নিজস্ব প্রতিনিধি, চুড়াইবাড়ি, ৯ অক্টোবর৷৷ ইচি পোকার আক্রমণে চরম সংকটে ত্রিপুরা অসম সীমান্তের ১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিকাংশ কৃষক৷ স্থানীয় কৃষি দপ্তরের অক্লান্ত তৎপরতা থাকলেও পার্শবর্তী রাজ্য অসম থেকে ইচি পোকা রাজ্যে প্রবেশ করে ত্রিপুরা অসম সীমান্তের স্থানীয় কৃষকদের ধান গাছ খেয়ে সর্বস্বান্ত করে দিচ্ছে৷ স্থানীয় কৃষকদের মাথায় হাত৷ ক্ষতিগ্রস্ত ৩২৭ জন কৃষকের ১৬৭ হেক্টর কৃষিজমি৷
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, উত্তর জেলার কদমতলা ব্লকাধীন ত্রিপুরা অসম সীমান্তের ১০ টি পঞ্চায়েতের স্থানীয় কৃষকদের ধানক্ষেতে ইচি পোকার সন্ত্রাস দেখা দিয়েছে৷মূলত ওই সকল গ্রামের অধিকাংশ মানুষই কৃষি ক্ষেতের উপর নির্ভরশীল৷বিগত দেড় থেকে দুই মাস যাবত কৃষকদের ধানের চারা গাছে ইচি পোকা এসে সবুজ চারা গাছকে খেয়ে সাদা করে দিচ্ছে৷ইচি পোকা খানিকটা মাছির মতো দেখতে হলেও গায়ে মাছি থেকে অনেকটা ছোট৷ এই পোকাটি ধানের চারা গাছে বসার ৪৮ ঘন্টার ভেতর ধানের সবুজ চারা গাছকে খেয়ে সাদা করে দিচ্ছে৷ইচি পোকার আক্রমণ শুরুর সাথে সাথে কদমতলা ব্লকাধীন ১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কদমতলা কৃষি মহাকুমার তত্ত্বাবধায়ক শরদিন্দু নারায়ন দত্তের শরণাপন্ন হন৷ কৃষকদের এমন দুরবস্থা কথা শুনে কদমতলা কৃষি তত্ত্বাবধায়ক তড়িঘড়ি কৃষিজমি পরিদর্শন করেন৷ কৃষি জমি পরিদর্শন করে কৃষি তত্ত্বাবধায়ক স্থানীয় কৃষকদের আশ্বস্ত করেন যে, কদমতলা কৃষি মহাকুমার সকল অধিকারীক সর্বদা কৃষকদের সাথে রয়েছেন৷
পাশাপাশি কৃষি তত্ত্বাবধায়ক শরদিন্দু নারায়ণ দত্ত ১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩২৭ জন কৃষকদের মধ্যে ইচি পোকা মারার ঔষধ, স্প্রে মেশিন প্রদান করেন৷ তাছাড়া প্রতিদিন স্থানীয় ৩২৭ জন কৃষকদের ১৬৭ অ্যাক্টর কৃষি জমিতে কদমতলা কৃষি তত্ত্বাবধায়ক সহ সকল কৃষি আধিকারিক কৃষকদের সাথে মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন৷কিভাবে ঔষধ দিতে হয় সহ সকল পদ্ধতি কৃষকদের দেখিয়ে দিচ্ছেন ও কিভাবে ইচি পোকার হাত থেকে অত্র এলাকার কৃষকদের কৃষিজমি রক্ষা করা যায় তা নিয়ে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন কদমতলা কৃষি দপ্তরের সকল কৃষি আধিকারিকরা৷
এদিকে ত্রিপুরা অসম সীমান্তের স্থানীয় ব্লকের তারক পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক জানান, দেড় থেকে দুই মাস যাবত পূর্বে ইচি পোকা উনাদের কৃষিজমিতে আক্রমণ শুরু করেছে৷ আক্রমণের সাথে সাথে কদমতলা কৃষি মহাকুমার তত্ত্বাবধায়কের সাথে আলোচনা করলে সেখান থেকে তাদের ঔষধ ও স্প্রে মেশিন প্রদান করা হয়৷উনারা নিয়মিত ঔষধ ধানের চারা গাছে দিয়ে আসছেন৷ প্রতিদিন কদমতলা কৃষি মহাকুমার আধিকারিকরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি জমিতে সরজমিন পরামর্শ করে যাচ্ছেন৷ কিন্তু অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে ইচি পোকার ঔষধটি তেমন ভাবে পোকা দমন করতে পারছে না৷ তাছাড়া তারকপুর এলাকাটি ত্রিপুরা অসম সীমান্ত ঘেষা তাই ত্রিপুরা সীমান্তে ধানের চারা গাছে ইচি পোকার ঔষধ দেওয়া হলে চারা গাছে থাকা ইচি পোকা মারা যাচ্ছে অথবা পার্শবর্তী রাজ্য অসমের কৃষিজমিতে সরে যাচ্ছে৷ সীমান্ত এলাকার কৃষিজমির চারা গাছের ইচি পোকা মারার ঔষধ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় অসমের কৃষি জমি থেকে উড়ে এসে রাজ্যের ওই সকল কৃষি জমিতে তাণ্ডব চালাচ্ছে৷ সুতরাং ইচি পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমির কৃষকরা স্থায়ী সমাধান চাইছেন৷
অপরদিকে কদমতলা কৃষি মহাকুমার তত্ত্বাবধায়ক শরদিন্দু নারায়ণ দত্ত ও এসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর অলক পাল জানান, যেদিন থেকে কদমতলা ব্লক এলাকার কৃষকদের কৃষি জমিতে ইচি পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে সেই দিন থেকে উনারা কৃষকদের সাথে কৃষিজমিতে নিয়মিত যাতায়াত করছেন৷ কৃষকদের প্রদান করেছেন স্প্রে মেশিন ও ক্লোরোপাইরিফস টুয়েন্টি ইসি ঔষধ৷ বর্তমানে কদমতলা ব্লকাধীন ১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩২৭ জন কৃষকের ১৬৭ অ্যাক্টর কৃষি জমি ইচি পোকা খেয়ে নিয়েছ৷ তবে প্রয়োজনমতো সঠিক ঔষধ দেওয়াতে ধানের চারা গাছ আবারো মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে৷ কিন্তু অবিরাম বৃষ্টি ও পার্শবর্তী রাজ্য অসমের কৃষিজমি থেকে এসে সীমান্ত এলাকার ধান গাছে সন্ত্রাস চালাচ্ছে তাই সীমান্ত এলাকার কৃষি জমি থেকে পুরোপুরিভাবে ইচি পোকা দূর করা সম্ভব হচ্ছে না৷ কদমতলা কৃষি তত্ত্বাবধায়ক ও এসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর আরো বলেন, ইচি পোকার আক্রমণ উত্তর জেলা জুড়ে দেখা দিলেও অন্য কোন জেলাতে এই পোকার প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি৷ এখন দেখার বিষয় ত্রিপুরা অসম সীমান্তের স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতি কি ভূমিকা পালন করে রাজ্য সরকার৷



















