মুম্বই, ২ অক্টোবর : ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ দেখাল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। গান্ধী জয়ন্তীর দিন আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
মুম্বই পুলিশ শিবাজি পার্কে সভার অনুমতি না দিলেও সিজেপি-র তরফে কর্মসূচি পালন করা হয়। সংগঠনটি এই আন্দোলনকে ‘জেল ভরো আন্দোলন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সিজেপি জানিয়েছে, মুম্বইয়ের পর দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি হবে এবং শেষ পর্যন্ত দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন নিয়ে যাওয়া হবে।
সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সভায় বক্তব্য রাখেন। তিনি ফের জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানান। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা বহাল রাখা, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণের দাবি জানায় সংগঠনটি।
ভোটার তালিকা এবং স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই এই বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক যোশী ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্তি, তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং পরে তা পুনর্বহাল করার মতো বিষয়ও ওই আপত্তির মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশন এই ধরনের আপত্তি ও অভ্যন্তরীণ নোটকে স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর-সহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিন সদস্যের কমিশন যৌথভাবেই নিয়েছে এবং সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ছিল।
এ দিনের বিক্ষোভে কয়েক জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি ও সমর্থনের কথাও জানা গিয়েছে। অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি এবং গায়ক-সুরকার বিশাল দাদলানি-সহ কয়েক জনের উপস্থিতি বা সমর্থনের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) এবং মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনাও আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে।
জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত পোস্টার হাতে বিক্ষোভকারীরা শিবাজি পার্কে জড়ো হন। নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগানও ওঠে। পুলিশের তরফে শিবাজি পার্ক এবং দাদর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। বিভিন্ন প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসানো হয়।
এর আগে শিবাজি পার্কে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি মুম্বই পুলিশ। মাঠ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ, যান চলাচল ও জনসাধারণের যাতায়াতে সম্ভাব্য সমস্যা এবং সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় অসুবিধার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিল পুলিশের তরফে। তা সত্ত্বেও সিজেপি তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যায়।
অন্যদিকে, ‘জেন নেক্সট মুম্বই’ নামে একটি সংগঠন সিজেপি-র বিক্ষোভের বিরোধিতা করে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে বলে জানা গিয়েছে।
অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, মুম্বইয়ের কর্মসূচি বৃহত্তর আন্দোলনের সূচনা। পরবর্তী পর্যায়ে গোয়া, বেঙ্গালুরু, কলকাতা এবং রাঁচি-সহ বিভিন্ন শহরে কর্মসূচি পালন করা হবে। শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে আন্দোলন নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
ভোটার তালিকা সংশোধন এবং এসআইআর নিয়ে নিজেদের আপত্তিকে কেন্দ্র করেই সিজেপি এই আন্দোলন শুরু করেছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি কোনও একক ব্যক্তির মাধ্যমে নেওয়া হয়নি এবং তিন সদস্যের কমিশন সম্মিলিতভাবেই তা গ্রহণ করেছে।
মুম্বইয়ের এই বিক্ষোভের ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক ফের সামনে এসেছে।


















