আগরতলা, ৪ সেপ্টেম্বর: রাজ্যের বেকারত্ব, নেশার বিস্তার এবং সরকারি দপ্তরগুলিতে শূন্যপদ পূরণের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল বাঙালি ছাত্র-যুব সমাজ। শুক্রবার শিবনগরস্থিত সংগঠনের রাজ্য কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বাঙালি ছাত্র-যুব সমাজের সচিব বিপ্লব দাস। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্যের ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের পাশাপাশি নেশার বিস্তার নিয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করা হয়। সংগঠনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বহু যুবক-যুবতী বিএড ও ডিএলএড ডিগ্রি অর্জন করে টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তাঁদের নিয়োগ করা হচ্ছে না। বারবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো সত্ত্বেও টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা চলছে বলে দাবি করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, নির্বাচনের আগে বছরে ৫০ হাজার চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বর্তমান সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনকালে সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ পড়ে রয়েছে বলেও দাবি করে সংগঠনটি। এর ফলে অনেক বেকার যুবক-যুবতী বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পার করে ফেলছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
শিক্ষাক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়েও এদিন সরব হয় বাঙালি ছাত্র-যুব সমাজ। সংগঠনের অভিযোগ, শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীর অভাবে বহু বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনে নামতে হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
পাশাপাশি রাজ্যে নেশাসামগ্রীর বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংগঠনের অভিযোগ, সরকার ত্রিপুরাকে নেশামুক্ত রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার কথা বললেও বর্তমানে নেশাসামগ্রীর পাচার ও বিক্রির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিপুল পরিমাণ নেশাসামগ্রী উদ্ধার হলেও নেশা কারবারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয়।
এদিন আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে যানবাহন চলাচল, নেশাসামগ্রীর বিক্রি, রেগার কাজ এবং শহরের রাস্তাঘাট সংস্কার নিয়েও একাধিক দাবি জানানো হয়।
বাঙালি ছাত্র-যুব সমাজের সাত দফা দাবি হলো—
অবিলম্বে সমস্ত টেট উত্তীর্ণ বেকারদের নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে পাস দেওয়ার বিষয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নেশা কারবারীদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
দুর্গাপূজা থেকে কালীপূজা পর্যন্ত প্রকাশ্যে মদসহ সমস্ত নেশাসামগ্রীর বিপণন ও বিক্রি বন্ধ করতে হবে। পূজার আগে অধিক সংখ্যায় রেগার কাজের ব্যবস্থা করতে হবে।পূজার আগে শহরের রাস্তাঘাট দ্রুত মেরামত করতে হবে।রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তরে শূন্যপদ পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়োগনীতি গ্রহণ করতে হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দাবিগুলি দ্রুত পূরণ করা না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।



















