অবৈধ সামগ্রী বিক্রির রাশ টানতে নয়া নির্দেশিকায় চোরাকারবারীদের মাথায় হাত, অবরোধ আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা তারাপুর সীমান্ত হাটে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কমলাসাগর, ১৬ এপ্রিল৷৷ রবিবার সকাল নয়টা থেকে কমলাসাগর তারাপুর সিমান্ত হাটের কিছু ব্যবসায়ীর

তারাপুর সীমান্ত হাটের ব্যবসায়ীদের একাংশের পথ অবরোধ রবিবার৷ ছবি নিজস্ব৷

মাথায় হাত৷ ফলে রাস্তা অবরোধে নামল৷ ঘটনা সূত্রে জানা যায় দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত হাটে চলছিল রমরমা অবৈধ ব্যবসা৷ গাঁজা থেকে শুরু করে সমস্ত নেশাজাতীয় সামগ্রী পাচার করা হত৷ এলাকাবাসীরা বিষয়টি নিয়ে অনেক বার প্রশাসনের দৃষ্টিতে নিয়ে যান৷ বিষয়গুলি নিয়ে অনেক বার সংবাদ প্রকাশ করা হয়৷ পরে সিপাহীজলা জেলার এডিএম মানিক লাল দাস ও বিশালগড় মহকুমার শাসক নান্টু রঞ্জন দাসের গোচরে আসে বিষয়টি৷ তখন বিষয়টি নিয়ে দুদেশের আলোচনার মাধ্যমে হাটের ব্যবসায়ীদের নিয়ে আলোচনা ক্রমে কিছু নিয়মনীতি বেধে দেওয়া হয়৷
কিন্তু এই নিয়ম নীতিগুলি কিছু অবৈধ ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়ে৷ কারন এই সিমান্ত হাট দিয়ে তাদের বাংলাদেশের সাথে চলত অবৈধ ব্যবসা৷ এই নতুন নিয়ম গুলি মেনে চলতে তাদের সমস্যা সৃষ্টি হয়৷ যদিও আগে সব ব্যবসায়ীদের পণ্য সামগ্রীগুলি হাটের মধ্যে গাড়ি দিয়ে নিয়ে যাওয়া হত৷ ফলে কিছু অবৈধ ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় সুবিধা হত৷ কিন্তু নতুন নিয়মাবলী মেনে চলতে পারছে না, কারন এই রবিবার থেকে সমস্ত ব্যবসায়ীদের পণ্য সামগ্রীগুলি সীমান্ত হাটে গাড়ি দিয়ে নেওয়া যাবেনা৷ সীমান্ত হাটের গেইটের সামনে থেকে শ্রমিক নিয়োগ করে মাল পত্রগুলি নিতে হবে৷ নির্দিষ্ট টাকার পরিমান মত পণ্য সামগ্রী হাটে নেওয়া যাবে৷ এর ফলে অবৈধ মাল বিক্রেতাদের ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে৷ তাই আজ রবিবার হাটবারে বারটায় রাস্তা অবরোধ করল অবৈধ ব্যবসায়ীরা৷ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কাষ্টম অফিসার ও মধুপুর থানার পুলিশ৷ পরে ঘটনাস্থলে এলাকায় বিধায়ক নারায়ণ চৌধুরী এসে তাদের সাথে আলোচনা ক্রমে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়৷ অবরোধের ফলে কমলাসাগরের দর্শনার্থীদের ও এলাকার মানুষের ভীষণ দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে৷
প্রসঙ্গত, শুরু থেকেই এই সীমান্ত হাট নিয়ে নানা ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে৷ একসময় এই হাটে লোক প্রবেশের সংখ্যা নিয়ে দাবী আপত্তি জোরালো হয়েছিল৷ আবার ক্রেতা হিসেবে পদস্থ আধিকারীকরা তাদের নিকটাত্মীয়দের প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া নিয়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল৷