আগরতলা, ১২ সেপ্টেম্বর : রাজ্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগে স্পাইনাল মাস্কুলার এট্রোফি টাইপ-১ জেনেটিক রোগে আক্রান্ত শিশু মনশ্রী চৌধুরীকে ইতিমধ্যেই ডিব্ৰুগড়স্থিত আসাম মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে রিসডিপ্লাম ওষুধের ১২টি ভায়াল দেওয়া হয়েছে। রেয়ার ডিজিজ প্রোগ্রামের আওতায় এই হাসপাতাল থেকে মনশ্রীকে ইতিমধ্যেই প্রায় ২ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা মূল্যের ইঞ্জেকশন বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে এই সংবাদ জানিয়ে আরও বলা হয়েছে, মনশ্রী চৌধুরীর বাবা ধ্রুব চৌধুরী গত জুন মাসে মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মনশ্রীর চিকিৎসার বিষয়ে সহায়তার আবেদন জানান। এই আবেদনের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীকে জানান যে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক ন্যাশনাল পলিসি ফর রেয়ার ডিজিজ ২০২১ বাস্তবায়ন করছে। এই নীতিতে চিহ্নিত বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত সেন্টারস অব এক্সিলেন্সে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকার সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। এটাও উল্লেখ করা হয় যে, ইম্ফলস্থিত রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস, ডিব্রুগড়স্থিত আসাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল এবং কলকাতাস্থিত ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ হলো সেন্টারস অব এক্সিলেন্স। পরবর্তীতে শিশুটির বাবা মা আসাম মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে শিশুটিকে নিয়ে যান। এবং সেখানে তাকে গত ২১ আগস্ট রিসডিপ্লাম ওষুধের ১২টি ভায়াল দেওয়া হয়।
এছাড়া টাটা ট্রাস্ট থেকে অতিরিক্ত সহায়তা পাওয়ার সুবিধার্থে আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও জিবিপি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট ২৭ জুলাই, ২০২৬ তারিখে একটি শংসাপত্র প্রদান করেন। যার ভিত্তিতে টাটা ট্রাস্ট শিশুটির চিকিৎসার জন্য ২০ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করেছে। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে এও জানানো হয়েছে, মনশ্রীর বাবা মা এবছর জুলাই মাসে তাকে নয়াদিল্লিস্থিত এইমসে নিয়ে যান এবং সেখানেও তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মনশ্রী চৌধুরীর বাবা মায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং শিশুটিকে সর্বোত্তম সম্ভাব্য সব ধরনের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



















