কুমারঘাট, ৪ অক্টোবর: উত্তর জেলার সদর ধর্মনগরে এখনও পর্যন্ত একটি উপযুক্ত খেলার মাঠ গড়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ। পুরনো বিবিআই ও ডিএনবি মাঠই বর্তমানে ক্রীড়াপ্রেমীদের অন্যতম ভরসা। একইভাবে কুমারঘাটেও পর্যাপ্ত ক্রীড়া পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এর মধ্যেই রাজ্যে আরও নয়টি সিনথেটিক খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেই তালিকায় ধর্মনগর বা কুমারঘাটের নাম না থাকায় প্রশ্ন উঠছে।
কুমারঘাটের ক্রীড়া পরিকাঠামোর বেহাল চিত্র ইতিমধ্যেই বিধানসভায় তুলে ধরেছেন পাবিয়াছড়া বিধানসভার বিধায়ক তথা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ভগবান চন্দ্র দাস। কুমারঘাটে একটি উপযুক্ত খেলার মাঠ তৈরির দাবিও তিনি বিধানসভায় উত্থাপন করেছিলেন।
পাবিয়াছড়া বিধানসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র কুমারঘাট। ঊনকোটি, ধলাই ও উত্তর জেলার মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে পরিচিত এই এলাকাটি যোগাযোগের দিক থেকেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কুমারঘাট পুর পরিষদ এলাকায় পূর্ত দপ্তরের একটি খালি জায়গা রয়েছে। আয়তনে তুলনামূলক ছোট হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেটি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন স্থানীয়রা।
এই জায়গাকে কেন্দ্র করে একসময় মিনি ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, গত প্রায় ১০ বছরে সেই প্রকল্পের কাজ কার্যত এগোয়নি। ফলে কুমারঘাটের ক্রীড়াপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস বিধানসভায় বিষয়টি তুলে ধরলেও বাস্তবে কতটা অগ্রগতি হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অন্যদিকে, কুমারঘাট থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে ফটিকরায় বিধানসভা এলাকায় খেলার মাঠ সংস্কারের কাজ নিয়েও নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। ফটিকরায় দ্বাদশ শ্রেণির বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কারের জন্য তিনটি পর্যায়ে মোট ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার কাজ চলছে বলেও জানা গেছে।
তবে ওই কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, গত বছর নির্মিত একটি পাকা গ্যালারির প্লাস্টার এক বছর না যেতেই খসে পড়তে শুরু করেছে। মাঠ সংস্কারের কাজে অনিয়ম এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়াও কাজের বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বজনপোষণ ও কমিশন লেনদেনের অভিযোগও করেছেন বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এর জেরেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এমনকি ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা কর্তৃপক্ষের কোনও বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
একদিকে ধর্মনগর ও কুমারঘাটে উপযুক্ত ক্রীড়া পরিকাঠামোর অভাব, অন্যদিকে ফটিকরায়ে মাঠ সংস্কারের কাজ নিয়ে অভিযোগ—এই দুই পরিস্থিতি নিয়ে উত্তর জেলার ক্রীড়াপ্রেমী মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে সব এলাকাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠছে।



















