বাংলাদেশের সাথে নৌ পরিবহণ, শীঘ্রই সোনামুড়ায় হবে স্থায়ী জেটি : মনসুখ

আগরতলা, ৬ ফেব্রুয়ারি (হি.স.)৷৷ সোনামুড়ায় শীঘ্রই বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহ একটি স্থায়ী জেটি নির্মিত হবে৷ বাংলাদেশের সাথে নৌ পরিবহণ ব্যবস্থাকে মজবুত করার প্রশ্ণে এই আশ্বাসবাণী শুনালেন কেন্দ্রীয় নৌ পরিবহণ স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মনসুখ মান্দাভিয়া৷ শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, সোনামুড়া-দাউদকান্দি নৌ-পথ উন্নয়নের ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির মধ্যে আমদানি ও রফতানি বাড়বে৷ আমি স্থায়ী আরসিসি জেটি নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত সাইটটি পরিদর্শন করব এবং সোনামুড়া বন্দরে উপলভ্য সুবিধা খতিয়ে দেখব৷ স্থায়ী জেটির ভিত্তিপ্রস্তর আগামী দুই মাসের মধ্যেই স্থাপন করা হবে, দৃঢ়তার সাথে বলেন মন্দাভিয়া৷


২০২০ সালের ২১ মে গোমতি নদীর সোনামুড়া- দাউদকান্দি ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুট হিসেবে অনুমোদিত হয়েছিল৷ ঢাকাস্থিত ভারতের হাই কমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস এবং বাংলাদেশ নৌ পরিবহণ মন্ত্রালয়ের সচিব মহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী দ্বিতীয় সংযোজনে স্বাক্ষর করেছিলেন৷ মান্দাভিয়া বলেন, প্রটোকল রুটে নৌ পরিবহণের সুবিধার্থে ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ড্রেজিং শুরু হয়েছে৷ তাতে বছরের পর বছর বার্জ এবং ছোট নৌযান চলাচল করতে পারবে৷ ইতিপূর্বে ত্রিপুরায় ইন্দো-বাংলা আন্তর্জাতিক অভ্যন্তরীণ নৌপথ সংযোগ প্রকল্পের অংশ হিসাবে গত বছরের জুলাই মাসে গোমতি নদীর তীরে একটি অস্থায়ী ভাসমান জেটি নির্মাণ করা হয়েছিল৷


কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া থেকে বাংলাদেশের দাউদকান্দি পর্যন্ত সিপাহিজলা জেলার সোনামুড়া বন্দর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত৷ সব মিলিয়ে ৪,০০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নৌপথ তৈরি করা হচ্ছে৷ মন্দাভিয়া যোগ করেন, বেনারস থেকে হলদিয়া বন্দরটি ১,৪০০ কিমি, হালদিয়া থেকে সুন্দরবন ২০০ কিলোমিটার, সুন্দরবন থেকে যমুনা নদী ৮০০ কিমি এবং যমুনা থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ জাহাজ চলাচলের জন্য ৮৯০ কিমি৷ তিনি আরও যোগ করেন, এর আগে বাংলাদেশ ও ভারত চট্টগ্রাম, মংলা এবং হলদিয়া বন্দরকে সংযোগকারী একটি প্রটোকল রুটের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং ত্রিপুরা সারা দেশ বাংলাদেশের সাথে সংযুক্ত হবে যখন সোনামুড়া-দাউদকান্দি নৌপথ পুরোপুরি চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে যুক্ত হবে৷
ত্রিপুরার দক্ষিণ জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিকটবর্তী শহর সাব্রুম থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরবর্তী চট্টগ্রাম বন্দরটি সড়ক ও রেলপথ দ্বারা আগরতলার সাথে ভালোভাবে যুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন৷