কবর খুঁড়ে নিখোঁজ ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার পেঁচারথলে বিলোনীয়া ও আগরতলায় ২ যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ ফেব্রুয়ারী৷৷ ছাত্রাবাসে এক কলেজ ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ তার মৃত্যু নিয়ে পুলিশ ধন্দে পড়েছে৷ বিলোনিয়া ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাবিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নারাই ত্রিপুরার মৃতদেহ ছাত্রাবাসে উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে৷


বুধবার বেলা পৌনে একটা নাগাদ বিলোনিয়া ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে নারাই ত্রিপুরার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ এ-বিষয়ে বিলোনিয়ার এসডিপিও সৌম্য দেববর্মা জানান, ছাত্রাবাসের ১২ নম্বর রুমে নারাই দেববর্মা থাকত৷ আজ ঘুম থেকে না ওঠায় তার সহপাঠীরা ডাকাডাকি করেন৷ কিন্তু সে কোনও উত্তর না দেওয়ায় দরজা খুলে দেখা যায় নারাই বিছানায় শুয়ে রয়েছে৷ কিন্তু, তাকে যখন ডাকাডাকি করা হয় তখন তার সহপাঠীরা টের পান নারাই-এর শরীর পুরো ঠাণ্ডা হয়ে রয়েছে৷ তখন বিষয়টি নিয়ে নাড়া পড়ে৷ সৌম্যবাবু বলেন, ছাত্রাবাসের ছাত্ররাই পুলিশে খবর দেন৷


তিনি জানান, খবর পেয়ে বিলোনিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়৷ ডগ স্কোয়াড এবং ফরেন্সিক টিমও ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবতীয় প্রমাণ সংগ্রহ করেছে৷ তিনি বলেন, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা পুলিশ সুপারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন৷ তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ এখনও জানা সম্ভব হয়নি৷ ধারণা করা হচ্ছে, শারীরিক অসুস্থতায় তার মৃত্যু হতে পারে৷ কিন্তু নারাইয়ের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তার অসুস্থতা সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি৷ সৌম্যবাবু বলেন, মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে৷ ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে৷
এদিকে, ওই মৃত্যুকে ঘিরে কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং ছাত্রাবাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে৷ ছাত্রাবাসে ৮৬ জন ছাত্র থাকেন৷ কিন্তু, কখনও কোনও নজরদারি তেমন দেওয়া হয় না৷ ছাত্রাবাসে প্রতিদিন কতজন ছাত্র থাকেন সে-বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিছুই জানেন না৷ অবশ্য কর্মী স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ৷


এদিকে, নেশা গ্রস্থ যুবকের আত্মহত্যা৷ বুধবার নিজ ঘর থেকে উদ্ধার হয় মৃতদেহ৷ ঘটনা গান্ধীঘাট এলাকায়৷ মৃত যুবকের নাম বাপি দাস৷ পরিবারের বক্তব্য সব সময় নেশা গ্রস্থ অবস্থায় থাকতো বাপি৷ কোন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল না৷ নেশা করার জন্য অর্থ দিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রায়ই ঝামেলা হত তার৷ ইতিমধ্যে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বেশ কয়েকবার নেশার কবল থেকে মুক্ত করতে হোমেও পাঠায়৷ কিন্তু সেখান থেকে ফিরে কোন রকমের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি তার৷ ফের নেশার মধ্যে ডুবে থাকত মৃত বাপি দাস৷ এই অবস্থায় বুধবার বাড়ি ফিরে মায়ের কাছে টাকা চায় সে৷ মা তাঁকে টাকা দিতে অপারগ বলে জানায়৷ চূড়ান্ত অশান্তি হয় বাড়িতে৷ এরপরই কোন এক সময়ে আচমকা নিজ ঘরে ঢুঁকে ফাঁসিতে আত্মহত্যা করে বাপি দাস৷ মৃত যুবকের ভাইয়ের দাবি দেনা হয়েছিল সে৷ সেই টাকা চাইতে প্রতিনিয়ত বাড়িতে আসত লোকজন৷ এর থেকেই সম্ভবত আত্মহত্যা করেছে বাপি৷ পুলিশ খবর পেয়ে ছুটে যায়৷ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়৷


নিখোঁজ ব্যবসায়ী ধনগোপাল সাহা খুনের কিনারা হয়েছে বলে দাবি করেছেন উত্তর ত্রিপুরার পুলিশ সুপার ভানুপদ চক্রবর্তী৷ তাঁর কথায়, গতকাল রাতে ধৃত দুই যুবকই ওই ব্যবসায়ীকে খুন করেছে৷ বুধবার সকালে মৃতদেহ উদ্ধারের পর এ-কথা বলেছেন তিনি৷
গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে নিখোঁজ হয়েছিলেন উত্তর ত্রিপুরা জেলার পেঁচারথল থানাধীন উত্তর ধনিছড়ার বাসিন্দা ধনগোপাল সাহা৷ পুলিশ সুপার ভানুপদ চক্রবর্তী বলেন, ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ৫০ মিটার দূরে রক্তের দাগ পাওয়া গিয়েছিল৷ আজ তাঁর বাড়ি থেকে ১৫০ মিটার দূরে ধনিছড়ার পাড়ে বাঁশঝাড়ের নীচে মাটি দিয়ে চাপা দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে মৃতদেহ৷ তিনি বলেন, গতকাল রাতে সঞ্জিত সরকার এবং আকাশ সরকারকে আটক করা হয়েছিল৷ ধনগোপাল সাহাকে খুন করেছে বলে তারা স্বীকারোক্তি দিয়েছে৷ তারাই মাটি খুঁড়ে মৃতদেহ তুলেছে৷ তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ওই খুনের ঘটনায় সন্দেহভাজন মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ বাকি চারজন বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছে৷ ওই দুই যুবককে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে৷


উত্তর ত্রিপুরা জেলা পুলিশ সুপারের কথায়, ওই খুনের ঘটনায় কিনারা হয়েছে৷ খুনের কারণ সম্পর্কে যথেষ্ট প্রমাণও হাতে এসেছে৷ তাছাড়া, ওই দুই যুবক স্বীকারোক্তিও দিয়েছে৷ তবে, ওই ঘটনার সাথে অন্য কোনও রহস্য কিংবা অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে৷ তিনি বলেন, ধৃত দুই যুবক ধনগোপাল সাহার প্রতিবেশী৷


আজ পেঁচারথল প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ধনগোপাল সাহার মৃতদেহের ময়না তদন্ত করা হয়েছে৷ ময়না তদন্তের পর মৃতদেহ তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে৷ মৃতের ছেলে দোষীদের ফাঁসি দাবি করেছে৷