করিমগঞ্জ, ৭ মার্চ (হি.স.) ৷৷ দক্ষিণ অসমের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত জেলা সদর করিমগঞ্জ থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরার লরি চালক জনৈক সঞ্জিতবাবুর সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘুরছেন তাঁর ছেলে ও পরিবারের সদস্যরা৷ নিখোঁজ চালকের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রদত্ত নিখোঁজ সংক্রান্ত এজাহার করিমগঞ্জ কিংবা ত্রিপুরার তেলিয়ামুড়া থানা কর্তৃপক্ষ কোনও গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে৷
করিমগঞ্জ শহর সংলগ্ণ শিলচর রোডে বাবা হোটেলের সামনে থেকে গত শনিবার লরি চালক খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া থানাধীন মহারানিপুর জারুইলংবাড়ির বাসিন্দা সঞ্জিত নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁর পরিবারের লোকেরা৷ জানা গেছে, গত শনিবার ভোরেক দিকে সঞ্জিতবাবু কয়লা আনার জন্য ত্রিপুরা থেকে লরি নিয়ে করিমগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলেন৷ করিমগঞ্জের শহর সংলগ্ণ বাবা হোটেলের সামনে থেকে গত মঙ্গলবার সঞ্জিত শেষবারের মতো মোবাইল ফোনে কথা বলেন পরিবারের সদস্যদের সাথে৷ এর পর থেকে সঞ্জিতের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়৷
আজ আরেক শনিবার পর্যন্ত সঞ্জিতের মোবাইল ফোন সুইচড অফ রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়ছে৷
এদিকে সঞ্জিতের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পরিবারের লোকেরা গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন যাপন করতে থাকেন৷ তাঁর খোঁজখবর নিয়ে গত বুধবার পর্যন্ত যখন তাঁর সাথে কোনও যোগাযোগ হয়নি, তখন পরিবারের লোকেরা ত্রিপুরার তেলিয়ামুড়া থানায় একটি নিখোঁজ সংক্রান্ত এজাহার দিতে যান৷ কিন্তু তেলিয়ামুড়া থানা কর্তপক্ষ তাঁদের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ না করে, অসমের করিমগঞ্জ থানায় যোগাযোগ করতে বলেন৷ সে অনুযায়ী তাঁরা করিমগঞ্জ সদর থানায় আসেন৷ এখানে লিখিত অভিযোগ করতে গেলেও তাদের নাকি সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, যেহেতু সঞ্জিত ত্রিপুরার বাসিন্দা তাই প্রথমে তাঁর গৃহ থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত এজাহার দাখিল করতে হবে৷ এটাই নাকি নিয়ম৷ এর পরও একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেন করিমগঞ্জ থানা কর্তপক্ষ৷ পাশাপাশি নিখোঁজ সঞ্জিতের সন্ধান বের করার জন্য তাঁর কয়েকটি ছবি করিমগঞ্জ পুলিশ রেখে দিয়েছে৷
করিমগঞ্জ জেলা এবং সংলগ্ণ সম্ভাব্য এলাকায়ও অনেক খোঁজাখুঁজির পর ব্যর্থ হয়ে সঞ্জিতের পরিবারের সদস্যরা পুনরায় তেলিয়ামুড়া থানায় গিয়ে এ সম্পর্কে একটি এফআইর দাখিল করতে চান৷ কিন্তু তেলিয়ামুড়া থানা কর্তৃপক্ষ কোনও এজাহার গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে৷ শুধুমাত্র সঞ্জিতের সাথে মজুত মোবাইলটি হারিয়ে গেছে বলে এক অভিযোগপত্র তাদের কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছে তেলিয়ামূড়া পুলিশ৷ সঞ্জিতের নিখোঁজের ঘটনায় এক অজানা আতঙ্কের মধ্যে দিন গুজরান করছে গোটা পরিবার৷ পরিবারের সদস্যরা করিমগঞ্জে এসে বার বার খোঁজ নিচ্ছেন৷ কিন্ত প্রতিবারই ব্যর্থ মনোরথ হয়ে তাঁদের ফিরে যেতে হচ্ছে৷
তবে প্রশ্ণ উঠেছে, ত্রিপুরার তেলিয়ামুড়া পুলিশ নিখোঁজ সংক্রান্ত এজাহার কেন গ্রহণ করেনি? আযৌক্তিকভাবে কেন সঞ্জিতের পরিবারের সদস্যদের করিমগঞ্জে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে? এই বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে বলে করিমগঞ্জের উকিল সমাজের বক্তব্য৷

