নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ অক্টোবর৷৷ রেগা বন্ধ করে দেবার পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ক্রমশ রেগায় অর্থ বরাদ্ধ
সঙ্কুচিত করে চলেছে৷ ত্রিপুরা এবং কয়েকটি দেশের ছোট রাজ্য এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে৷ ত্রিপুরায় সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলনও সংগঠিত হয়েছে৷ কিন্তু বড় বড় রাজ্যগুলো এ সম্পর্কে কোনও আগ্রহই দেখাচ্ছে না৷ আজ মহাকরণে অনুষ্ঠিত ট্রাইবেল এডভাইজারি কমিটির সভায় এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ উল্লেখ্য, ট্রাইবেল এডভাইজারি কমিটির চেয়ারম্যান হলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তাঁর পৌরোহিত্যেই এই সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক রেগাকে ক্রমশ সঙ্কুচিত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কি উদ্দেশ্যে রেগার অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে দিচ্ছে তা মানুষকে বুঝিয়ে বলতে হবে৷ একই সঙ্গে অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রের উপর চাপ বজায় রাখতে হবে৷ তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ সালে ত্রিপুরায় রেগার ৮০ শ্রমদিবসের কাজ হয়েছে৷ এরপরও বর্তমান অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৭-১৮ সালে রেগার শ্রমদিবস কমিয়ে মাত্র ৪২ দিন ধার্য করা হয়েছে৷ তিনি জানান, গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই গত অর্থবছরে রাজ্যে রেগার কর্মসূচি রূপায়ণের জন্য রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন দফতরের কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল৷ গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল তারা এই টাকা রাজ্য সরকারকে মিটিয়ে দেবে৷ কিন্তু আজ পর্যন্ত তা মিটিয়ে দেয়নি৷ বর্তমান অর্থবছর সেপ্ঢেম্বর পর্যন্ত ৪২ শ্রমদিবসের জন্য ম্যাটেরিয়াল কম্পোনেন্ট বাবদ কেন্দ্রীয় সরকার এখনও কোনও টাকাই দেয়নি৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একমাস আগে মুখ্যসচিব দিল্লিতে গিয়ে রেগার শ্রমদিবসের পরিমাণ বাড়াবার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে৷ সভায় উপজাতি কল্যাণ দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয় কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক রাজ্য সরকারের বিশেষ অনুরোধে টংঘরে বসবাসরত ৪৫৪৬টি আদিম জনগোষ্ঠীর পরিবারকে পাকা বাসগৃহ এই বিশেষ প্রকল্পে বাসগৃহ তৈরি করে দেওয়া হবে৷ বাকি ৭৭৩ টি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (গ্রামীণ) র ঘর তৈরি করে দেবার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ এছাড়াও ৬৪২০ টি জুমিয়া পরিবারকে পুনর্র্বসনের লক্ষে সুসংহত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী অঘোর দেববর্র্ম, মমৎস দফতরের মন্ত্রী খগেন্দ্র জমাতিয়া, গ্রামোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী নরেশ জমাতিয়া, স্বশাসিত জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যনির্র্বহী সদস্য রাধাচরণ দেববর্র্ম, মুখ্যসচিব সঞ্জীব রঞ্জন, বিধায় বিরঞ্জন দেববর্র্ম, পদ্মকুমার দেববর্র্ম, প্রণব দেববর্র্ম, রাজেন্দ্র রিয়াং, কেশব দেববর্র্ম, যশবীর ত্রিপুরা, রমেন্দ্র নারায়ণ দেববর্র্ম ও ললিত দেববর্র্ম, প্রধান সচিব ও সচিবগণ এবং বিভিন্ন দফতরের পদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন৷
2017-10-10

