নয়াদিল্লি, ৯ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : ভারতে ভূমির গুরুত্ব এই বিষয় থেকে অনুমান করা যায় যে আমাদের সংস্কৃতিতে পৃথিবীটিকে মা হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। ভারত পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিরন্তর প্রয়াসে নিযুক্ত রয়েছে। এদিকে, একটি প্রস্তাবের অধীনে, ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে ২১ মিলিয়ন হেক্টর থেকে ২৬ মিলিয়ন হেক্টর জঞ্জাল অনাবাদী জমিকে সার দিয়ে উর্বর জমিতে পরিণত করা হবে। সোমবার গ্রেটার নয়েডায় এক্সপো মার্টে সিওপি ১৪ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ কথা বলেছেন।

এই সম্মেলনে বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন। এতে জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ক্ষয়, মরুভূমির মতো ক্রমবর্ধমান হুমকির মোকাবিলায় মতো বিষয়ে আলোচনা ও চিন্তা ভাবনা হয়ে থাকে। বৈঠকে গ্লোবাল ওয়াটার এজেন্ডার উপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন যে আজ বিশ্বে পানীয় জলের সমস্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পানীয় জল বাঁচাতে বিশ্ব-মানের একটি সম্মেলন করা দরকার, যেখানে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। জল সঠিক ভাবে ব্যবহার করে জল সংরক্ষণের দিকে এগিয়ে চলেছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন যে ভারত সবুজ কভারকে (গাছের সংখ্যা) বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলস্বরূপ, ভারতের বনাঞ্চল আট মিলিয়ন হেক্টর বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন যে সারা বিশ্বজুড়ে মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা নিয়ে জীবনযাপন করছেন। এ কারণে মহাসাগরের জলের স্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, বৃষ্টি-বন্যা ও ঝড়ের প্রভাব সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসীকে ইতিবাচক দিক দিয়ে ঐক্যবদ্ধ করা দরকার। তিনি জানিয়েছেন যে ভারত এই বিষয়ে তিনটি বড় কর্মসূচির আয়োজন করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য এবং ভূমির অবক্ষয় ইস্যুতে ভারত বিশ্বে বহু পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছিলেন যে আমাদের সরকার কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার দিকে এগিয়ে চলেছে, বিভিন্ন উপায় কৃষক ও সেচের কাজ করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা জলের সমস্যা মোকাবিলার জন্য আলাদা মন্ত্রক তৈরি করেছি যাতে সকলের সমাধান হতে পারে। আগামী দিনগুলিতে প্লাস্টিকের একক-ব্যবহারের উপর নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জৈব সারের উপর। আমরা ‘প্রতি জলের ফোটায় বেশ শস্য’ নীতি নিয়ে কাজ করছি। তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে ভারত ভবিষ্যতে বন্ধ্যা জমিকে উর্বর করার দিকে অগ্রসর হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত ২১ মিলিয়ন হেক্টর থেকে ২৬ মিলিয়ন হেক্টর অনাবাদী জমি সার দেবে। এই জমিকে উর্বর করা হবে।
এর আগে, কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকার জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ভারত যে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সে সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বলেছিলেন যে ভারত ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও দূষণ মোকাবিলায় ই-যানবাহনকে উৎসাহিত করেছে। ভারত সরকার পরিবেশ রক্ষার জন্য নিয়মিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষকে সচেতন করছে। বাঘের সংখ্যা উল্লেখ করে জাভরেকর বলেছিলেন যে বিশ্বের ৭৭ শতাংশ বাঘ কেবল ভারতে রয়েছে, যা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি আরও জানান যে, আমাদের সরকার জলের সংরক্ষণের জন্য একটি পৃথক মন্ত্রকও গঠন করেছে। এটি লক্ষণীয় যে মরুভূমি থেকে উর্বব জমিকে বাঁচানোর জন্য রাষ্ট্রসংঘের কনভেনশন (ইউএন কনভেনশন টু ডের্জাটিফিকেশন) এর আওতায় আয়োজিত এই ১৪ তম সম্মেলন। এবার ভারত এই সম্মেলনের আয়োজন করছে।

