আগরতলা, ১১ ফেব্রুয়ারি (হি.স.)৷৷ দেশের সকল অংশের জনগণের কল্যাণে, বিশেষ করে কিষাণ স্বার্থ, জনস্বাস্থ্য, রােজগার, শিক্ষাক্ষেত্র, পরিকাঠামাে উন্নয়ন ক্ষেত্রে এবং আর্থিক ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধিত করে প্রধানমন্ত্রীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’’ গড়ার স্বপ্ণকে পূরণ করবে এবারের বাজেট, আশা প্রকাশ করেন বিজেপির ত্রিপুরা প্রদেশ সদর (শহর) জেলা কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি প্রফেসর (ড়) অলক ভট্টাচার্য৷ তাঁর মতে করোনা-র প্রকোপে দেশের আর্থিক অবস্থা বেহাল হলেও, এই বাজেটে পরিস্থিতি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে৷
বৃহস্পতিবার আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে অলক ভট্টাচার্য বলেন, সম্প্রতি ২০২১-২২ অর্থবর্ষের সাধারণ বাজেট কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ সংসদে পেশ করেছেন৷ বিগত অর্থবর্ষের (২০২০-২১) বাজেটের কিছুদিনের মধ্যেই সারা বিশ্ব জুড়ে করােনা অতিমারির প্রকোপে সাধারণ জনজীবন এক অজানা আশঙ্কায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল৷ বিশ্বের সকল উন্নত দেশসমূহ সহ আমাদের দেশেও এর মারাত্নক প্রভাব পড়েছিল৷ অতর্কিতে এ-ধরনের মারণব্যাধি সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার দরুন করােনায় রােগে আক্রান্ত জনগণ একপ্রকার বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখে পতিত হয়৷
তিনি বলেন, বিশ্বের সকল উন্নত দেশে এই রােগের কোনও চিকিৎসা সহ রােগ প্রতিরােধক ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ায় নাগরিক জীবনে এক বিভীষিকার অমানিষা নেমে আসে৷ এই পরিস্থিতি মােকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদী দেশের ১৩০ কোটি জনগণের জীবন রক্ষায় এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করে সারা দেশে লকডাউন ঘােষণা করেন এবং জনগণকে প্রতিনিয়ত মারণব্যাধি করােনা প্রতিরােধে কার্যকরী ব্যবস্থা অবলম্বনের আবেদন করেন৷ তাঁর বক্তব্য, সমগ্র দেশের জনগণ এই বিপদের দিনে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে একজোট হয়ে সাড়া দিয়ে করােনা প্রতিরােধে এগিয়ে আসেন৷ তখন দেশের জনগণের প্রাণ রক্ষাই একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল৷
অলক ভট্টাচার্য বলেন, দেশের গরিব জনগণের রােজগারের সমস্ত রাস্তা বন্ধ হওয়ায় তাঁদের পরিবার পরিজনদের জীবন জীবিকার প্রশ্ণে প্রধানমন্ত্রী ধাপে ধাপে গরিব কল্যাণে নানান কর্মসূচি ঘােষণা করেন৷ এই সকল কর্মসূচির মধ্যে গরিব জনগণের ন্যায্যমূল্যের দোকানের মাধ্যমে বিনা পয়সায় চাল, ডাল সহ অন্যান্য অত্যাবশ্যক পণ্যদ্রব্য বিতরণ করেন এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার আবশ্যকতা হিসেবে নগদ অর্থ সহ বিনা পয়সায় উজ্জ্বলা যােজনায় গ্যাস সিলিন্ডার প্রদানের ব্যবস্থা করেন৷
প্রফেসর (ড়) অলক ভট্টাচার্যের কথায়, বিগত এক বছর যাবৎ সারা বিশ্বের অর্থনীতি এক গভীর সংকটময় অবস্থায় পড়েছে৷ আমাদের দেশের সমস্ত কলকারখানা বন্ধ হয়ে পড়ায় জাতীয় অর্থনীতি ক্রম-নিম্নমুখি রূপ ধারণ করেছে৷ এই পরিস্থিতিতে দেশের জনগণের সামনে অতীতের কোনও অভিজ্ঞতা না থাকায় কেন্দ্রীয় সরকার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়ে জাতীয় অর্থনীতির সঠিক দিশা দিয়ে জাতীয় গড় আয় ঊর্ধমুখি করার প্রয়াস এই বাজেটের মাধ্যমে করা হয়েছে৷ কিষাণ কল্যাণে বিভিন্ন যােজনার মাধ্যমে কৃষকের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, দাবি করেন তিনি৷
ভট্টাচার্য বলেন, কর কাঠামােতে সরলীকরণ করে বিভিন্ন করের হার কমানাে হয়েছে এবং প্রবীণ নাগরিকদের এই করের আওতা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে৷ শিক্ষাক্ষেত্রে জাতীয় বরাদ্দের হার দ্বিগুণ থেকেও বেশি করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে৷ ভারতের স্বাস্থ্য পরিকাঠামাে উন্নয়নে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে৷
তাঁর বক্তব্য, স্বাধীনােত্তর ভারতে এরূপ পরিস্থিতি পূর্বে কখনও দেখা যায়নি৷ প্রধানমন্ত্রী প্রাদেশিক রাজ্য সরকারগুলিকে সঙ্গে নিয়ে করােনা মােকাবিলায় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন৷ তিনি সঠিক সময়ে আত্মনির্ভর ভারত-এর ডাক দিয়ে সর্বক্ষেত্রে ভারতকে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে আত্মনির্ভর হওয়ার আবেদন করেছেন৷ বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও ভারত আজ আত্মনির্ভর হয়ে নতুন ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে৷ কেন্দ্রীয় বাজেট প্রস্তাবনায় তারই ইঙ্গিত লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷
আজ ভারতীয় জনতা পার্টি ত্রিপুরা প্রদেশ সদর (শহর) জেলা কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি প্রফেসর (ড়) অলক ভট্টাচার্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদী এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণকে জনকল্যাণমুখি এই ঐতিহাসিক বাজেট প্রস্তাবনার জন্য অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন৷ এই বাজেট অতি অবশ্যই দেশের সকল অংশের জনগণের কল্যাণে বিশেষ করে কিষাণ স্বার্থ, জনস্বাস্থ্য, রােজগার, শিক্ষাক্ষেত্র, পরিকাঠামাে উন্নয়ন ক্ষেত্রে এবং আর্থিক ও বানিজ্য ক্ষেত্রে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধিত করে প্রধানমন্ত্রীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’’ গড়ার স্বপ্ণকে পূরণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন৷

