নদিয়াপুর স্টেশনে সাদা পোশাকের পুলিশের জালে পাচারকারি, উদ্ধার কোটি টাকার ইয়াবা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ সেপ্ঢেম্বর৷৷ ফের নিষিদ্ধ নেশার ট্যাবলেট ইয়াবা উদ্ধার করেছে অসম-ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী চোরাইবাড়ি থানার পুলিশ৷ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নদিয়াপুর রেলওয়ে স্টেশনে (ত্রিপুরা) শিলচর (দক্ষিণ অসম) থেকে আগরতলাগামী প্যাসেঞ্জার ট্রেনে তালাশি চালিয়ে বিপুল সংখ্যার ইয়াবা ট্যাবলেটগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে৷ এর সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে নেশা কারবারি কামরুল আলম (৪৫)-কে৷ সে পাথারকান্দি থানা এলাকার টিলাবাড়ি ১ নম্বর ওয়র্ডের বাসিন্দা প্রয়াত জনৈক আবুল কালামের ছেলে৷


চোরাইবাড়ি থানার ওসি জয়ন্ত দে জানান, সেকেন্ড অফিসার সাধন মজুমদারকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেনে অভিযান চালিয়ে নেশা কারবারি কামরুল আলমের হেফাজত থেকে ২০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে৷ উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলির বাজারমূল্য কমপক্ষে এক কোটি টাকা৷ ধৃত কামরুলের বিরুদ্ধে ২০/১৯ নম্বরে নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্সেস অ্যাক্ট, ১৯৮৫ (এনডিপিএস)-এর ২২-সি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে৷


জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃরাজ্য নেশা পাচারকারীদের সঙ্গে জড়িত ছিল কামরুল আলম৷ সাধারণ পুলিশ এবং গোয়েন্দা শাখার কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও হাতেনাতে পাকড়াও করা সম্ভব হচ্ছিল না৷ আজ অবশ্য গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আগে থেকেই নদিয়াপুর স্টেশনে ওত পেতে ছিলেন চোরাইবাড়ি থানার ওসি জয়ন্ত দাস ও সেকেন্ড অফিসার সাধন মজুমদার৷


জানা গিয়েছে, উত্তর জেলার পুলিশ সুপার ভানুপদ চক্রবর্তী কয়েকদিন দপ্তরের কাজে বহিঃরাজ্যে ছিলে৷ এই সময়ে চোরা কারবারিরা গণহারে পাচারবাণিজ্য চালিয়েছিল৷ সোমবার পুলিশ সুপার পুণরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন৷ তারপরই তিনি অভিযান চালানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন৷ মঙ্গলবার তাঁর নেতৃত্বে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশ সাদা পোশাকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল৷ শিলচর-আগরতলাগামী ট্রেনে করে পাথারকান্দির কামরুল আলম দুটি ব্যাক নিয়ে নদীয়াপুর রেল স্টেশনে নেমে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে৷ তখন পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ কামরুলকে আটক করে৷ তার একটি ব্যাগে নয়টি মদের বোতল আর অন্য ব্যাগে ২০,০০০ ইয়াবা টেবলেট পাওয়া যায়৷ চোরবাজারে এই টেবল্যাটের মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা৷