ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনা, সুরক্ষা ব্যবস্থা পর্যালোচনায় লাদাখে সেনা প্রধান

নয়াদিল্লি, ২৩ মে (হি. স.) : ভারত ও চীনের নিয়ন্ত্রণ রেখায় গত মাসে চীনা সেনা-দের সাথে ভারতীয় সেনা-র বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ হয়েছে। তাতে, ভারত ও চীন উভয় রাষ্ট্র অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। সীমান্তে উত্তেজনা দেখে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এম এম নারওয়ান অত্যন্ত গোপনীয় সফরে লাদাখে পৌঁছে নিয়ন্ত্রণ রেখায় সুরক্ষা ব্যবস্থার পর্যালোচনা করেছেন।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারওয়ান ভারত ও চীনের মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলওসি) সংবেদনশীল এলাকায় সুরক্ষা পর্যালোচনার জন্য লাদাখের যে-তে অবস্থিত ১৪ কর্পস সদর দফতর পরিদর্শন করেছেন। লাদাখ সীমান্তে এই গোপনীয় সফরকে ভারত ও চীনা সৈন্যদের মধ্যে সংঘর্ষ পরবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ বিদেশ মন্ত্রক একদিন আগেই বিবৃতিতে বলেছে, সমস্ত ভারতীয় গতিবিধি হচ্ছে শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রণ রেখায় অর্থাৎ ভারতীয় অঞ্চলে। এক্ষেত্রে চীনের দাবি সঠিক নয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রেখা সম্পর্কে পুরো জ্ঞান রয়েছে এবং তা পুরোপুরি অনুসরণ করা হচ্ছে। বাস্তবে, চীন থেকেই সাম্প্রতিক গতিবিধির কারণে ভারতীয় সেনার নিয়মিত টহল বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে।

চীন মূলত অভিযোগ করেছে, ভারতীয় সেনা সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল এবং লাদাখ এবং সিকিম সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়েছিল। চীনা সেনাবাহিনী ভারতীয় সীমান্তে টহলদারি-তে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন। তবে এই ঘটনার পরে ভারত ও চীন সীমান্তে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভারত সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য তাঁবু স্থাপন করে গালওয়ান উপত্যকায় অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করেছে সেনাবাহিনী।

তবে এর আগে সেনাপ্রধান নারওয়ানে বলেছেন, উত্তর সিকিম এবং পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারতীয় ও চীনা সৈন্যদের মধ্যে এই ঘটনাগুলির অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সাথে কোনও সম্পর্ক নেই। ওই ঘটনাগুলি নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভালভাবে বর্ণিত না হওয়ায় অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে, আগামীদিনেও ঘটবে।

সাথে তিনি যোগ করেন, বাস্তবে ভারতীয় ও চীনা সেনারা প্রতিদিন খুব সাধারণ পদ্ধতিতে ১০ টি ভিন্ন স্থানে মিলিত হন। দু’দেশের সৈন্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব কেবল সময়ে সময়ে এক বা দুটি স্থানে ঘটে থাকে। তাঁর দাবি, যখন সীমান্তে কমান্ডার মোতায়েন পরিবর্তন হয় তখন এমন ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, সেনা কর্মকর্তা-দের দাবি, স্থানীয় কমান্ডারদের মধ্যে আলোচনা এ-বার সীমান্তে উত্তেজনা হ্রাস করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং কূটনৈতিক মাধ্যমে অচলাবস্থা সমাপ্ত করার জন্য চেষ্টা চলছে।