আগরতলা, ১২ সেপ্টেম্বর: গুরুতর পরিস্থিতির মধ্যেই অ্যাম্বুলেন্সে প্রসব করিয়ে সাফল্য পেলেন এক স্বাস্থ্যকর্মী। কুমারঘাট থেকে কৈলাসহরের ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরের পথে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই সন্তানের জন্ম দেন এক মহিলা। স্বাস্থ্যকর্মী প্রসেনজিৎ শুক্ল বৈদ্যের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও তৎপরতায় মা ও নবজাতক দুজনকেই নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
জানা গেছে, ওই মহিলা কুমারঘাট মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে গর্ভস্থ শিশুর অবস্থান উল্টো অর্থাৎ ব্রিচ প্রেজেন্টেশন দেখতে পান। পাশাপাশি মহিলার তীব্র প্রসব যন্ত্রণা শুরু হওয়ায় তাঁকে দ্রুত ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়।
প্রায় সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিট নাগাদ অ্যাম্বুলেন্স চালক বিকাশ মালাকার এবং স্বাস্থ্যকর্মী প্রসেনজিৎ শুক্ল বৈদ্য তাঁকে নিয়ে কৈলাশহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু শান্তিপুর এলাকায় একটি স্কুলের কাছে পৌঁছানোর পর হঠাৎ ওই মহিলার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি সক্রিয় প্রসবযন্ত্রণায় চলে যান।
হাসপাতালে পৌঁছাতে তখনও বেশ কিছুটা সময় লাগবে বুঝতে পেরে পরিস্থিতি দ্রুত পর্যালোচনা করেন স্বাস্থ্যকর্মী প্রসেনজিৎ শুক্ল বৈদ্য। অপেক্ষা করে হাসপাতালে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে মা ও নবজাতক উভয়েরই গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তিনি বুঝতে পারেন। এরপরই অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই জরুরি প্রসব করানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ব্রিচ প্রেজেন্টেশনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁর অভিজ্ঞতা, উপস্থিত বুদ্ধি এবং সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে নিরাপদে প্রসব সম্পন্ন হয়। অ্যাম্বুলেন্সেই জন্ম নেয় নবজাতক।
প্রসবের পর কোনও বিলম্ব না করে অ্যাম্বুলেন্সটি দ্রুত ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের দিকে রওনা দেয়। সেখানে মা ও নবজাতককে ভর্তি করে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা হয়।
চিকিৎসাকর্মীরা জানান, সময়মতো জরুরি প্রসব করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার সম্ভাবনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই স্থিতিশীল এবং সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গেছে।



















