রাজ্যের অনুন্নত ১২টি ব্লকের উন্নয়নে ত্রিবার্ষিক পরিকল্পনা, শিল্প স্থাপনে ভর্তুকি প্রকল্পে সংশোধন, মন্ত্রিসভায় সিলমোহর

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩ জুন ৷৷ ত্রিপুরায় একটিও পিছিয়ে পড়া ব্লক যাতে না থাকে, সেই লক্ষ্যে ত্রিবার্ষিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাজ্য সরকার ৷ তার জন্য প্রতিবছর বাজেট থেকে তিন বছরের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে ৷ শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট সূচকও নির্ণয় করা হয়েছে উন্নয়নের জন্য৷ মোট ১২টি ব্লকের জন্য এই পরিকল্পনায় সোমবার ত্রিপুরা রাজ্য মন্ত্রিসভা সিলমোহর দিয়েছে ৷ তাতে ওই ব্লকগুলিতে শূন্যপদের ৮০ শতাংশ পূরণেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা ৷ পাশাপাশি, শিল্প বিনিয়োগে ভরতুকি প্রকল্পে সংশোধনী এনেছে ত্রিপুরা সরকার ৷ নতুন দুটি ক্ষেত্রকে ভরতুকির আওতায় আনারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা ৷ আজ সন্ধ্যায় সচিবালয়ের কনফারেন্স হল-এ সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ ৷


তিনি জানান, বিধানসভা নির্বাচনের পর অনুন্নত ১০টি ব্লক চিহিণত করে ওই ব্লকগুলির অন্তর্গত প্রত্যেক পরিবারকে বিনামূল্যে চাল দেওয়া হয়েছিল ৷ এখন ওই ১০টি ব্লকের সাথে পিছিয়ে পড়া আরও দুটি ব্লক যুক্ত করে ব্লকগুলির সার্বিক উন্নয়নে ত্রিবার্ষিক পরিকল্পনায় আজ রাজ্য মন্ত্রিসভা সিলমোহর দিয়েছে ৷ তাঁর কথায়, ছামনু, ডম্বুরনগর, রইস্যাবাড়ি, দামছড়া, দশদা, করবুক, শিলাছড়ি, রূপাইছড়ি, তুলাশিখর এবং মুঙ্গিয়াকামী ব্লকের সাথে অম্পি ও গঙ্গানগর ব্লক যুক্ত করা হয়েছে ৷ ওই অনুন্নত ব্লকগুলির সার্বিক উন্নয়নে সূচকও স্থির করা হয়েছে ৷


শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, তিন বছরের রাজ্য বাজেট থেকে ওই প্রকল্পের জন্য মোট ৫০ কোটি বরাদ্দ করা হবে৷ তাছাড়া, অন্যান্য দফতরও ওই ব্লকগুলিতে বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়নে অগ্রাধিকার দেবে ৷
তাঁর বক্তব্য, এই নতুন প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি প্রতি ৬ মাস অন্তর মুখ্যমন্ত্রী পর্যালোচনা করবেন৷ তাছাড়া, প্রত্যেক ব্লকের জন্য একজন করে পদস্থ আধিকারিক দায়বদ্ধ থাকবেন ৷ তাঁর কথায়, প্রধানসচিব স্তরের আধিকারিককে প্রত্যেক ব্লকের দায়িত্ব দেওয়া হবে ৷ তাঁদের নাম দেওয়া হয়েছে রাজ্য প্রভারী আধিকারিক৷ তাঁরাও প্রতি মাসে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন৷
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনৈতিক-সহ মোট ৬টি ভাগে সূচক নির্ণয় করা হয়েছে৷ এর ভিত্তিতেই ব্লকগুলির উন্নয়ন করা হবে৷ পাশাপাশি, ওই ব্লকগুলির উন্নয়নে ৮০ শতাংশ শূন্যপদ পূরণ করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা, জানান শিক্ষামন্ত্রী৷


এদিকে, রাজ্য ভরতুকি প্রকল্পের অধীন আরও দুটি ক্ষেত্রকে যুক্ত করার জন্য আজ রাজ্য মন্ত্রিসভা সংশোধনীর অনুমোদন দিয়েছে৷ ফলে, হোটেল এবং পর্যটন, হসপিটাল ও নার্সিংহোম স্থাপনের ক্ষেত্রেও ভরতুকির আওতায় আনা হয়েছে৷ মূলত, বড় শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে ত্রিপুরায় বিনিয়োগে কোনও ভরতুকি ছিল না৷ এই সংশোধনীর ফলে বড় শিল্পেও ভরতুকি মিলবে৷ শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ একথা জানিয়েছেন৷


তিনি জানান, শিল্পে ভরতুকি প্রকল্প ইতিপূর্বে একাধিকবার সংশোধীত হয়েছে৷ ১৯৯৫, ২০০২, ২০০৭, ২০১২ এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে সংশোধন করা হয়েছে এই প্রকল্প৷ তাতে ক্ষুদ্র, ছোট এবং মাঝারি শিল্পের জন্য ভরতুকি বিধান ছিল৷ কিন্তু, বড় শিল্পকে এই প্রকল্পের বাইরে রাখা হয়েছিল৷ ত্রিপুরা রাজ্য মন্ত্রিসভা চেয়েছে বড় শিল্পগুলিকেও ওই ভরতুকি প্রকল্পের আওতায় আনা হোক৷ তাতে বড় শিল্পপতিরা ত্রিপুরায় বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন৷ তিনি জানান, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন শিল্পপতি ত্রিপুরায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন৷ তাই, ওই প্রকল্পটি সংশোধনী করা হয়েছে৷


শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনক্রমে বড় শিল্পগুলিকেও এখন থেকে ভরতুকি দেওয়া হবে৷ তবে, শুধুমাত্র অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলিতেই ভরতুকি মিলবে৷ তিনি জানান, ইতিপূর্বে বাঁশ, রবার, কৃষি, চা এবং গ্যাস ভিত্তিক প্রকল্প ভরতুকির জন্য অনুমোদিত ছিল৷ এখন হোটেল ও পর্যটন এবং হলপিটাল ও নার্সিং হোম, এই দুটি ক্ষেত্রকেও যুক্ত করা হয়েছে৷ তিনি আরও জানান, নার্সিং হোমের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫০ বেডের হতে হবে এবং হোটেলের ক্ষেত্রে জমি ছাড়া ৩ কোটি টাকার প্রজেক্ট হলে তবেই ভরতুকি মিলবে৷


শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ভরতুকির পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে৷ এছাড়া, ওই শিল্পে উৎপাদিত সামগ্রী পরিবহণের ক্ষেত্রে ভরতুকি যুক্ত করা হয়েছে৷ তাঁর সাফ কথা, রাজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহকারীদের লাল গালিচা বিছিয়ে স্বাগত জানাবে ত্রিপুরা সরকার৷ কারণ, গত এক বছরে ১,৪৭৪টি শিল্প স্থাপন হয়েছে রাজ্যে৷ তাতে তিন হাজারের অধিক কর্মসংস্থান হয়েছে৷ তাই, মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীরা ব্যাপকভাবে ত্রিপুরায় আসবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন৷