ঋণের কিস্তির টাকা দিতে ব্যর্থ হয়ে বাড়ি ছাড়লেন গ্রাহক, সংস্থার কর্মীদের লুটপাট

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ জুলাই৷৷ কুমারঘাট এর ইন্ডস্ট্রি পাড়ায় মাইক্রো ফাইনান্স কোম্পানির কান্ড ঘিরে এলাকার জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে৷সংবাদ সূত্রে জানা গেছে কুমারঘাট ইন্ড্রাস্ট্রি পাড়ার পিযুষ দেবনাথ নামে এক ব্যক্তি একটি মাইক্রো ফাইনান্স কোম্পানি থেকে ঋণ গ্রহণ করেছিলেন৷ তিনি ওই মাইক্রোফাইন্যান্স কোম্পানির কথামতো পাঁচটি কিস্তির টাকা মিটিয়ে দিয়েছেন৷তারপর করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে লকডাউন ঘোষণা করায় ওই ব্যক্তি কর্মহীন হয়ে পড়েন৷


ফলে ওই মাইক্রোফাইন্যান্স কম্পানির বকেয়া টাকা কিস্তি মত মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না৷ মাইক্রো ফাইনান্স কোম্পানির চাপে পড়ে ওই ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যান৷ বাড়িতে বৃদ্ধা মা স্ত্রী এবং সন্তান রয়েছে৷বাড়িতে এসে মাইক্রো ফাইনান্স কোম্পানির লোকজনরা ঋণ গ্রহীতাকে না পেয়ে পরিবারের লোকজনদের উপর টাকা ফেরত দেবার জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে চলেছে৷ কিন্তু পরিবারের লোকজনদের পক্ষে টাকা মিটিয়ে দেওয়া কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না৷ মাইক্রো ফাইনান্স কোম্পানির লোকজনরা ওই পরিবারের নাবালক শিশুদেরকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেছে বলে অভিযোগ৷ তাণ্ডবের এখানেই শেষ নয়৷ ঋণগ্রহীতা পীযূষ দেবনাথকে বাড়িতে না পেয়ে তার মার অনুপস্থিতিতে ঘরে ঢুকে আলমারি ভেঙ্গে নগদ সাড়ে ১২ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ৷


এ ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে৷লকডাউন পরিস্থিতিতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক কিস্তির টাকা মিটিয়ে না দিলেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল৷অথচ মাইক্রোফাইন্যান্স কোম্পানিটি কিস্তির টাকা মিটিয়ে না দেওয়ায় ঋণগ্রহীতাকে না পেয়ে তার মায়ের ঘর থেকে টাকা পয়সা জোর করে ছিনতাই করে নিয়ে গেছে৷ এ ধরনের তাণ্ডবের সঙ্গে জড়িত মাইক্রো ফাইনান্স কোম্পানি লোকজনদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্থানীয় জনগণ জোরালো দাবি জানিয়েছেন৷