নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ মার্চ৷৷ ত্রিপুরায় শিল্প স্থাপনের অনুকুল পরিবেশ তৈরি করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা৷ মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় সচিবালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ সংবাদ জানান শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ তিনি জানান, সিঙ্গল উইণ্ডো এপ্রোভাল বাই অল গভর্নমেন্ট এজেন্সিস ইন ত্রিপুরা রুলস-২০২০ এর অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা৷
তিনি জানান, এই রুলস অনুমোদন দেওয়ার ফলে শিল্প স্থাপনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন সহজে পাবেন শিল্প উদ্যোগীরা৷ এরজন্য ১৭টি দপ্তরে ঘুরে ঘুরে তাদের হয়রানি হতে হবে না৷ অনলাইনে আবেদন করা যাবে৷ একবারই প্রয়োজনীয় ফি জমা করলে চলবে৷ ৩০ দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এই রুলসে৷ মন্ত্রী শ্রীনাথ বলেন, রাজ্যকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে হলে কৃষির পাশাপাশি শিল্পের উন্নতি প্রয়োজন৷ তিনি বলেন, রাজ্যে চাকুরী প্রত্যাশীরা ক্রমশ চাকুরী প্রস্তুতকারক হয়ে যাচ্ছেন৷ তাদের উৎসাহিত করতে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ৷
মন্ত্রী শ্রীনাথ তথ্য উল্লেখ করে জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার আগে পর্যন্ত রাজ্যে ছোট উদ্যোগ ছিল ৫,৪৩১টি৷ ৯ মার্চ ২০১৮ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত রাজ্যে এই সময়ে নতুন করে ২,৯৮০টি ইউনিট নিবন্ধিকৃত হয়েছে৷ এতে ৩৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব ছিল৷ তারমধ্যে অনেকাংশেই বিনিয়োগ হয়েছে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিনিয়োগ হচ্ছে৷ মোট ১৬,২৩৬ জনের কর্মসংস্থানের সুুযোগ তৈরি হয়েছে৷ তাঁর কথায়, শুধুমাত্র চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ছোট শিল্প উদ্যোগের ১,৩৬৬টি ইউনিট নথিভুক্ত হয়েছে৷ তাতে ২১৩ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে৷ কর্মসংস্থান হয়েছে ৮,২৪৬ জনের৷
শিক্ষামন্ত্রী জানান, রাজ্যে ১৪টি শিল্পনগরী রয়েছে৷ টিআইডিসি নাগিছড়াতে ৩৬ একরের আরও একটি শিল্পনগরী গড়ে তুলছে৷ এখানে স্টোন ক্র্যাশিং শিল্প গড়ে তোলা হবে৷ তাঁর দাবি, ইতিমধ্যে ১০টি আবেদন জমা পড়েছে সেখানে এই ধরণের ইউনিট গড়ে তোলার জন্য৷ শ্রীনাথ বলেন, ত্রিপুরা পূর্ণরাজ্য উন্নীত হওয়ার পর থেকে ৩১-০৩-২০১৮ পর্যন্ত রাজ্যের শিল্পনগরী বোধজংনগরে শিল্প স্থাপনের জন্য মাত্র ৯৩টি ইউনিটকে ল্যাণ্ড অথবা শেড দেওয়া হয়েছিল৷ এরমধ্যে ৪৫টি ইউনিট বর্তমানে চালু ছিল৷ বিনিয়োগের পরিমাণ ৭৭২ কোটি টাকা৷ প্রত্যক্ষভাবে কর্মসংস্থান পেয়েছে ১,৮৫৭ জন৷ কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার মাত্র ২ বছরের মধ্যে ৪৯টি ইউনিটকে ল্যাণ্ড ও শেড দেওয়া হয়েছে শিল্প স্থাপন করার জন্য৷ বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে ১৯১ কোটি টাকা৷ ২,৭৩০ জনের কর্মসংস্থানের সুুযোগ হবে৷
এছাড়াও শ্রীনাথ জানান, মন্ত্রিসভা ৪০ জন অ্যাডহক শিক্ষককে নতুনভাবে শিক্ষাদপ্তরে শিক্ষক পদে নিয়োগ করা জন্য বয়সের ছাড় দিয়েছে৷ এই ৪০ জনের মধ্যে ১ জন এস টি জি টি ও বাকি টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে৷ তাদের শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা পেরিয়ে গেছে৷ বয়স শিথিল করে তাদের নতুন করে নিয়োগের জন্য অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা৷

