আগরতলা, ২ অক্টোবর: দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে নিষ্ঠা, দক্ষতা ও শিল্পসত্তাকে সঙ্গী করে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে আসছেন উত্তর চেবরীর প্রবীণ মৃৎশিল্পী নির্মল রুদ্র পাল। বছরের পর বছর ধরে নিজের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় দুর্গোৎসবকে পূর্ণতা দিয়ে আসছেন তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে প্রতিমার মূল্য না বাড়ায় আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিমা তৈরির খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন এই শিল্পী।
জানা যায়, অন্যান্য বছর দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নির্মল রুদ্র পাল ১৪ থেকে ১৫টি প্রতিমা তৈরির বরাত পেতেন। কিন্তু চলতি বছরে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯টিতে। ফলে একদিকে যেমন কমেছে কাজের পরিমাণ, অন্যদিকে প্রতিমা তৈরির ক্রমবর্ধমান খরচ তাঁর আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রতিমা তৈরির জন্য মাটি, খড়, বাঁশ, রং-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে প্রতিনিয়ত বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি রয়েছে প্রতিমা তৈরিতে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম। কিন্তু উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি ও শ্রমের তুলনায় প্রতিমার যথাযথ দাম না পাওয়ায় লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে আক্ষেপ এই মৃৎশিল্পীর।
দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির শিল্পকে জীবিকা হিসেবে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন নির্মল রুদ্র পাল। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম ও আবেগ। অথচ বর্তমানে প্রতিমা তৈরির বরাত কমে যাওয়া এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিজের পেশার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত তিনি।
দুর্গাপূজার জাঁকজমক ও উৎসবের আনন্দের নেপথ্যে মৃৎশিল্পীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের নিপুণ হাতেই মাটির কাঠামো ধীরে ধীরে রূপ পায় দেবী দুর্গার প্রতিমায়। কিন্তু উৎসবের উজ্জ্বলতার আড়ালে শিল্পীদের আর্থিক অনিশ্চয়তা অনেক সময়ই আড়ালে থেকে যায়।
নির্মল রুদ্র পালের অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। দীর্ঘ ৪৪ বছরের শিল্পসাধনার পরেও যদি প্রতিমা তৈরির খরচ তুলতে সমস্যায় পড়তে হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। এই শিল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মৃৎশিল্পীদের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাঁদের আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।



















