করোনা তথ্যে লুকোচুরি! জনগণকে খোলাখুলি জানানো উচিত, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি সুদীপ বর্মনের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ জুলাই৷৷ করোনা আক্রান্তের তথ্য নিয়ে লুকোচুরি খেলার বদলে জনগণকে সমস্ত কিছু খুলে বলা উচিত৷ না-হলে আগামীদিনে বিপদ বাড়বে, এই আশঙ্কা প্রকাশ করে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের কাছে চিঠি পাঠালেন বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায়বর্মণ৷ তাঁর কথায়, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি কোনওভাবেই সরকারি ব্যর্থতা নয়৷ তবে সঠিক তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আরও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন৷


সুদীপবাবু মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে বলেন, গত কয়েক মাস ধরে সারা দেশ এক সংকটময় অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে৷ প্রতিদিন আমাদের দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে৷ আমরা এই রাজ্যে এই বিষয়টি লক্ষ্য করছি, রাজ্যে প্রায় প্রতিটি জেলার কেউ না-কেউ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন৷ তাঁর দাবি, বিষয়টি নিঃসন্দেহে দুঃখের এবং অনুতাপের৷ তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া কোনওভাবেই আমাদের বা রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা নয়৷
তাঁর বিশ্বাস, ত্রিপুরা সরকার করোনা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে৷ তবে সরকারের জন্য সবচেয়ে প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিরোধে সঠিক সময়ে মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা, চিঠিতে বলেন তিনি৷ তাঁর কথায়, অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও এটাই সত্য, এখনও ত্রিপুরা সরকারের নানা পরিকল্পনাজনিত ত্রুটির জন্য রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে৷

সুদীপের দাবি, করোনা বিষয়ক কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নানা নির্দেশিকা এবং নিয়ম-নীতি সম্পর্কে আমি সামান্য অবগত৷ সেই মোতাবেক এ-টুকু বলতে পারি, করোনা বিষয়ক তথ্য লুকিয়ে বা চেপে রাখা এখন যে কোনও সরকারের জন্য একটি মানবিক অপরাধ৷ চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে আপনি প্রায় প্রতিদিন আমাদের রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে জনগণকে অবগত করছেন৷ কখন কোন জেলায় কত জন তা কখনও কোন উৎসে তারা আক্রান্ত, তা-ও উল্লেখ করছেন৷ তবে সবটাই নিজের খেয়াল মতো৷ নির্দিষ্ট কোনও বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা মেনে নয়, অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন তিনি৷
বিধায়কের দাবি, আগেও এ-বিষয়ে আপনাকে অবগত করার সামান্য চেষ্টা করেছিলাম৷ কিন্তু গত বেশ কয়েকদিন ধরে আপনি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট বার্তায় আমাদের শুধু মোট নমুনা পরীক্ষা ও আক্রান্তের সংখ্যা এবং তার জেলা ভিত্তিক ভাগ জানাচ্ছেন৷ অথচ, গত কয়েকদিনের সোশ্যাল পোস্টে আপনি ভ্রমণ ইতিহাস, লক্ষণযুক্ত, সরাসরি সংস্পর্শে, লক্ষণহীন বিষয়গুলোকে উল্লেখ করেননি৷ তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে আপনার বার্তা অসম্পূর্ণ থাকছে৷ তথ্যের নিরিখেও এটি অবৈজ্ঞানিক বলে তিনি মনে করেন৷


সুদীপ রায়বর্মণের দাবি করেন, প্রতিদিন আইসিএমআর-এর ড্যাশবোর্ডের যে তথ্য জানতে পারি, তা থেকে এ-টুকু বলা যায় আমাদের রাজ্যে ইতিমধ্যেই ভ্রমণ ইতিহাস কিংবা লক্ষণহীন ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে৷ এ-বিষয়ে এক তথ্য তুলে ধরে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ৩, ৫, ৬, ৮, ৯ এবং ১০ জুলাই বিমানে যে সব যাত্রীরা রাজ্যে ফিরেছেন, তাঁদের মধ্যে ১০২ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন৷ একই তারিখের তথ্য মতে, সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন ১২১ জন৷ উক্ত তারিখ সমূহে লক্ষণ হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৮ এবং একান্তবাসে থেকে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬ জন৷ অন্যদিকে, একই তারিখ সমূহে রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মীদের মধ্যে মোট ৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন৷ অজানা কারণে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ জন এবং ট্রেন বা বিমান বিহীন অন্য ভ্রমণ ইতিহাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৬ জন৷
সুদীপবাবু মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে দৃঢ়তার সাথে বলেন, আপনার সামাজিক মাধ্যমের বার্তা ও আইসিএমআর ড্যাশবোর্ডের তথ্যের মধ্যে ব্যাপক ধোঁয়াশা নিয়মিত চোখে পড়ছে৷ এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আম-জনতাকে যদি আপনি না জানান না কিংবা সরকারি ভাবে যদি তা প্রচারহীন থেকে যায় তা-হলে করোনাকে আমরা হেলাফেলা করলেও করতে পারি, উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন তিনি৷ সাথে তিনি যোগ করেন, এই আশঙ্কা আমাকে প্রায় প্রতিদিন চিন্তিত করছে৷ তাই, বিভিন্ন মাধ্যমে কতজন আক্রান্ত হচ্ছেন তা জানানো প্রয়োজন বলে বোধ করি৷

তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের সচেতনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন৷ সরকারের উচিত বিষয়টিকে নিয়ে আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা৷ তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে আমরা যত লুকোচুরি খেলব, আগামীদিনে ঠিক ততটাই বিপদ বাড়বে৷ এখনই সময়, জনগণকে আমরা সবটা খুলে বলি৷ প্রয়োজনে সংবাদ মাধ্যমের আরও সহযোগিতা কামনা করি৷ শুধু তা-ই নয়, শহর এবং রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এমন বহু উদ্যোগ গ্রহণ সম্ভব, যাতে করে সাধারণ মানুষ বিষয়টি নিয়ে আরও অবগত হন৷ এই অনুরোধ মুখ্যমন্ত্রী ভেবে দেখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন৷