বিলোনীয়ায় স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম, জিরানীয়ায় জোড়া লাশ উদ্ধার, জয়পুর সীমান্তে মিলল রক্তমাখা গাড়ি

muder photoনিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ ডিসেম্বর৷৷ রাজ্যে আইন শৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি হচ্ছে দিনকে দিন৷ পৃথক স্থানে অপরাধের ঘটনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ কখনো রাস্তায় পড়ে থাকে অজ্ঞাত পরিচয় লাশ, কখনো ডুবায়, কিংবা নর্দমায় মহিলা বা পুরুষের লাশ৷ কোনও কোনও সময় মৃতদেহ সনাক্ত হয়, কখনো অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবেই থেকে যায়৷ শনিবার দুপুরে জিরানীয়া এসডিএম অফিস সংলগ্ণ হাওড়া নদীর কাছে জোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে৷ উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলি একজন পুরুষ এবং অন্যজন মহিলা৷ রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে মৃতদেহ৷ একটি মৃতদেহ বস্তাবন্দী ছিল৷ সংবাদে প্রকাশ শনিবার দুপুরে স্থানীয় জনগণ দেখতে পায় মৃতদেহ পড়ে রয়েছে৷ সঙ্গে সঙ্গেই খবর দেওয়া হয় জিরানীয়া থানায় এবং রাধাপুর থানায়৷ যে এলাকায় মৃতদেহগুলি উদ্ধার হয়েছে ঐ এলাকাটি দুটি থানার মধ্যবর্তি স্থান৷ পরে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতলের মর্গে পাঠিয়ে দিয়েছে৷ এদিকে, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷ প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে নিহতরা স্থানীয় ইটভাট্টার শ্রমিক হতে পারে৷ তবে কে বা কারা এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে তা পুলিশ খোলসা করতে পারেনি৷ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে৷ আশঙ্কা করা হচ্ছে ঐ পুরুষ ও মহিলাকে অন্যত্র কোথাও খুন করে সেখানে মৃতদেহ ফেলে দিয়েছে দুসৃকতিরা৷ রাতে খবর লেখা পর্যন্ত পুলিশ মৃতদেহগুলি সনাক্ত করতে পারেনি৷ জোড়া মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে৷
রাজধানী আগরতলা শহর সংলগ্ণ দক্ষিণ জয়পুর চৌমুহনী থেকে শনিবার সাত সকালে রক্তমাখা একটি ইন্ডিগো গাড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ৷ সকাল থেকেই সীমান্ত সংলগ্ণ এলাকার মানুষজন গাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন৷ গাড়িটির বাইরের দিকে রক্তছাপ রয়েছে৷ তাতে ঐ এলাকার মানুষজনের মধ্যে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়৷ ঘন্টার পর ঘন্টা গাড়িটি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার পরও গাড়িটির মালিকানা দাবি করে নিয়ে যেতে কেউ এগিয়ে না আসায় স্থানীয় মানুষজন পুলিশকে খবর দেন৷ চাঞ্চল্যকর এই খবর পেয়ে বটতলা আউটপোস্টের পুলিশ দক্ষিণ জয়পুর চৌমুহনীতে ছুটে যায়৷ সেখান থেকে গাড়িটি উদ্ধার করে পুলিশ৷ গাড়িটির নম্বর টিআর-০১-এজে-০৭৪৩৷ গাড়িটি বর্তমানে পুলিশের হেপাজতে রয়েছে৷ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই গাড়িটি এলাকায় ঘোরাফেরা করছে৷ সমাজদ্রোহীরা গাড়িটি ব্যবহার করে আসছিল৷ পাচারের কাজেও গাড়িটি ব্যবহার হতো৷ এলাকায় সমাজদ্রোহী, মাফিয়া এবং চোরাকারবারীদের রমরমা থাকায় স্থানীয় মানুষ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না৷ রক্তমাখা গাড়ি উদ্ধারের পর স্থানীয় মানুষের সন্দেহ কোন খুন খারাপির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে৷ পুলিশ সমাজদ্রোহী ও মাফিয়াদের হুকোয় তামাক সেবন না করে ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করলে অনায়াসে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা এলাকাবাসীর৷
স্বামী রাজু দেবনাথ ওরফে মিঠুন (২৭) তার স্ত্রী রাখী দেবনাথ (২২) কে আজ দুপুরে দা দিয়ে কেটে গুরুতর জখম করে৷ অশঙ্কা জনক অবস্থা হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা করে উদয়পুর জেলা হাসপাতালে রেফার করে দেয়৷ রাখীর মাথা, গলা, হাত এবং পিঠে দায়ের আঘাত লাগে গুরুতর ভাবে৷ শরীরের রক্ত ক্ষরন যে ভাবে হচ্ছে তাতে চিকিৎসক রক্ত দিয়ে রেফার করেছে৷ অভিযুক্ত স্বামী পলাতক৷ আজ থেকে প্রায় ৮ বছর আগে রাখীর সাথে রাজুর বিয়ে হয়৷ ৫ বছরের একটি পুত্র সন্তান ও রয়েছে৷ বাড়ী নেতাজী পল্লী এলাকায়৷ রাখীর বাপের বাড়ী শহর সংলগ্ণ এসবিসি নগর এলাকায়৷ কিছুদিন ধরে ছেলের গৃহশিক্ষক জয়দেব দেবনাথের সাথে রাখীর অবৈধ সম্পর্ক ছিল বলে তাদের মধ্যে অশান্তি চলছিল৷ এরই মধ্যে গত ১লা জানুয়ারী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার কাউন্সিলার বকুল দেবনাথ এক্স মেম্বার সম্পা দেবনাথ সহ এলাকার কিছু লোক ঘটনা মীমাংসা করতে বসে৷ কিন্তু সমাধান না হওয়ার রাজুর মামা এ এস আই বিলোনীয়া থানা বিকাশ দেবনাথ মহিলা থানার দুই এস আই কে ডেকে কাগজ পত্র লিখে রাখীর বাবা দীলিপ দেবনাথকে সামনে রেখে রাখীর ইচ্ছেতেই তাকে তার বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়৷ বাবাও মেয়েকে নিজ বাড়ীতে নিয়ে যায়৷ আজ দুপুরে রাজু শশুর বাড়ীতে গিয়ে নিজের স্ত্রীকে রাস্তার ডেকে এনে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করার উদ্দেশ্যে দাদিয়ে এলো পানারী কোপ দিতে থাকে৷ ততক্ষনে রাখীর পরিবারের লোকরা ছুটে এলে রাজু বাইক নিয়ে পালিয়ে যায়৷ প্রশ্ণ হলো এই ধরনের একটি গুরত্বপূর্ণ ঘটনা কি করে একজন শাসকদলীয় পুরপরিষদের সদস্য মীমাংসা করতে বসে৷ ঐ সদস্যের নাম বকুল দেবনাথ৷ মহিলা সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোটের নির্দেশ রয়েছে যে এই ধরনের মামলা মীমাংসার অযোগ্য৷ কিন্তু বাম আসনে তা মানা হয় না৷ যেকোন ধরনের শাসকদলীয় নেতা বা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিচারক হয়ে যায়৷ উভয় ধরনের ঘটনা একদিকে যেমন জনগণে প্রশ্ণ উঠতে শুরু করেছে৷ অন্যদিকে ঘটনার পুরো শহরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *