
পুষ্কর (আজমির), ৯ সেপ্টেম্বর (হি.সি.) : রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) কেন্দ্রীয় সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক আখ্যা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নাগরিকপঞ্জীকে (এনআরসি) সংবেদনশীল বিষয় হিসাবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সঙ্ঘের তরফে জানানো হয়েছে যে এনআরসি রিপোর্টের ভিত্তিতে একটি নীতি তৈরি করা উচিত। বৈঠকে সংঘ দলিতদের সংরক্ষণের বিষয়ে নিজেদের মতামত দিয়েছে। সংরক্ষণকে সমর্থন করে সংঘের তরফে জানানো হয়েছে যে, সংবিধান সম্মত সংরক্ষণ বর্তমান পরিস্থিতিতে একান্ত ভাবে জরুরি।
আরএসএসের তিন দিনের জাতীয় সমন্বয় বৈঠকের সমাপ্তির পর সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আরএসএসের সহ-সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবোলে। তিনি ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন যে, ওই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মোদী সরকারের ১০০ দিনের কর্মকাণ্ডতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে অখিল ভারতীয় প্রচার প্রমুখ অরুণ কুমার এবং সহ-প্রচার প্রমুখ নরেন্দ্র ঠাকুরও উপস্থিত ছিলেন।
হোসবোলে বলেন যে, বৈঠকে এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। এছাড়াও বৈঠকে দেশের উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলি নিয়েও আলোচনা করা হয়। সঙ্ঘ ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে এসব অঞ্চলগুলিতে কাজ করে চলেছে। সেই পরিকল্পনার একটা উপস্থাপনা ওই তিন দিবসীয় বৈঠকে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন যে, মুসললিম সমাজে দেশপ্রেমিক মানুষও রয়েছে তবে তাদের উচিত মাদ্রাসারগুলি অবস্থার উন্নতি করা। বিশ্বের বৃহত্তম আদিবাসী জনসংখ্যা ভারতে রয়েছে। সংঘ তাদের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে। উপজাতি অঞ্চলে ধর্ম পরিবর্তন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মাওবাদীরা আদিবাসী অঞ্চলের মানুষকে উস্কে দিচ্ছে।
তিনি বলেছেন, সীমান্ত নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দেশ সাম্প্রতিক সময়ে হয়েছে। অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার এবং ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়টি বেশ উদ্বেগের। সীমান্তকে প্রণাম জানানোর কর্মসূচি সংঘ নিয়েছিল। যার ইতিবাচক পরিণাম পাওয়া গিয়েছে। দেশের জল এবং স্থল সীমানায় সংঘের বিভিন্ন সংগঠন কাজ করে চলেছে। বৈঠকে শিক্ষা ক্ষেত্র সহ অন্যান্য বিষয়গুলির উপর গভীর ভাবে আলোচনা হয়েছে। এই সময়কালে শিক্ষার মান নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। এবিষয়ে তিনি বলেছেন, সাংস্কৃতিক জীবনের মূল্যবোধ ঘাটতি দেখা গিয়েছে। হোসবোলে মহিলাদের সুরক্ষার বিষয়েও কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে, মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা শুধুমাত্র সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এই বিষয়ে সাধারণ নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। এই বিষয়ে সবার এক সাথে কাজ করা দরকার।
বৈঠকে পরিবেশ রক্ষা ও সচেতনতার নিয়েও আলোচনা করা হয়। বৈঠকে আগ্রা এবং পুণেতে একদিনের কর্মশালা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান যে, বৈঠকে জল সাশ্রয় এবং প্লাস্টিক ব্যবহার এড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন যে স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ চীনা পণ্য বর্জনের পরিবেশ তৈরি করেছে। এসময় তিনি গণ পিটুনি নিয়েও মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেছেন, সংঘ সমাজে কোনও হিংসতার প্রয়াসকে সমর্থন করে না।

