নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ এপ্রিল৷৷ অনুমানের উপর নির্ভর করে সরকার চালাচ্ছে বামফ্রন্ট৷ রেশন দোকান মারফত চিনি সরবরাহ আগামী মে মাস থেকে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে সিদ্ধান্তে রাজ্য সরকারকে বিঁধলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি বিপ্লব কুমার দেব৷ বৃহস্পতিবার দলীয় অফিসে সাংবাদিক সম্মেলনে শ্রীদেবের বক্তব্য, অনুমান নির্ভর কিছু বিষয়কে সামনে রেখে সরকারের এই ধরনের সিদ্ধান্ত বামফ্রন্টের ব্যর্থতা বলেই মনে হচ্ছে৷
এদিন তিনি বলেন, এরাজ্যে একের পর এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে চলেছে৷ রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য তথা অর্থ ও খাদ্য মন্ত্রী ভানুলাল সাহা বলছেন তিনি অনুমান করছেন কেন্দ্রীয় সরকার চিনির উপর ভর্তুকী তুলে দেবে৷ আর এই অনুমানের উপর নির্ভর করেই মে মাস থেকে রেশন দোকান মারফত চিনি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলেও অর্থ ও খাদ্য মন্ত্রী ভানুলাল সাহা ঘোষণা দিয়েছেন৷ বিপ্লববাবুর বক্তব্য, এ রাজ্যের ৯০ শতাংশের বেশী অর্থ কেন্দ্রের কাছ থেকে আসে৷ তাহলে, কেন্দ্র দেবে না এই অনুমান করে রাজ্য বাজেটও না করা উচিত রাজ্য সরকারের, কটাক্ষ বিপ্লববাবুর৷ তাঁর দাবি, কেন্দ্র চিনিতে ভর্তুকী না দিলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক বামফ্রন্ট সরকারকেই ভর্তুকী মূলে রেশন দোকানে চিনি সরবরাহ করতে হবে গ্রাহকদের জন্য৷ তিনি বলেন, ২০১৩ সালে নির্বাচনের আগে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল সিপিএম তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে ঘোষণা দিয়েছিল চাল, চিনি, লবন, ডাল ও কেরোসিন এই পাঁচটি নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রেশন দোকান মারফত ভর্তুকী মূলে সরবরাহ করবে৷ কিন্তু, এখন তারা প্রতিশ্রুতির খেলাপ করছে৷ বিপ্লববাবু বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার চিনিতে ভর্তুকী তুলে দেওয়ার কোন ঘোষণা দেয়নি৷ তবে, যদি কেন্দ্র চিনিতে ভর্তুকী তুলে দেয় তাহলে রাজ্য সরকারকে এর দায়িত্ব নিতে হবে৷ কারণ, কেন্দ্রীয় সরকার শুধু ত্রিপুরার জন্য সিদ্ধান্ত নেবে না৷ চিনিতে ভর্তুকী তুলে দেওয়া হলে গোটা দেশেই তা লাগু হবে৷ ফলে তার প্রভাব এরাজ্যেও পড়বে৷
এদিন তিনি, আরও অভিযোগ করেছেন রেশন দোকান মারফত সরবরাহ করা চালের উপরও কমিশন বাণিজ্য চলছে৷ কারণ, কেন্দ্রীয় সরকার যে পরিমাণ ভর্তুকী দিচ্ছে তার চেয়ে কম দরে বাজারে চাল পাওয়া যাচ্ছে৷
2017-04-14

