কোহিমা, ৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): নাগাল্যান্ড বর্তমানে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল রাজ্যে পরিণত হয়েছে এবং দেশের অন্যান্য অংশের পাশাপাশি বিশ্বের সঙ্গেও ক্রমশ আরও বেশি সংযুক্ত হচ্ছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও। শুক্রবার রাজ্য বিধানসভার চলতি অধিবেশনে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রিও বলেন, কয়েক দশক আগের নাগাল্যান্ডের সঙ্গে বর্তমান রাজ্যের বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। শান্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তাঁর দাবি, ১৯৬৩ সালে রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর গত পাঁচ বছরে নাগাল্যান্ডের নিরাপত্তা পরিস্থিতি রাজ্যের ইতিহাসে অন্যতম শান্তিপূর্ণ সময়ের সাক্ষ্য দিচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে আন্ডারগ্রাউন্ড সংগঠনগুলির কার্যকলাপ সংক্রান্ত ২৫৭টিরও বেশি ঘটনা ঘটেছিল। আন্তঃগোষ্ঠী সংঘর্ষসহ বিভিন্ন ঘটনায় আন্ডারগ্রাউন্ড সংগঠনের সদস্য ও সাধারণ নাগরিক মিলিয়ে ১২০ জনেরও বেশি প্রাণ হারান। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর ছয়জন সদস্যও নিহত হন।
এর বিপরীতে, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে সশস্ত্র গোষ্ঠী সংক্রান্ত ঘটনা কমে মাত্র আটটিতে দাঁড়িয়েছে বলে জানান রিও। এই ঘটনাগুলিতে আন্ডারগ্রাউন্ড গোষ্ঠীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিক মিলিয়ে চারজন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
রিও বলেন, তুলনামূলক পরিসংখ্যানই পরিস্থিতির পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ। দীর্ঘদিনের হিংসা ও হত্যার অন্ধকার থেকে শান্তি ও উন্নতির পথে নাগাল্যান্ডের এই যাত্রা সহজ ছিল না। বহু বছরের প্রচেষ্টা ও কঠিন পথ পেরিয়ে রাজ্যে বর্তমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালে নাগাল্যান্ডে প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যায় স্বীকৃতিযোগ্য অপরাধের হার ছিল ৬১.৬। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, দাদরা ও নগর হাভেলির পর রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে এটিই ছিল দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অপরাধের হার। একই সময়ে সারা ভারতে এই হার ছিল ৪১৮.৮।
নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রেও নাগাল্যান্ডের পরিস্থিতি দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভালো বলে দাবি করেন রিও। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যায় নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের হার ৫.১, যেখানে জাতীয় গড় ৬৪.৬।
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, শান্তিপূর্ণ ও অনুকূল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাগাল্যান্ডের উন্নয়ন এবং দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
আইএএনএস।



















