নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪ ডিসেম্বর৷৷ রাজ্যে পরিকাঠামোগত উন্নয়নে একটা বড় ভূমিকা রয়েছে প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের৷ পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্যে যে সকল নির্মাণ কাজ চালু রয়েছে তার গুণমান বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ রাজ্যের ঠিকাদারদের সমস্ত রকম সুরক্ষার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের৷ প্রয়োজনে কাজের সাইটে আমি নিজে গিয়ে দাঁড়াব৷ বকেয়া টাকা সময় মতো মেটানোর কাজ করছে রাজ্য সরকার৷ আমি চাইব, কন্ট্রাক্টররাও যেন গুণগত মানের সঙ্গে আপস না করেন৷
আজ আগরতলার নজরুল কলাক্ষেত্রে অল ত্রিপুরা কন্ট্রাক্টরস এসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ’মিলন উৎসব -২০২০’র অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এই আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, রাজ্যের প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়নের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে৷ বর্তমান সরকার ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৷ এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যে জাতীয় সড়ক নির্মাণের জন্য একসঙ্গে এক বছরে ৩,২০০ কোটি টাকার টেণ্ডার হয়েছে এবং কাজও শরু হয়েছে৷ পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও প্রায় ৭,৫০০ কোটি টাকা কাজের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে এই কাজগুলির টেণ্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে স্থানীয় ঠিকাদারদের কাজের সুুযোগ করে দিতে সরকার সচেষ্ট৷ পাশাপাশি বহিঃরাজ্যের ঠিকাদাররাও যখন রাজ্যের পরিকাঠামো নির্মাণের কাজে যুক্ত হবেন, তখন রাজ্যে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি হবে৷ যা রাজ্যের ঠিকাদারদের কাজে আরও পারদর্শিতা আনতে সহায়ক হবে৷ এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগরতলা – সাব্রুম সড়ক নির্মাণের কাজ সম্পর্ণ উন্নত পদ্ধতিতে করা হয়েছে৷ নির্মাণকারী সংস্থা এন এইচ আই ডি সি এল এ ডেপুটেশনরত রাজ্যের পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারগণ এক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন৷ পাশাপাশি এই উন্নত পদ্ধতির প্রয়োগ সম্পর্কেও তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ বছরে ত্রিপুরায় রেল ও ন্যাশনাল হাইওয়েতে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার কাজ হবে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের পরিকাঠামো নির্মাণে স্থানীয় ঠিকাদাররা যেন বেশি করে কাজ পায় সেই দিকে লক্ষ্য রেখে সরকার প্রতিটি ক্ষেত্র সরলীকরণের পদ্ধতি অবলম্বন করেছে৷ ঠিকাদারদের ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে৷ রাজ্যে যে সব কাজ চালু রয়েছে সেই কাজগুলি যাতে কোন ভাবে না আটকায় তার প্রতি সচেষ্ট থাকতে হবে৷ কাজে সমস্যা আসলে দ্রত সমাধানের সূত্র বের করে কাজকে সম্পন্ন করার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে৷ কাজগুলি যাতে সঠিক ভাবে হয় সেই দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে৷ পাশাপাশি তিনি কোনও কাজের যাতে পুনরায় টেণ্ডার না করতে হয় সেই দিকে দৃষ্টি রেখে কাজ করার উপরও গুরুত্ব আরোপ করেছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, টেণ্ডার প্রক্রিয়ার পূর্বেই যাতে সয়েল টেস্ট, সাইট ক্লিয়ারেন্স, আর্থিক বিষয়গুলির যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় সেদিকে নজর দিতে হবে৷ টেণ্ডার হয়ে যাওয়ার পর নির্মাণকারী সংস্থা দ্রততার সাথে কাজ শুরু করতে পারে সেই বিষয়ে তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন৷
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ঠিকাদারদের সাথে মতবিনিময় করে তাদের কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যাগুলির সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মুখ্য বাস্তুকারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন৷ পাশাপাশি তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মুখ্য বাস্তুকারদের ১৫ দিনের নিয়মিত ব্যবধানে পর্যালোচনা সভায় বসার জন্য পরামর্শ দেন যাতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা যায়৷ শিক্ষক, শ্রমিক, ঠিকাদার, ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক সবাই মিলে সম্মিলিত ভাবে একই মানসিকতায় রাজ্যের উন্নয়নে যখন কাজ করবেন তখন রাজ্য উন্নতির শিখরে পৌঁছানো সম্ভব বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন৷
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্ত দপ্তরের (সড়ক ও সেতু) মুখ্য বাস্তুকার দীপক দাস বলেন, ত্রিপুরায় পরিকাঠামোগত উন্নয়নে পূর্ত দপ্তর সচেষ্ট৷ পূর্ত দপ্তরের নির্মাণ কাজে কোন প্রকার সমস্যা এলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়৷ তিনি বলেন, পূর্ত দপ্তরের নির্মাণ কাজকে আরও ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরলীকরণ করে সংস্কার আনা হয়েছে৷ পূর্ত দপ্তরের অধীনে সম্পতি এনলিস্টমেন্ট অব কন্ট্রাক্টটরস রুলস সংশোধন করা হয়েছে৷ এই ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের যেখানে সমস্যা হচ্ছে সেই জায়গায় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন৷ তিনি বলেন, পূর্বে ম্যানুয়ালী টেণ্ডার গ্রহণ করা হতো৷ বর্তমানে তা পরিবর্তন করে অনলাইনে করা হয়েছে৷ প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে স্থানীয় ঠিকাদারি এজেন্সী বাড়ানোর উপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেছেন৷ পাশাপাশি ঠিকাদারদের বকেয়া বিল মিটিয়ে দেবার জন্য দপ্তর কর্ত’ক প্রয়োজনীয় উদ্যোগের কথাও তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন৷
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব জে কে সিনহা৷ তাছাড়া অল ত্রিপুরা কনট্রাক্টরস এসোসিয়েশন এডহক কমিটির সদস্য দীপক চন্দ্র কর ঠিকারদারদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবী দাওয়া সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী দ’ষ্টি আকর্ষণ করেন৷ স্বাগত বক্তব্য রাখেন অল ত্রিপুরা কনট্রাক্টরস এসোসিয়েশনের এডহক কমিটির চেয়ারম্যান সুুভাষ চন্দ্র দত্ত৷