নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ মার্চ৷৷ মহা ধুমধামে পালিত হল দোল পূর্ণিমা ও হোলি ৷ দোল পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে সারা ত্রিপুরায় রং খেলায় মেতে উঠেছেন আবাল- বৃদ্ধ-বনিতা৷ গুরুজনদের পায়ে আবির দিয়ে আশীর্বাদ নেওয়া, তুলসীর বেদিতে রং দেওয়া, সব মিলিয়ে দোল পূর্ণিমা উৎসবের রূপ নিয়েছিল৷ চীনা রঙের এবার বাজার খারাপ৷ লাল, নীল, সবুজ আবির কিনতেই ব্যস্ত সকলে৷
সোমবার মাহারাজগঞ্জ বাজার সব্জি ব্যবসায়ী সমিতি দোল পূর্ণিমা পালন করেছে৷ বাজারের সমস্ত ব্যবসায়ীরা মিলে দোল উপলক্ষ্যে মহা প্রসাদ বিতরণ, কীর্তন ইত্যাদির আয়োজন করেছেন৷ ব্যবসায়ী সমিতি সমস্ত রাজ্যবাসীর মঙ্গল কামনা করেছে৷ সাথে, সকলের জীবন রঙ্গিন হোক, সেই প্রার্থনা করেছে৷ সমিতির বক্তব্য, জাতি-উপজাতি উভয় অংশের মানুষ মিলে আজ দোল পূর্ণিমা পালন করা হচ্ছে৷ জাতি-উপজাতির মধ্যে ওই ঐক্য যেন বজায় থাকে সেই প্রার্থনা করেছেন তাঁরা৷
এদিকে হোলি উপলক্ষে মঙ্গলবার ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গিয়েছে৷ সোমবার ও মঙ্গলবার রাজধানী আগরতলায় পুলিশের টহলদারী ছিল কঠোর৷ সেই সাথে শহরের রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের কড়াকড়িও ছিল৷ রাতে খবর লেখা পর্যন্ত হোলি উৎসব মোটামুটি শান্তিতেই কাটল রাজ্যে৷
হোলি মানেই আনন্দ উল্লাসে গা ভাসিয়ে দেবার দিন৷ করোনা ভাইরাস আতঙ্কে হোলি উৎসবের আনন্দে কিছুটা ভাঁটা পড়লেও আমাদের রাজ্যে তাতে তেমন কোন প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি৷ হোলির দিনে আপনজনকে এমনকি বন্ধু বান্ধবী আত্মীয়পরিজনকে রাঙিয়ে দিয়ে উল্লাসে মত্ত হয়ে পড়তে দেখা গেছে গোটা রাজ্যেই৷ রাজধানী আগরতলা শহরে এবং বিভিন্ন পার্কেও যুবক যুবতি, তরুণ তরুণীদের হোলির উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে উঠতে দেখা গেছে৷
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন উৎসবগুলির মধ্যে হোলি উৎসব অন্যতম উৎসব৷ হোলি উৎসব আমাদের জীবনে অনেক আনন্দ উল্লাস নিয়ে আসে৷ এদিন প্রিজনদের সঙ্গে আবির কিংবা অন্যান্য রকমারী রঙ দিয়ে রাঙিয়ে দিয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেন কিশোর কিশোরী, যুবক যুবতি সহ সব বয়সের মানুষজনরাই. হোলি উৎসব মূলত, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসব হলেও তা এখন নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ নেই৷ সব ধর্মবর্ণের মানুষজন হোলির আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেন এবং আনন্দ উল্লাস ভাগ করে নেয়৷ বর্তমান আত্মকেন্দ্রিক সমাজ ববত্থ্যস্থায় হোলি উৎসব সেইসব কংকীর্ণতাকে দূরে সরিয়ে একে অপরের সঙ্গে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় হোলি উৎসবে৷ রাজধানী আগরতলা শহরের বিভিন্ন পার্কেও দেখা গেছে সেই চিত্রই৷ হোলি উৎসবের একটি ধর্মীয় দিকও রয়েছে৷ ‘ব্রজগোপী খেলে হোলি’ গানের তালে তালে সেই ধর্মীয় দিক অমাদের সনাতন ধর্মীয় রীতিনীতিকেও আজও উজ্জীবিত করে তুলে৷

