহিলা উদ্যোগপতিদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা, ঘোষণা বাজেটে

নয়াদিল্লি, ২৯ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মহিলা উদ্যোগপতিদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি| একই সঙ্গে বাজেটে ঘোষণা করলেন, কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষার ওপরেও জোর দিতে চলেছে সরকার| সোমবার ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করার সময় অনুন্নত শ্রেণির মহিলা উদ্যোগপতিদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী| এই প্রকল্পে দলিত ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিশেষ উদ্যোগ হাব তৈরির ঘোষণা করলেন তিনি| অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, `এই খাতে বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে| প্রকল্পের আওয়াত থাকছেন তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত উদ্যোগপতিরা|’ জেটলির দাবি, এর ফলে ২.৫ লক্ষ উদ্যোগপতি উপকৃত হবেন|
এদিন বাজেট পেশের ভাষণে ছোট ও মাঝারি মাপের দোকানদারদের জন্যও আশার বাণী শুনিয়েছেন অর্থমন্ত্রী| তিনি বলেছেন, তঁাদের সুবির্ধার্থে একটি পরীক্ষামূলক শপ অ্যান্ড এসটাব্লিশেমেন্ট আইন চালু করতে চলেছে সরকার| এবারের বাজেটে রয়েছে নবীন শিল্পপতিদের জন্য বিশেষ কর ছাড়ের সুবিধাও| তবে, তঁাদের ক্ষেত্রে প্রথম তিন বছর কর ছাড়ের ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী|

সাধারণ বাজেটে ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ স্বচ্ছ ভারত অভিযান প্রকল্পের জন্যে

নয়াদিল্লি, ২৯ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : এবছরের সাধারণ বাজেটে অর্থমন্ত্রক ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হল স্বচ্ছ ভারত অভিযান প্রকল্পের জন্যে| গ্রামীণ ভারতে সঠিক নিকাশি ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য| ২০১৬-১৭ সালের বাজেট পেশের সময় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেন, মহাত্মা গান্ধীর হৃদয়ের খুব কাছের বিষয় ছিল পরিচ্ছন্নতা| সরকার তাই সেই প্রকল্পের বাস্তব রূপায়নের জন্যে ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করল| ২০১৪ সালে জাতির জনক গান্ধীজির ১৪৫ তম জন্মদিনে এই প্রকল্পের ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী|

বাজেটে গরিবদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য যোজনা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী

নয়াদিল্লি, ২৯ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : বাজেটে গরিবদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য যোজনা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি| এই বিশেষ স্বাস্থ্য যোজনা নাম `প্রধানমন্ত্রী ঔষধী যোজনা’| এছাড়াও স্বল্পমূল্যে ওষুধ কিনতে ৩ হাজার দোকান এবং গরিবদের জন্য ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী|
বাজেট বক্তৃতায় জেটলি বলেছেন, কোনও ব্যক্তির গুরুতর অসুস্থতার জন্য দরিদ্র ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের চাপে পড়ে যায়| চিকিত্সার জন্য ওই পরিবারগুলির আর্থিক চাপ প্রচণ্ড বেড়ে যায়| এ কথা মাথায় রেখে সরকার একটি নয়া স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্প চালু করবে| এর আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবীমার সুবিধা দেওয়া হবে| পরিবারের ৬০-র বেশি বয়সের সদস্যদের জন্য আরও ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্যাকেজ দেওয়া হবে বলেও জানান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী|
এছাড়া বাজেট বক্তৃতায় জেটলি আরও জানান, বাজেটে জাতীয় ডায়ালিসিস পরিষেবা প্রকল্পে প্রত্যেকটি জেলা হাসপাতালে সুলভে ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা করা হবে| ভারতে প্রতিবছর কিডনির রোগীর সংখ্যা ২.২ লক্ষ করে বাড়ছে| এর ফলে বছরে প্রায় ৩.৪ কোটি বার ডায়ালিসিসের প্রয়োজন হচ্ছে| এ কারণে দেশের প্রতিটি জেলার হাসপাতালে ডায়ালিসিস পরিষেবা পৌঁছে দিতে বাজেটে জাতীয় ডায়ালিসিস পরিষেবার ঘোষণা করা হয়েছে|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *