আগরতলা, ২৬ সেপ্টেম্বর: দীর্ঘদিন পর ফের আগরতলায় ফিরলেন ত্রিপুরার ভূমিপুত্র তথা অভিজ্ঞ বিমান পরিষেবা আধিকারিক শেখর দেববর্মা। মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরের নতুন বিমানবন্দর অধিকর্তা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন তিনি। নিজের শহর ও রাজ্যে ফিরে আসাকে আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও রাজ্যের মানুষের স্বার্থে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিমানবন্দরে এক সাক্ষাৎকারে শেখর দেববর্মা বলেন, আগরতলার সঙ্গে তাঁর গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। ত্রিপুরায় জন্ম ও বেড়ে ওঠার কারণে নিজেকে তিনি এই মাটির সন্তান হিসেবে মনে করেন। ফলে নিজের রাজ্যের বিমানবন্দরের দায়িত্ব গ্রহণ তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
নিজের কর্মজীবনের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ১৯৯৫ সালে কলকাতায় এটিসি ম্যানেজার হিসেবে বিমান পরিষেবা ক্ষেত্রে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে আগরতলা ও গুয়াহাটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এর আগে ২০০৪ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরের বিমানবন্দর অধিকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন শেখর দেববর্মা।
পরবর্তীতে জেনারেল ম্যানেজার পদে উন্নীত হয়ে দিল্লি ও কলকাতা বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর আহমেদাবাদ বিমানবন্দরেও কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আগরতলা ছাড়ার প্রায় দুই বছর পর, ২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ফের ত্রিপুরায় ফিরে আসেন তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর শেখর দেববর্মা বলেন, ত্রিপুরার মাটিতে জন্ম ও বেড়ে ওঠার কারণে নতুন দায়িত্ব তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিমানবন্দরের পরিষেবা ও পরিকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্যের মানুষের স্বার্থে কাজ করার বিষয়ে তিনি আগ্রহী।
এদিন বিমানবন্দরে স্থানীয় পণ্য ও স্থানীয় ভাষার প্রচারের উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ভোকাল ফর লোকাল’ ভাবনার কথা উল্লেখ করে শেখর দেববর্মা বলেন, আগরতলা বিমানবন্দরে ত্রিপুরার স্থানীয় পণ্য এবং স্থানীয় ভাষাকে যথাসম্ভব তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাজ্যের স্বার্থেই স্থানীয় পণ্য ও ভাষার প্রসারে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
দীর্ঘ সময় আগরতলা বিমানবন্দরের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে শেখর দেববর্মার। ফলে তাঁর প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিমানবন্দর মহল এবং ত্রিপুরার মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নতুন দায়িত্বে তাঁর অভিজ্ঞতা ও আগরতলার সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয় বিমানবন্দরের পরিচালনা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।



















